সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
পহেলা বৈশাখ কেমন কেটেছে? কোথাও গান পরিবেশন করেছেন?
পহেলা বৈশাখ আমাদের জীবনে নতুন স্বপ্ন, নতুন ভাবনা, নতুন কল্পনা নিয়ে আসার দিন। আমরা সারা বছর যেন ভালোভাবে কাজ করতে পারি, ভালোভাবে চলতে পারি এই দিনে সেটার স্বপ্ন বুনি। এবারের পহেলা বৈশাখে আমি ভালো ভালো অনুষ্ঠানে ছিলাম, দিনটা খুব সুন্দর কেটেছে। কারণ সদ্য রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলনে ৪৪তম বার্ষিক অধিবেশন সমাপ্ত করেছি।

আমার প্রতিষ্ঠান নববর্ষ উদযাপন করবে ২৪ এপ্রিল। সেদিনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।
রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। সংগঠনটি ঘিরে আপনার পরিকল্পনা কী?
রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ একটি সম্মিলিত প্রয়াস।
বহুজনের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই সংগঠনের কাজও সবাই মিলে একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়ে করি। এখানে শুধু যে রবীন্দ্রসংগীত শেখানো হয় বা সেই গান নিয়ে কাজ করা হয় তা কিন্তু নয়! এই সংগঠনের উদ্দেশ্য হলো আমাদের শেকড়, আমরা যার সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত সেই রবীন্দ্র নাথ, নজরুল, বিভিন্ন লোককবি—এঁদের সবাইকে নিয়েই আমাদের কাজ। নতুন প্রজন্মের কাছে এই গুণীদের তুলে ধরা, নতুন প্রজন্মকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার শিক্ষা দেওয়ার পথটা তৈরি করা আমাদের লক্ষ্য।
সাংস্কৃতিক চর্চা একজন মানুষকে মানবিক করে গড়ে তোলে। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ, রজরুলকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমরা কাজ করছি। প্রতিবছর আমরা চারটি করে জেলাকে বেছে নেব। যেখানে তিন থেকে চারবার করে গিয়ে ছাত্রদের নিবিড় প্রশিক্ষণ দিতে পারি। শুধু গান নয়, বাঙালি সংস্কৃতি যারা মনে প্রাণে ধারণ করে, দেশপ্রেম আছে তাদের আমরা প্রশিক্ষণ দেব।
তারা নিজেরা শিখে অন্যকেও যেন শেখাতে পারে। এখন আমাদের ৮২টি শাখা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭০টি শাখা সম্পূর্ণভাবে সক্রিয়। প্রতিটি শাখাই এই ধরনের কার্যক্রম চলছে, চলবে।
আপনার সংগীত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘উত্তরায়ণ’-এর কার্যক্রম কেমন চলছে?
‘উত্তরায়ণ’ কিন্তু এখন একটা একাডেমিতে পরিণত হয়েছে। প্রতি শুক্র ও শনিবার আমরা বনানী বিদ্যা নিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ‘উত্তরায়ণ’ একাডেমির ক্লাস করি। সেখানে শুধু যে গান শেখানো হয় তা নয়, নাচ, ছবি আঁকা, আবৃত্তি, গিটার, হাতের লেখা, ক্যারাতে—অনেকগুলো বিষয়ে ক্লাস হয়। আমাদের ছাত্রসংখ্যা অনেক। তার পরও ইচ্ছা আছে এটাকে আরো বিস্তৃত করা। যত ছেলে-মেয়েকে আমাদের সঙ্গে সংযুক্ত করতে পারব তত তারা সমৃদ্ধ হবে, আমাদের দেশও সমৃদ্ধ হবে। শুধু লেখা-পড়ায় ভালো হলে হয় না। একজন মানুষের মধ্যে সংস্কৃতিচর্চাও থাকতে হবে। নইলে সে প্রকৃত মানুষ হবে না কখনো।
এখনকার ছেলে-মেয়ের মধ্যে রবীন্দ্রসংগীতের প্রতি আগ্রহ কেমন দেখতে পাচ্ছেন?
দেখুন, ভালোবাসা অবশ্যই আছে। আমরা রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলনের মাধ্যমে দেশব্যাপী প্রতিযোগিতা করেছি। সেখানে প্রায় চার হাজারের বেশি ছেলে-মেয়ে অংশগ্রহণ করেছে। বাছাই করে আমরা ৩৮০ জনকে ঢাকায় এনেছি। যদি তাদের আগ্রহ না থাকত তাহলে তো অংশগ্রহণ করত না। এখন তো পড়াশোনার অনেক চাপ। সে কারণে হয়তো ছেলে-মেয়েরা নিয়মিত চর্চাটা করতে পারে না। তবে তাদের আগ্রহ আছে। এটা আমি কাছ থেকেই দেখেছি।
অনেক শিল্পী এখন আধুনিক ইনস্ট্রুুমেন্টের সঙ্গে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন। এটাকে কিভাবে দেখেন?
আধুনিক ইনস্ট্রুমেন্ট বাজিয়ে গান করাটা দোষের নয়। তবে জানতে হবে কোন গানটির সঙ্গে কোন বাদ্যযন্ত্রটা বাজালে যথার্থ হবে। মানুষের হৃদয় জয় করবে। আমি একটা গানের ভাব বুঝলাম না, সে গানটি কেন রচিত হয়েছে সেটা বুঝলাম না অথচ নিজের মতো করে উপস্থাপন করলাম, তা তো হলো না। এমন হলে কিন্তু গানের স্রষ্টাকে অপমান করা হয় সেই সঙ্গে সৃষ্টিটাকেও ধ্বংস করা হয়।
স্কুলে সংগীত শিক্ষক রাখা না-রাখা নিয়ে নানা মত। আপনি শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। আপনার অভিমত কী?
এই প্রশ্নটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সংযুক্ত। আমরা সম্প্রতি একটি সেমিনার করেছি, যেখানে বিদ্যালয়ে সংগীত কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। খুবই ফলপ্রসূ একটি আলোচনা হয়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার পাশাপাশি সংগীতকে রাখা খুব জরুরি। সংগীত কিন্তু এখন শুধু বিনোদন নয়, সারা পৃথিবীতে নতুন মাত্রা এনেছে। বহু গবেষণা হচ্ছে, মিউজিককে কিভাবে থেরাপি হিসেবে কাজে লাগানো যায়। এখন রোগীদের গান শুনিয়ে মানসিকভাবে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বাচ্চাদেরও সংগীতের মাধ্যমে মানবিক বিকাশ ঘটানো হচ্ছে। শিক্ষা ও সংগীত একে অপরের পরিপূরক। বিদ্যালয়গুলোতে সংগীতের শিক্ষক রাখাটা খুবই জরুরি।









