জাতীয়

হাসপাতাল বন্ধ, ১৬ দিনে ৫ চা শ্রমিকের মৃত্যু

নিউজ ডেস্ক১১ এপ্রিল ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

মৌলভীবাজারের শমশেরনগর চা বাগান এলাকায় অবস্থিত ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল টানা ১৬ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে ডানকান ব্রার্দাসের বিভিন্ন চা বাগানের পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি চা শ্রমিক নেতাদের।

ক্যামেলিয়া হাসপাতাল সূত্রের দাবি, গত ২৬ মার্চ ঐশী রবিদাস (১৩) নামে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী মাথাব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। রাতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন।

তবে পরিবারের সদস্যরা রাতে স্থানান্তরে রাজি না হওয়ায় পরদিন সকালে হাসপাতালেই মৃত্যু হয় ঐশীর।
সূত্র আরো দাবি করে, ঐশীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে শ্রমিকদের মধ্যে। একপর্যায়ে স্থানীয় এক নেতার নেতৃত্বে একদল লোক হাসপাতালে হামলা চালায়। তারা হাসপাতালে ভাঙচুর ও চিকিৎসকদের হেনস্তা করে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করলেও নিরাপত্তাহীনতায় চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা হাসপাতাল ত্যাগ করেন। এর পর থেকেই হাসপাতালটিতে চিকিৎসাসেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চা শ্রমিকদের জন্য এই হাসপাতাল ছিল একমাত্র নির্ভরযোগ্য চিকিৎসাকেন্দ্র। নব্বইয়ের দশকে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন এই হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করে, যেখানে বাগানের শ্রমিক, তাদের পরিবার এবং কর্মকর্তারা নিয়মিত চিকিৎসাসেবা পেতেন।

জরুরি প্রয়োজনে আশপাশের সাধারণ মানুষও এখান থেকে সেবা গ্রহণ করতেন।
বর্তমানে হাসপাতাল বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে চা শ্রমিক পরিবারগুলো।

একাধিক নারী চা শ্রমিক বলেন, ক্যামেলিয়া হাসপাতালই ছিল শ্রমিকদের ভরসা। অভিযোগ থাকলে তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু এখন শ্রমিকরা চিকিৎসা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত।

এদিকে, শুধু হাসপাতাল নয়, ‘একই ফাউন্ডেশনের অধীনস্থ লংলার ক্যামেলিয়া স্কুলের কার্যক্রম নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য—দুই খাতেই সেবা বন্ধ হয়ে গেলে সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়বে চা শ্রমিক পরিবারগুলোর সন্তানরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনার তিন দিন পর ২৯ মার্চ শমশেরনগর চা বাগানে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও হাসপাতাল চালুর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ইংল্যান্ডে অবস্থিত ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নির্দেশনা ছাড়া কার্যক্রম পুনরায় চালু করা সম্ভব নয়। ইতিমধ্যে ঘটনাটির তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ঐশীর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তবে এ ঘটনায় হাঙ্গামা না করে তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। দ্রুত হাসপাতালের সেবা চালুর দাবি জানাই।

এ ব্যাপারে শমশেরনগর চা বাগান ব্যবস্থাপক ও ডানকান ব্রাদার্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামান বলেন, হাসপাতালটি সম্পূর্ণ আলাদা একটি ফাউন্ডেশনের অধীনে পরিচালিত হওয়ায় তাদের সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। তবে চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের দুর্ভোগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দ আমার কাছে এসেছিলেন হাসপাতালটি পুনরায় চালু করার জন্য। বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব। আশা করছি দ্রুত হাসপাতাল খোলা হবে এবং চা শ্রমিকরা সেখানে সেবা নিতে পারবে।