সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
মানুষের জীবনে আনন্দ-বিনোদন, প্রতিযোগিতা ও খেলার গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু কখন সেই খেলা বা বিনোদন আমাদের অজান্তেই পাপের দিকে নিয়ে যায়—অনেক সময় আমরা তা বুঝতে পারি না। অনেক সময় আমরা যেগুলোকে সাধারণ খেলা বা হালকা বিনোদন মনে করি, সেগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে থাকে জুয়ার উপাদান—লাভ-ক্ষতির ঝুঁকি, অনিশ্চয়তা এবং প্রলোভন। তেমনই একটি বিষয় হলো টাকা দিয়ে ফরম কিনে কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া; যেখানে সামান্য টাকার ফরম তার চেয়ে বেশি মূল্যে ক্রয় করা হয়।
এবং সেখানে লাভ-ক্ষতির ঝুঁকি, অনিশ্চয়তা ও প্রলোভনের মতো বিষয় জড়িয়ে থাকে। ইসলামে এমন কুইজ প্রতিযোগিতা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনরা, নিশ্চয়ই মাদকদ্রব্য, জুয়া, আল্লাহ ছাড়া অন্যের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা বস্তু এবং ভাগ্য নির্ধারণের তীর—এসব শয়তানের অপবিত্র কাজ। সুতরাং তোমরা এগুলো থেকে বিরত থাকো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।

’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৯০)
তাই ইসলাম শুধু স্পষ্ট জুয়াকেই নয়, বরং এমন সব কাজকেও নিষিদ্ধ করেছে, যেখানে এই জুয়ার বৈশিষ্ট্যগুলো বিদ্যমান। আর জুয়া এমন একটি বিষয়, যার অন্তর্ভুক্ত সবকিছু জুয়া হিসেবে গণ্য হয়। এমনকি শিশুদের বাদাম বা অনুরূপ জিনিস নিয়ে খেলা, যদি তাতে ঝুঁকি বা জেতা-হারা যুক্ত থাকে।
(তাফসিরে ইবনে কাসির : ২/১১৬ ও সুরা মায়িদা)
প্রখ্যাত আলেম ইমাম জাসসাস (রহ.) বলেন, জুয়া হারাম হওয়ার ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই।
তিনি আরো বলেন, ঝুঁকির মাধ্যমে লাভ-ক্ষতির লেনদেনও জুয়ার অন্তর্ভুক্ত। এ প্রসঙ্গে ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন, ঝুঁকিপূর্ণ লেনদেনই হলো জুয়া। (আহকামুল কুরআন)
এই বিধান শুধু প্রচলিত জুয়া নয়; পাশা, দাবা বা অনুরূপ খেলায়ও প্রযোজ্য। এমনকি শিশুদের খেলাধুলাও এর আওতায় পড়ে, যদি তা প্রতিযোগিতামূলক হার-জিতের সঙ্গে টাকা-পয়সার লেনদেন যুক্ত হয়। আল্লামা ইবনে সিরিন (রহ.) বলেন, ‘যেকোনো কাজে যদি ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা জড়িত থাকে, তবে তা মায়সিরের অন্তর্ভুক্ত।
’ (তাফসির রুহুল মাআনি)
মোটকথা, মায়সির বা জুয়া দুই ধরনের হতে পারে—একটি হলো বিনোদনের উদ্দেশ্যে খেলা, আর অন্যটি ভাগ্যনির্ভর খেলা। উভয় ক্ষেত্রেই যদি লাভ-ক্ষতির ঝুঁকি থাকে, তবে তা জুয়ার অন্তর্ভুক্ত। এতে বিভিন্ন ধরনের খেলা, শর্ত ও লেনদেন অন্তর্ভুক্ত, যেখানে জেতা বা হারার সম্ভাবনা বিদ্যমান।
(ফাতহুল কাদির)
অতএব, একজন সচেতন মুমিনের জন্য উচিত কোনটি বৈধ বিনোদন আর কোনটি জুয়ার অন্তর্ভুক্ত, তা স্পষ্টভাবে জানা এবং সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা। কেননা জুয়া শুধু একটি নির্দিষ্ট খেলা বা কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং যেকোনো কাজ, যেখানে অনিশ্চিত লাভ-ক্ষতির ঝুঁকি এবং শর্ত জড়িত থাকে, তা ইসলামের দৃষ্টিতে মায়সির বা জুয়ার অন্তর্ভুক্ত। আর একজন মুমিনের প্রকৃত সফলতা হলো আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলা এবং সন্দেহজনক বিষয় থেকেও নিজেকে দূরে রাখা। তাই আমাদের উচিত শুধু প্রকাশ্য জুয়া নয়, বরং এর সব গোপন ও সূক্ষ্ম রূপ থেকেও বিরত থাকা, যাতে আমরা দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ ও সফলতা লাভ করতে পারি।









