জাতীয়

ট্রাকের সঙ্গে মালবাহী ট্রেনের সংঘর্ষ, তদন্ত কমিটি গঠন

নিউজ ডেস্ক৩০ এপ্রিল ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

গেটকিপার ঘুমন্ত থাকার কারণে পাবনার ঈশ্বরদীতে ইন্টারলকিং রেলগেটের ব্যারিয়ার না ফেলে ইয়ার্ডে ট্রেন শান্টিং করার সময় মালবাহী ট্রেনের সঙ্গে পাথরবোঝাই একটি ট্রাকের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ট্রাকের চালক ও হেলপার আহত হয়েছেন।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দিবাগত রাত সোয়া ২টায় ঈশ্বরদী-খুলনা রেলপথের ঈশ্বরদী রেলগেটে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিতে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর শফিকুর রহমান স্বপনকে আহবায়ক করে, ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (কার্য) আতিকুর রহমান, ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (পথ) উৎপল মণ্ডল, লোকো ইন্সপেক্টর নাজমুল হোসেনকে সদস্য করা হয়েছে। আগামী সাত কার্য-দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার (২৯ এপ্রিল) দিনগত রাতে ঈশ্বরদী শহরের ইন্টারলকিং রেলগেটে গেট ব্যারিয়ার না ফেলে (ট্রেন শান্টিং) রেলওয়ে ইয়ার্ডে লোকোমোটিভের (ইঞ্জিন) সঙ্গে ওয়াগনগুলোকে আলাদা করা হচ্ছিল। এ সময় রাজশাহীর বানেশ্বর-ঈশ্বরদী আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে পাথরবোঝাই ট্রাক ঈশ্বরদী রেলগেট অতিক্রম করার সময় ট্রেনের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষের ওই ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে আসেন। তবে ১২ ঘণ্টা (এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত) পেরিয়ে গেলেও রেললাইন থেকে দুর্ঘটনা কবলিত পাথরবোঝাই ট্রাক সরিয়ে রেললাইন সচল করতে পারেনি রেলওয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ট্রাকচালক হিমেল হোসেন জানান, রাজশাহী সোনা মসজিদ থেকে পাথর বোঝায় ট্রাক নিয়ে আমরা খুলনার নওয়াপাড়া যাচ্ছিলাম। রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে রেলগেট খোলা দেখে ট্রাকটি ধীরগতিতে রেলগেট অতিক্রম করছিল। এ সময় গেটম্যান রেলগেট খোলা রাখায় শান্টিং ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ট্রাকটি রেললাইনের মাঝে ছিটকে পড়ে। পাথরবোঝাই থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছি।

মালবাহী ট্রেনের চালক (এলএম) তোফায়েল আহমেদ সুমন জানান, সুইস কেবিনের কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টার সাবিনা ইয়াসমিনের সিগন্যাল পেয়ে আমি মালবাহী শান্টিং ট্রেন নিয়ে রেলগেট অতিক্রম করছিলাম। তার কয়েক মিনিট আগে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা সীমান্ত এক্সপ্রেস ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে প্রবেশ করে। সীমান্ত এক্সপ্রেস রেলগেট অতিক্রমের পর ঈশ্বরদী ইন্টারলকিং রেলগেটের ব্যারিয়ার (রেলপথে যানবাহন প্রতিরোধক) ফেলে রাখার কথা ছিল; কিন্তু সীমান্ত এক্সপ্রেস অতিক্রম করার পরই স্টেশন মাস্টারের নির্দেশনাকে অমান্য করে রেলগেটটি খুলে দিয়েছে গেটকিপার। এ সময় ট্রেনটি ঢুকে পড়লে ট্রাকের সঙ্গে দুর্ঘটনা ঘটে।

ঈশ্বরদী জংশন স্টেশন কেবিনের দায়িত্বরত স্টেশন মাস্টার (কেবিন) সাবিনা ইয়াসমিন জানান, আমি নির্দেশ দিয়েছি, সীমান্ত পাশ করার পর যেন গেট খোলা রাখা হয়। মালবাহী ট্রেন শান্টিং হবে, তারপর গেট খুলতে হবে। কিন্তু সেই নির্দেশনা না শুনে রেলগেট কেন খুলে দেওয়া হলো আমি জানি না।

ঈশ্বরদী ইন্টারলকিং রেলগেটের দায়িত্বরত গেটকিপার (অস্থায়ী) সোলাইমান হোসেন জানান, আমরা স্টেশন মাস্টারের অনুমতি না পেয়ে ইন্টারলকিং গেট খুলতে বা বন্ধ করতে পারি না। তাছাড়া আমি আপ রেললাইনের ট্রেন পারাপারের দায়িত্বে ছিলাম। সীমান্ত অতিক্রম করলে রেলগেট খুলে দিয়েছি। আমি গেট বন্ধ রাখার কোনো নির্দেশ পায়নি।

পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের পরিবহণ (ডিটিও) হাসিনা খাতুন জানান, দুর্ঘটনার শিকার ট্রাক থেকে পণ্য নামিয়ে অন্য ট্রাকে লোড করে রেললাইনের ওপর থেকে ট্রাকটি সরাতে হবে। ব্যস্ততম রেলগেট এটা, যার কারণে এখন সম্ভব না। মেইন লাইন সচল আছে। আপ লাইনে আসা-যাওয়ার ট্রেনগুলো ডাউন লাইনে চালানো হচ্ছে।