সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
উপস্থাপক হিসেবে তো প্রশংসা পানই। কিন্তু এখন অভিনয়ের জন্য প্রশংসা পাচ্ছেন। কেমন লাগছে?
অবিশ্বাস্য। অন্য রকম এক ভালোলাগার মধ্যে আছি।

এ রকম ধূসর চরিত্র তো কখনো করিনি। ফলে আমার জন্য অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে আমার চেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জ ছিল ভিকি ভাইয়ার। তিনি সব সময় পাকা অভিনয়শিল্পী নিয়ে কাজ করেন।
সেখানে আমি একজন আনাড়ি মানুষ। যতই থিয়েটার-মূকাভিনয় করি না কেন, টেলিভিশন অভিনয়ের ধরন তো আলাদা। এখানে তো আমি নিয়মিত নই। ফলে আমাকে দিয়ে এ রকম চরিত্র করানো তাঁর জন্যও চ্যালেঞ্জিং ছিল।
তিনি আমাকে নিয়ে আশাবাদী ছিলেন, সেটার ফলও পাচ্ছি। এ জন্য তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ। এখন এত এত মানুষের প্রতিক্রিয়া, প্রশংসা পাচ্ছি, বিশ্বাসও হচ্ছে না। এর আগে ডাবিংয়ের সময় আমার অভিনয় দেখে তৌসিফ [তৌসিফ মাহবুব] ভাইয়াও অনেক প্রশংসা করেছিলেন। আবার এক সাক্ষাৎকারে বাঁঁধন [আজমেরী হক বাঁধন] আপুও আমার প্রশংসা করেছেন।
ঈদে অভিনয়ে আর কিছু এসেছে?
হ্যাঁ। আবুল হায়াত স্যারের নির্মাণে একটি নাটক এসেছে ‘সখিনা’। কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের গল্পে নির্মিত হয়েছে। এতে আমি নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছি। এ নাটক দেখার পর আমাকে ডলি [ডলি জহুর] মা ফোন করেছিলেন। তিনি বলেছেন, ‘তোর ইমোশনাল দৃশ্যের অভিনয় দেখে আমার কান্না চলে এসেছিল।’ তাঁর মতো মানুষের কাছ থেকে এ রকম মন্তব্য পাওয়া তো বিশাল ব্যাপার।
‘চক্র ২’-এ কিভাবে যুক্ত হয়েছিলেন?
ভিকি ভাইয়াকে অনেক আগেই বলেছিলাম, আমি তাঁর সঙ্গে কাজ করতে চাই। দুইবার কাজের ব্যাপারে কথাও হয়েছিল। একবার শিডিউল মেলাতে পারিনি, আরেকবার দুজনের সিদ্ধান্তে করা হয়নি। এবার অবশেষে হলো। আমি ভীষণ খুশি। কারণ এ রকম চ্যালেঞ্জিং একটা চরিত্র তিনি আমাকে দিয়েছেন।
সিরিজটির গল্প বেশ রহস্যময়। স্ক্রিপ্ট পড়া বা শুটিংয়ের সময়ে নিজের মধ্যে কোনো অস্বাভাবিক বিষয় লক্ষ্য করেছেন?
অনেক ঘটনা আছে। সিরিজটি করার সময় আমি বাসায় একা ছিলাম, বাবা-মা ছিলেন না। সারাক্ষণ আমার মাথার মধ্যে জেনি [সিরিজে মৌয়ের চরিত্রের নাম] চরিত্রটা ঘুরত। জেনির মতো ভাবতাম, চলতাম। জেনি যেমন অন্ধ, তেমন অন্ধ সেজে খেতাম, কাঁদতাম। চরিত্রটির জন্য প্রস্তুতি নিতে ভিকি ভাইয়া আমাকে ‘সেন্ট অব আ ওমেন’ ছবিতে আল পাচিনোর অভিনয় দেখতে বলেছিলেন। এই ছবি কতবার যে দেখেছি! ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি আমি ‘চক্র ২’ ছাড়া আর কোনো কাজ করিনি। কত কত শো ছেড়ে দিয়েছি, হিসাব নেই। আরেকটা ঘটনা বলি, গল্প শুনে সিরিজটা চূড়ান্ত করে বাসায় ফিরছিলাম, তিন-চার মিনিটের মাথায় আমি বমি করলাম। এরপর বাসায় গিয়ে বারবার বমি করেছি, সেই অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে পর্যন্ত ভর্তি হতে হয়েছিল। আবার আমি নতুন গাড়ি কিনেছি, সেই গাড়িতে প্রথম আঘাত লাগল এই ‘চক্র ২’ করতে গিয়ে। এ রকম অনেক অদ্ভুত ব্যাপার লক্ষ্য করেছি।
আপনার পথচলা শুরু হয়েছিল অভিনয় দিয়ে। সেটা নিয়মিত না করে উপস্থাপনায় চলে এলেন কেন?
উপস্থাপক হয়ে গেছি। কেন হয়ে গেছি, সেটা আসলে জানি না। এখন এটাই আমার মূল পেশা।
এখন যেহেতু অভিনয়ে প্রশংসা পাচ্ছেন। সামনে কি অভিনয়ে ফোকাস বাড়াবেন?
যদি নির্মাতারা ভালো গল্প-চরিত্রে আমাকে ডাকেন, অবশ্যই করব। যেহেতু উপস্থাপনায় আমি বেশ ভালো অবস্থানে আছি, এটাই আমার আয়ের মূল উৎস। তাই ভালো মানের কাজ হলে তবেই করব।
উপস্থাপনায় কী করছেন?
জি টিভিতে ‘আজকের অনন্যা’ পঞ্চমবার উপস্থাপনা করছি। প্রায় ১০-১১ বছর আগে এই অনুষ্ঠানের একজন প্রতিযোগী ছিলাম। কখনো কল্পনাও করিনি, একদিন অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করব। তারিন আপু, বাঁধন আপুর মতো মানুষ এটি উপস্থাপনা করেছিলেন। আর এখন আমি করছি, তাও পঞ্চমবারের মতো। এ ছাড়া এনটিভিতে টানা তৃতীয়বার ‘সেরা পরিবার’ উপস্থাপনা করছি। মাছরাঙার তারকাবহুল শো ‘স্টার নাইট’-এর প্রথম সিজন সম্পন্ন করে দ্বিতীয় সিজন শুরু করেছি। পাশাপাশি অন্যান্য চ্যানেলে নিয়মিত কিছু শো তো চলছেই।
অভিনয়ে নতুন কিছুতে যুক্ত হলেন?
আপাতত না। সামনে ‘চক্র ৩’-এর শুটিং করার কথা রয়েছে।
নিজেকে কোথায় খুঁজে পান, অভিনয় নাকি উপস্থাপনায়?
অবশ্যই উপস্থাপনায়। আমি যে মৌসুমী মৌ, উপস্থাপনার জন্যই মানুষ সেটা জানে।









