জাতীয়

২৮ অক্টোবর ঘিরে রণসাজ নিচ্ছে পুলিশ

নিউজ ডেস্ক২৬ অক্টোবর ২০২৩৪ মিনিট পড়া

সিল্কসিটি নিউজ ডেস্ক:

সরকার পতনের এক দফা দাবি আদায়ে আগামী ২৮ অক্টোবর রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে দলটি। একই দিন আওয়ামী লীগও বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। বিএনপির সমমনা দলগুলোও এদিন রাজধানীতে পৃথক পৃথক সমাবেশের ডাক দিয়েছে। এছাড়া জামায়াতও শাপলা চত্বরে সমাবেশ কর্মসূচি দিয়েছে। এসব কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘাতের আশঙ্কা করছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। তাই যে কোনো ধরনের অরাজক পরিস্থিতি এড়াতে যাবতীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। রীতিমতো রণসাজ চলছে। এদিন পুলিশের সহায়তায় থাকবে র‌্যাব ও বিজিবি। বুধবার পর্যন্ত কোনো দলকেই ঢাকায় সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে দুই পক্ষের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজনীতিতে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে; তার রেশ ছড়িয়ে পড়েছে জনমনেও। সাধারণ মানুষ এ নিয়ে শঙ্কিত। ওইদিন কী হবে, দু’পক্ষের সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হবে, নাকি সংঘাতে রূপ নেবে- তা নিয়ে তাদের মনে নানা প্রশ্ন দানা বাঁধতে শুরু করেছে। সমাবেশে যোগ দিতে এরই মধ্যে ঢাকার বাইরের বিএনপি নেতাকর্মীরা রাজধানীতে আসতে শুরু করেছেন। ঢাকার মহাসমাবেশ সফল করতে নানা প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। অন্যদিকে আওয়ামী লীগও ওইদিন যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বুধবার বিকালে ঢাকা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের মতবিনিময় সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশের দিন রাজপথ দখলে রাখতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি তাদের উদ্দেশে বলেন, সতর্ক পাহারায় থাকবেন। আক্রমণ হলে পাল্টা আক্রমণ হবে। আর ছাড়ব না।

পক্ষান্তরে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মহাসমাবেশে কোন ধরনের বাধা এলে কী করতে হবে সে প্রস্তুতিও তাদের আছে। তারা এও বলছেন, তাদের কথা হবে নরম কাজ হবে শক্ত।

পুলিশ সূত্র বলেছে, ঢাকায় দুই পক্ষের সমাবেশ কেন্দ্র করে ২৮ অক্টোবর সারাদিন এবং সমাবেশে আগের দিন ঢাকার কোথায় কোন ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে তার প্রস্তুতির কাজ জোরেশোরে শুরু করেছে। বিএনপি সমাবেশস্থলে বসে পড়লে কী ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করলে কী ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে- তার পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত। এছাড়া পুলিশের রায়ট কার, জলকামানসহ অন্যান্য নিরাপত্তা সামগ্রী পর্যাপ্ত মজুদ রাখতেও নানামুখী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ওইদিন পুলিশের জনবলের শক্তি আরও বাড়াতে ঢাকার বাইরে থেকেও ফোর্স আনা হচ্ছে।

ইউনিফর্মের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও ওইদিন বিপুল সংখ্যক পুলিশ ফোর্স মোতায়েন থাকবে সমাবেশস্থল এবং আশপাশ এলাকায়। যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক ঘটনা হলে তা কীভাবে মোকাবিলা করতে হবে তার একটি গাইডলাইনও প্রস্তুত করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। ওইদিন পুলিশের সোয়াত টিম এবং বোম্ব ডিসপোজাল টিমকেও সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মহানগর পুলিশের কর্তা ব্যক্তিরা।

পুলিশের নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুুলিশের যুগ্ম কমিশনার (অপারেশন্স) বিপ্লব কুমার সরকার বলেছেন, বুধবার পর্যন্ত বিএনপি, আওয়ামী লীগসহ ৪টি দলের সমাবেশের আবেদন পড়েছে ডিএমপি সদর দপ্তরে। তবে কোনো দলকেই সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। নিরাপত্তা ঝুঁকিসহ নানা বিষয় মাথায় নিয়ে ডিএমপি কমিশনার সমাবেশের অনুমতি দেবেন। নয়াপল্টনে বিএনপির সমাবেশের অনুমতি দেওয়ার বিষয়েও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে তিনি জানান।

এক প্রশ্নের জবাবে বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, শান্তিপূর্ণ যেকোনো ধরনের সমাবেশে পুলিশ সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে কোনো পক্ষ সমাবেশের নামে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করলে তা মোকাবিলায় পুলিশ সর্বশক্তি নিয়োগ করবে। সমাবেশস্থলে বিএনপি নেতাকর্মীরা বসে পড়লে তাদের উঠাতে যদি কোনো ব্যবস্থা নিতে হয় তা নিতেও পুলিশ প্রস্তুত থাকবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

এদিকে র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগামী ২৮ অক্টোবর রাজনৈতিক কর্মসূচির সুযোগে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল নাশকতার চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় র‌্যাবের পক্ষ থেকে এদিন বিশেষ টহল কার্যক্রম চালানো হবে। র‌্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেছেন, ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে চেকপোস্ট জোরদার করা হবে।

সমাবেশকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে র‌্যাবের পেট্রোলিং জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া সাদা পোশাকে সক্রিয় রয়েছে র‌্যাবের গোয়েন্দারা। এরপরও যদি নাশকতার চেষ্টা হয় তাহলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠে নামবে র‌্যাবের স্ট্রাইকিং ফোর্স।

জামায়াতে ইসলামীর সমাবেশ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে র‌্যাব মুখপাত্র বলেন, জামায়াত যদি সমাবেশের অনুমতি না পায় এবং তারপরও তারা যদি জমায়েতের চেষ্টা করে তখন অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে র‌্যাব।

জামায়াতে ইসলামী ২৮ অক্টোবর শাপলা চত্বরে সমাবেশ করতে অনড় রয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, স্বাধীনতাবিরোধী দল হওয়ায় জামায়াতকে ওইদিন কোনো সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না। তারা সমাবেশের চেষ্টা করলে তা ঠেকানোর প্রস্তুতিও পুলিশ নিয়ে রেখেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

 

ট্যাগ: