সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
‘পাপ কাহিনী ২’ মুক্তি পেয়েছে অথচ আপনি সিরিজটি নিয়ে কোনো কথা বলছেন না!
এটা নিয়ে অনেকেই জানতে চেয়েছেন। ইচ্ছে করেই বিষয়টা এড়িয়ে গিয়েছি। আসলে সিরিজের গল্পটা দুই নারীকে কেন্দ্র করে। একজন স্ত্রী, আর একজন প্রেমিকা।

স্ত্রীর চরিত্র করেছেন আশনা হাবীব ভাবনা আপু। আমি করেছি প্রেমিকার চরিত্র। সিরিজে বাকি যে নারী চরিত্রগুলো আছে সেগুলো গল্পের প্রয়োজনে ছোট ছোট করে এসেছে। অথচ শাহরিয়ার নাজিম জয় ভাই আমাকে নিয়ে একটা পোস্টারও করলেন না।
কোনো প্রচারেও আমার নাম নিলেন না সেভাবে। কেন? আমার কি মার্কেট ভ্যালু নেই! মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ আছে আমার। একটা পোস্ট করলে শত শত মন্তব্য আসে। তাহলে আমাকেই কেন তিনি আড়াল করতে চাইলেন? বরং আমাকে সামনে আনলে তো তাঁর আরো লাভ হতো।
ভিউ বাড়ত সিরিজটার। শোবিজের অনেকে সিরিজটি দেখেছেন। আমাকে তাঁরা নকও করেছেন। প্রান্তর দস্তিদার দেখে অভিনন্দনও জানিয়েছেন। আমি তাঁকেও রিপ্লাই দিইনি।
ক্ষোভ জন্মানোর কিন্তু আরো কিছু কারণ আছে। সিরিজটা করার জন্য আমি একদম প্রস্তুত ছিলাম না। জয় ভাই একদিন ফোন দিয়ে বললেন, আমাকে নিয়ে সিরিজটি করতে চান। খুব কষ্ট করে শিডিউল ম্যানেজ করলাম। হঠাৎ শিডিউলে জানেন তো, কস্টিউম, ক্যারেক্টার—কোনো কিছুর জন্যই সময় পাওয়া যায় না। তার পরও ভাবলাম, জয় ভাই সিনিয়র, তাঁর সঙ্গে কাজটা হোক। রিলিজের সময় অন্তত প্রচার-প্রচারণায় ঘাটতিটা উসুল করে নেব। সেটাও তো হলো না।
মাঝখানে তো অনেক দিন নাটকে অভিনয় করেননি…
মনটাই ভেঙে গিয়েছিল। ছোট পর্দার কাজে এত সিন্ডিকেট! ভাবা যায় না। আমি বড় পর্দার মানুষ। ক্যারিয়ার শুরুই করেছি সিনেমা দিয়ে। সেখানকার মানুষ একরকম আর এখানকার মানুষ আরেক রকম। এদের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে খুব কষ্ট হচ্ছে। পরিষ্কার করে বললে, মুশফিক ফারহানের সঙ্গে কাজ করতে গেলে জোভানরা সিন্ডিকেট করে ফেলে, আবার জোভানের সঙ্গে কাজ করতে গেলে তৌসিফ মাহবুবরা সিন্ডিকেট করে ফেলে। কোন দিকে যাব বলেন। আমি তো অভিনেত্রী, সবার সঙ্গে কাজ করতে চাই। আমার ভক্তরাও সবার সঙ্গে আমাকে দেখতে চায়। রাগ করে তাই ছয় মাসের মতো বসে ছিলাম।
এখন আবার নাটক করছেন?
হ্যাঁ। না করেও বা উপায় কী! সামনে ঈদ। ভক্তরা একের পর এক মেসেজ দিচ্ছে, ঈদে নাটক দেখতে চায়। সত্যি বলতে, আমাকেও তো চলতে হয়, কাজ না করলে অর্থটা আসবে কোথা থেকে! এবার ঈদে মুশফিক ফারহানের সঙ্গে দুটি, প্রান্তর দস্তিদারের সঙ্গে তিনটি আর ইফতেখার তুহিনের সঙ্গে একটি নাটক আসবে। কাল [আজ] আরেকটি নাটকের শুটিং আছে। সব মিলিয়ে বলতে পারেন ঈদে আট-নয়টা নাটক আসবে।
আর কোনো সিরিজ বা ওয়েব ছবি করছেন?
না। ঈদের কাজগুলো করে আবার ছয় মাসের একটা গ্যাপ নেব। নিজেকে আরেকটু গুছিয়ে পুরোপুরি সিনেমায় মনোযোগ দেব। আমি আসলে নাটকের ম্যাটেরিয়াল না। নাটকে যেমন ক্লোজআপ দৃশ্য বেশি, শুধু ফেস সুন্দর হলেই চলে। আর আমাকে লং শটেও সুন্দর লাগে। আরো লাউডলি বললে, ছোট স্ক্রিনে আমার গ্ল্যামার ফুটিয়ে তোলাটা সম্ভব নয়। তার জন্য দরকার বড় স্ক্রিন, মানে সিনেমা হল। আর সেটারই প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমার কিছু ঘাটতি আছে। সেগুলো কাটিয়েই বড় পর্দায় ফিরব।
ঘাটতিগুলো কী? ধরতে পেরেছেন?
হ্যাঁ। অ্যাক্টিংয়ে আরো ডেভেলপ করতে হবে, আমার ডায়ালগ ডেলিভারিটাও ঠিকমতো হয় না বলে মনে করি। তা ছাড়া বাণিজ্যিক ছবি করতে গেলে ফাইটিংও দরকার হয়। সেটাও শিখতে হবে। আর যেটা বেশি বেশি করতে হবে তা হলো, কমিউনিকেশন ডেভেলপ। যোগাযোগটা না বাড়ালে এই বাজারে টিকে থাকা মুশকিল।
শেষ প্রশ্ন, মাঝখানে ফেসবুকে কাউকে ইঙ্গিত করে প্রায়ই পোস্ট করতেন। মুখোশ উন্মোচন করার কথাও বলতেন। তিনি কে?
তিনি শোবিজেরই একজন বড় আপু, অভিনেত্রী। নাম বলব না। শুধু ধারণা দিই, তাঁর কথিত একজন প্রেমিক অভিনেতা আছেন, যাঁর সঙ্গে আর কোনো অভিনেত্রী কাজ করতে পারবেন না। আমি কয়েকটি কাজ করার পর সেই আপু আমাকে প্রচুর ডিস্টার্ব করতেন। বাধ্য হয়ে তাঁর নাম প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এখন অবশ্য তিনি শুধরে গেছেন, আমিও তাই আর কিছু করতে চাই না।









