জাতীয়

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে

নিউজ ডেস্ক১৩ মে ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ব্যয় প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। পেন্টাগন মঙ্গলবার (১২ মে) এই তথ্য প্রকাশ করে।

এর ফলে যুদ্ধ ও সামরিক প্রস্তুতির খরচ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ আরো বেড়েছে।
ক্যাপিটল হিলে বাজেট শুনানিতে জানানো হয়, দুই সপ্তাহ আগে এই খরচের অনুমান ছিল ২৫ বিলিয়ন ডলার, যা এখন বেড়ে প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। পেন্টাগনের অর্থ প্রধান জুলস হার্স্ট জানান, যুদ্ধের ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে অস্ত্র মেরামত, প্রতিস্থাপন এবং সামরিক পরিচালনার অতিরিক্ত খরচ। তবে কংগ্রেসে এই ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব কবে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।

ডেমোক্র্যাট ও সমালোচকরা পেন্টাগনের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, প্রকৃত খরচ আরও বেশি হতে পারে এবং ইরানের হামলায় যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুরোপুরি হিসাবের মধ্যে আনা হয়নি। এই শুনানির সময় ডেমোক্র্যাট নেতা রোজা ডেলাউরো প্রশ্ন তোলেন, এই যুদ্ধ থেকে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র কী অর্জন করেছে এবং এর প্রকৃত মূল্য কত?

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে এবং নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাত ও অস্ত্র ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্যাপিটল হিলে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধনীতি নিয়ে ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করছে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই যুদ্ধ পরিচালনা করা হয়েছে। তবে রিপাবলিকানরা এসব পদক্ষেপে সমর্থন দিয়ে তা আটকে দিয়েছে।

ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক কেলি সতর্ক করে বলেছেন, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র, প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরসহ গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুদ দ্রুত কমে যাচ্ছে এবং তা পুনরায় পূরণ করতে কয়েক বছর লাগতে পারে। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই উদ্বেগকে অতিরঞ্জিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

কংগ্রেসে শুনানিতে যুদ্ধের খরচ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ডেমোক্র্যাটদের দাবি, সরকার প্রকৃত ব্যয়ের হিসাব কম দেখাচ্ছে এবং যুদ্ধের ফলে সামরিক ঘাঁটিগুলোর বড় ক্ষতি হয়েছে, যেখানে অন্তত ২২৮টি স্থাপনায় হামলার কথা বলা হচ্ছে।

অন্যদিকে, প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, পুরো যুদ্ধের আসল খরচ কয়েক হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে, কিন্তু সঠিক হিসাব এখনো পরিষ্কার নয়। তারা মনে করেন, পেন্টাগন যদি বিস্তারিত ব্যয় প্রকাশ না করে, তাহলে প্রকৃত খরচ বোঝা কঠিন হবে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী অবশ্য ক্ষতির কোনো পূর্ণাঙ্গ হিসাব দেননি। তবে তিনি যুক্তি দিয়েছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে আটকানো না গেলে ভবিষ্যতে আরো বড় বিপদ হতে পারে। এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, আগের মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘ধ্বংস’ হয়ে গেছে। তবে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরানের পূর্ণ সক্ষমতা অর্জনে এখনও প্রায় এক দশক সময় লাগতে পারে।