জাতীয়

আতঙ্ক কাটছে না চরাঞ্চলের মানুষের

নিউজ ডেস্ক১১ মে ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

ভাঙনের হাত থেকে বসতভিটা রক্ষায় সরকারি সহায়তার অপেক্ষা করেনি রংপুরের গঙ্গাচড়ার চরাঞ্চলের মানুষ। স্বেচ্ছাশ্রম আর চাঁদার টাকায় বাঁধ নির্মাণ করে ফেলেছিলেন তারা। তবে বর্ষা আসার আগেই সেই বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ফের আতঙ্কে দিন কাটছে পাঁচ গ্রামের অন্তত ১২ হাজার পরিবারের।

স্থানীয় সূত্র জানায়, তিন বছর আগে বন্যায় নদীর গতিপথ পরিবর্তন হলে তিস্তার পানি লোকালয়ে ঢোকে। ওই সময় বাগডোহরা চরের নিচাপাড়া এলাকার তিন শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী দফায় দফায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের দ্বারস্থ হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় কয়েকটি চরগ্রামের মানুষ চাঁদা তুলে চর নোহালী ও বাগডোহরা এলাকায় নিজেরাই শ্রম দিয়ে বাঁধ দুটি নির্মাণ করেন।

চরের বাসিন্দারা জানান, তিস্তার ভাঙন তাদের জীবনে এক আতঙ্কের নাম। প্রতিবছর নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, আবাদি জমি ও জীবিকার শেষ সম্বল। তারা জানান, স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মাণ করা দুটি বাঁধ ছিল চরবাসীর একমাত্র ভরসা। তবে সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিতে বাঁধের বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

এতে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পুরো এলাকা নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
সূত্র জানায়, পাশের লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার বৈরাতি থেকে বাগডোহরা মিনার বাজার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বাঁধটি রক্ষায় সহায়ক হিসেবে উজানে চর নোহালী এলাকায় ব্রিফ বাজার থেকে কাচারিপাড়া পর্যন্ত আরো দুই কিলোমিটার দীর্ঘ আরেকটি বাঁধ নির্মাণ করা হয়।

বাসিন্দারা জানান, গত বছরের বন্যা ও ভাঙনে বাগডোহরা এলাকায় দুই শতাধিক একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়। তবে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মাণ করা বাঁধ দুটির কারণে ঘরবাড়ি রক্ষা পেয়েছিল।

কিন্তু চলতি বছর বন্যার আগেই বাঁধের বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এখনই ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সামনের বন্যায় গঙ্গাচড়ার নোহালী ইউনিয়নের চর নোহালী, বাগডোহরা এবং ভাটিতে কোলকোন্দ ইউনিয়নের চিলাখাল, মটুকপুর ও বিনবিনা এলাকার অন্তত ১২ হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি ও বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার জন্ম বাগডোহরা এলাকায়। তিস্তার করাল গ্রাসে এ পর্যন্ত ৯ বার বাড়ি ভেঙেছে। বর্তমানে চর বাগডোহরায় থাকি। কিন্তু থাকা না থাকা এখন নির্ভর করছে এই বাঁধ রক্ষার ওপর।

ওই এলাকার বাসিন্দা ও নোহালী ইউনিয়নের ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মশিয়ার রহমান বলেন, এই বাঁধ রক্ষা করতে না পারলে বাগডোহরা চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ভাটির বিস্তীর্ণ এলাকা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে সহযোগিতা চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত আবেদন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে গত বছর মার্চ-এপ্রিল মাসে উজানে ব্রিফ বাজার থেকে কাচারিপাড়া পর্যন্ত স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত দুই কিলোমিটার বাঁধের অন্তত ২০০ ফুট অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, এই মুহূর্তে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাঁধের বিষয়ে সরাসরি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কিছু করার সুযোগ নেই। তবে তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কিছু জিও ব্যাগ সরবরাহ করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরো দেওয়া হবে।