ধর্ম

জুমার দিনের ফজিলতপূর্ণ ৫টি আমলের কথা জানালেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

নিউজ ডেস্ক৬ এপ্রিল ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

জুমার দিন মুসলমানদের সাপ্তাহিক ঈদ। এই দিনের মর্যাদা ও ফজিলত অন্য দিনের তুলনায় অনেক বেশি। পবিত্র এই দিনে মহান আল্লাহ মুমিন বান্দাদের জন্য বিশেষ রহমত, বরকত ও ক্ষমার দরজা উন্মুক্ত করে দেন। তাই জুমার দিনকে ঘিরে ইসলাম নানা গুরুত্বপূর্ণ আমলের নির্দেশনা দিয়েছে। এসব আমল মানুষের অন্তরকে পবিত্র করে এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।

সম্প্রতি এক বিশেষ আলোচনায় জুমার দিনের ১৪টি আমলের মধ্য থেকে অতি গুরুত্বপূর্ণ ৫টি আমলের কথা গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও প্রখ্যাত ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ।

অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করা

জুমার দিনের সবচেয়ে প্রধান আমল হলো নবী করীম (সা.)-এর প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন জুমার দিন ও রাতে যেন উম্মতরা বেশি বেশি দরুদ পড়ে। কারণ, আল্লাহর একদল ফেরেশতা নিয়োজিত আছেন যারা পাঠকারীর নাম ও পরিচয়সহ এই দরুদ নবীজীর রওজায় পেশ করেন। ওজু ছাড়াও যে কোনো অবস্থায় ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’-এর মতো সংক্ষিপ্ত দরুদও পাঠ করা যায়।

ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করা

সপ্তাহের সব নামাজের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে উত্তম ও শ্রেষ্ঠ নামাজ হলো জুমার দিনের ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা। এই ফজিলত লাভের জন্য বৃহস্পতিবার রাতেই আগে আগে ঘুমানো এবং প্রয়োজনে অ্যালার্ম দিয়ে বা অন্যের সহযোগিতা নিয়ে হলেও জামাতে শরিক হওয়ার জন্য জোরালো তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করা

জুমার দিন সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করা মুমিনের জন্য নুর বা আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করে। হাদিস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি জুমার দিন এই সুরা পড়বে, তার জন্য কিয়ামতের কঠিন অন্ধকারে আলোর ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া এক জুমায় এই সুরা পাঠ করলে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত তার জীবন ঈমানি নুরে আলোকিত থাকে এবং এটি দাজ্জালের ফিতনা থেকেও হিফাজত করে। যারা পড়তে পারেন না, তারা অন্যের তেলাওয়াত শুনেও সওয়াব পেতে পারেন।

মসজিদে আগে যাওয়া ও প্রতিটি কদমে এক বছরের সওয়াব

এটি দুনিয়ার সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ আমলগুলোর একটি। জুমার দিন আগে আগে ঘুম থেকে ওঠা, উত্তমরূপে গোসল করা, পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়া (বাহনে না চড়া), ইমামের কাছাকাছি বসা এবং অনর্থক কাজ না করে জিকির-আজকারে মশগুল থাকা—এই শর্তগুলো পূরণ করলে প্রতিটি কদমের বিনিময়ে এক বছর নফল রোজা এবং এক বছর রাতভর তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার সওয়াব আমলনামায় যুক্ত হয়।

দোয়া কবুলের বিশেষ সময়ে মোনাজাত

জুমার দিনের একটি বিশেষ সময়ে আল্লাহ বান্দার কোনো দোয়া ফিরিয়ে দেন না। যদিও সময়টি হাদিসে সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি, তবে অধিকাংশ ইসলামিক স্কলার ও হাদিস বিশ্লেষকদের মতে, জুমার দিনের শেষ প্রহর অর্থাৎ আসরের পর থেকে সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত সময়টিই দোয়া কবুলের সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। তাই এই সময়ে বেশি বেশি কান্নাকাটি ও আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, এই ৫টি আমল নিয়মিত করার মাধ্যমে একজন মুমিন তার সারা সপ্তাহের ঈমানি শক্তি রিচার্জ করতে পারেন। জীবনকে সুন্দর ও পরকালকে আলোকিত করতে এই আমলগুলো নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও শেয়ার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।