সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
প্রথম দেখাতে যে কারোই মনে হবে এটি একটি ভাসমান জাহাজ। গত দুই দিনের বৃষ্টিতে বিদ্যালয়ের বিস্তীর্ণ মাঠ ও আশপাশ ডুবে পরিণত হয়েছে জলাশয়ে।গাজীপুরের শ্রীপুরের মাওনা জেএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র এটি। জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে বিদ্যালটির ১ হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীরা। গত মঙ্গলবার রাত থেকে দফায় দফায় বৃষ্টি হয়। এতে পুরো মাঠে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় আড়াই ফুট পানিতে ডুবে আছে চারপাশ। এতে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে শ্রেণিকক্ষে যাতায়াত করছে। আশপাশের পানি এসে পুরো বিদ্যালয়ের মাঠ ও সড়ক ডুবে আছে। কোথাও কোথাও হাঁটু পানির উপর গভীর হয়ে আছে। যার ফলে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, আগে পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকলেও বর্তমানে বিদ্যালয়ের চারপাশে অপরিকল্পিত নগরায়ন হয়েছে। এতে পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। যার কারণে বৃষ্টির পানি বিদ্যালয়ের মাঠে এসে জমে থাকে।
জানা গেছে, মাওনা জেএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক হাজার। শিক্ষক আছেন ১৯ জন। প্রতি বছর বিদ্যালয়টি ফলাফলেও উপজেলায় সুনাম অর্জন করেছে। তবে বিদ্যালয়টির উন্নয়নে গত এক বছরেও কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি।
বিদ্যালয়ে আসা অভিভাবক সাবিনা খাতুন বলেন, আমার ছেলে নাহিয়ান দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। গতকাল থেকে মাঠে অনেক পানি জমে আছে। শিশুদের যাতায়াত অনেক কষ্ট হচ্ছে। এজন্য তাদের একা ছাড়তে ভয় লাগে। সকালে নিয়ে কোলে করে স্কুলে দিয়ে যাই, আবার ছুটির পর এসে নিয়ে যাচ্ছি। একটি বিদ্যালয় যেখানে শিক্ষার আলো ফোটে, সেখানে যদি এমন ভোগান্তি থাকে; তাহলে শিশুদের মেধা বিকাশ হবে কীভাবে।
বিদ্যালয়ের পাশের এক দোকানদার রাসেল মিয়া বলেন, এই বিদ্যালয়ের ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা একটি মাত্র সড়কে যাতায়াত করে। কিন্তু সেই সড়কে হাঁটু পানি। কোথাও কোথাও গর্ত রয়েছে। এতে শিশুরা যেকোনো মুহূর্তে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে।
মাওনা জেএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আয়েশা আক্তার ঢাকা পোস্টকে বলেন, স্কুলে এক হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। গত দুইদিন ধরে তাদের নিয়ে দুশ্চিন্তার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সারাক্ষণ তাদের চোখে চোখে করে রাখছি। সকালে ওরা যখন বিদ্যালয়ে আসে, তখন অনেক ভোগান্তি নিয়ে আসে। অনেকের জামাকাপড় ভিজে যায়, কারো কারো পরিবারের লোকজন তাদের কোলে করে ক্লাসে দিয়ে যায়। এই নোংরা পানিতে শিশুদের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়াও কখন কোন শিশু পানিতে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয় বলা যায় না। বিষয়টি নিয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। একাধিক আবেদন করেছি কিন্তু এখন পর্যন্ত বাস্তবে কোনো প্রতিকার পাইনি। একটি আদর্শ স্কুলের জন্য নিরাপদ পরিবেশ অত্যন্ত জরুরি।
তবে, এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা নাসরিন জানান, শ্রীপুর উপজেলার সবচেয়ে বড় বিদ্যালয় এটি। এই বিদ্যালয়ের যে জলাবদ্ধতা, এটি আগেই আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি আমরা পৌর কর্তৃপক্ষকে অবগত করার পর তারা জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন নির্মাণকাজ শুরু করবেন বলে জানিয়েছে এবং সেটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ড্রেন নির্মাণ করা হলেই জলাবদ্ধতা নিরসন হবে।









