সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অজ্ঞতার কারণে উৎসে করের ৫৮৬ কোটি টাকা বকেয়া পড়েছে। এ নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে চিঠি চালাচালি হচ্ছে।

পাসপোর্ট অধিদপ্তর বলছে, পাসপোর্ট ইস্যু ও নবায়ন ফির ওপর ১৫ শতাংশ হারে উৎসে কর গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করার বিষয়টি তাদের জানা ছিল না। অন্যদিকে, এনবিআর বলছে, এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এনবিআর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাসপোর্ট ইস্যু ও নবায়ন ফির ওপর ১৫ শতাংশ হারে উৎসে কর গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করার নিয়ম আছে। কিন্তু গত ২০১০-২০১১ অর্থবছর থেকে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ইস্যু ও নবায়নকৃত পাসপোর্টে কোনো উৎসে কর কেটে রাখেনি পাসপোর্ট অধিদপ্তর। এর কারণ হিসেবে পাসপোর্ট অধিদপ্তর বলছে, উৎসে কর যে আদায়যোগ্য, তারা এ চার বছর তা জানতই না। এর ফলে ৫৮৬ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হয়েছে সরকার।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি বিষয়টি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের দৃষ্টিগোচর করা হয়েছে। এ বিষয়ে এক নোটে বকেয়া মূসক টিকিটের দামে অন্তর্ভুক্ত করে আদায়ের সুপারিশ করেছেন। অর্থাৎ পাসপোর্ট গ্রাহকদের কাছ থেকে বকেয়া ৫৮৬ কোটি টাকা আদায়ের কথা বলেছেন তিনি।
সূত্র জানায়, পাসপোর্ট ইস্যু ও নবায়ন ফির ওপর উৎসে করের ব্যাপারে ২০১০ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এসআরও নং-৫৬৪, বিধি-১৮ঙ অনুযায়ী লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন, পারমিট দেওয়া বা নবায়নের সময় গৃহীত অর্থের ওপর উৎসে মূল্য সংযোজন কর কর্তনের বিধানের কথা বলা হয়েছে। এসআরও ২০১০ সালে জারি হলেও পাসপোর্ট অধিদপ্তর এটি চার বছর পর জেনেছে বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ রেজওয়ান।
সম্প্রতি এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে এ সংক্রান্ত বৈঠক হয়। বৈঠকে তিনি বলেন, উৎসে কর আদায় সংক্রান্ত এসআরও ২০১০ সালের। কিন্তু পাসপোর্ট ফির বিপরীতে উৎসে কর কাটার বিষয়টি আমরা ২০১৪ সালে জেনেছি। উৎসে মূসক (ভ্যাট) কাটার বিষয়ে যথাসময়ে অবহিত না হওয়ার কারণে গ্রাহকদের কাছ থেকে মূসক কেটে রাখা হয়নি। বৈঠকে বকেয়া ৫৮৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। এর পাশাপাশি তিনি বলেন, যে অর্থ আহরণ করা হয়নি, তা পরিশোধের জন্য অর্থ বিভাগ থেকে বরাদ্দ পাওয়া কঠিন বিষয়।
মূসক (ভ্যাট) আইনের দ্বিতীয় তফসিল অনুযায়ী, কোনো ধরনের নোটিফিকেশনের মাধ্যমে পাসপোর্টকে মূসক অব্যাহতি দেওয়া হয়নি। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, পাসপোর্ট ফি মূসকযোগ্য হওয়ায় মাঠ পর্যায়ের কমিশনাররা মূসক আইনের ধারা ৫৫ অনুযায়ী দাবিনামা সংবলিত কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ দাবিনামা চূড়ান্ত করেছে। অর্থাৎ বকেয়া ৫৮৬ কোটি টাকার বিষয়টি নির্বাহী সিদ্ধান্তে নিষ্পত্তিরও সুযোগ নেই। আইনানুগভাবে প্রতিষ্ঠিত বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে এনবিআর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।
সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে অর্থ বিভাগ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এটি কন্ট্রা-এন্ট্রি পদ্ধতিতে পরিশোধ করবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তারপরও বিষয়টিতে সন্দেহ থেকে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। তাই বিষয়টি নিষ্পত্তিতে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সচিব পর্যায়ে বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়। এজন্য একটি অবস্থানপত্র তৈরি করতে এনবিআর সদস্যকে (মূসক নীতি) আহ্বায়ক করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সমন্বয়ে একটি ওয়ার্কিং কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
সূত্র: রাইজিংবিডি









