জাতীয়

২০ মাস ধরে বেতন নেই টিকা বাহকের

নিউজ ডেস্ক১১ এপ্রিল ২০২৬২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

সুশীল চন্দ্র মিস্ত্রি, প্রশান্ত কুমার এবং আনোয়ার হোসেন। বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার সাত ইউনিয়নের ১৭৮টি টিকাদানকেন্দ্রে শিশুদের সুরক্ষা পৌঁছে দেন তারা, স্বাস্থ্য বিভাগের খাতায় যারা পোর্টার (বাহক)।

পোর্টারদের কাজ অনেকটা পুরনো দিনের ডাকহরকরাদের মতো। পাথরঘাটার দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে সময়মতো ভ্যাকসিন পৌঁছে দেন তারা।

রোদ, ঝড়-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে হাজারো শিশুর জীবন রক্ষার টিকা পৌঁছে দেন। কিন্তু তাদের নিজেদের জীবনই এখন চরম অনিশ্চয়তায়। হাঁড়ভাঙা খাটুনির পরও দীর্ঘদিন ধরে বেতন বকেয়া তাদের।
আনোয়ার হোসেন জানান, ৯ হাজার টাকা মাসিক বেতনে কাজ শুরু করলেও গত ২০ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না তিনি।

অনিয়মিত ও স্বল্প বেতনের কারণে সন্তানদের উচ্চ শিক্ষার সুযোগ দিতে পারেননি তিনি।
সুশীল চন্দ্র মিস্ত্রি ও প্রশান্ত কুমার জানান, তাদের বেতন বকেয়া পড়ে আছে ৯ মাস ধরে। বর্তমানে দৈনিক ৭০০ টাকা হিসেবে তাদের মাসিক আয় ১৬ হাজার ৮০০ টাকা (২৪ দিন বিবেচনায়), যা তিন মাস আগে ছিল মাত্র ৫০০ টাকা।

সুশীল মিস্ত্রি দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে চাকরি করছেন মাস্টাররোলে।

১৯৮৯ সালে ৯৬০ টাকা বেতনে শুরু করা এই চারকরি আজও স্থায়ী হয়নি বলে জানান সুশীল।
পোর্টাররা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়ায় তাদের পরিবার ঋণের ভারে জর্জরিত। তারা বলেন, উপজেলা সদর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে দুর্গম ইউনিয়নে যখন তারা ভ্যাকসিনের আইসবক্স নিয়ে যান, তখন তাদের সঙ্গে থাকে কেবল শুকনো চিড়া বা মুড়ি।

পোর্টাররা আরো জানান, বেতন বকেয়া থাকায় এবং নামমাত্র মজুরি হওয়ায় কোনো হোটেলে বসে একবেলা ভাত খাওয়ার সামর্থ্যও নেই তাদের। উৎসব আসে, উৎসব যায়; কিন্তু তারা পান না কোনো ঈদ বোনাস কিংবা বৈশাখী ভাতা।

বিষয়টি স্বীকার করে বরগুনা জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফাত্তাহ বলেন, পোর্টাররাই পুরো টিকাদান কর্মসূচি সচল রেখেছেন। কিন্তু তাদের যে বেতন ও সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, তা অত্যন্ত অমানবিক। তার ওপর বেতন অনিয়মিত। স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে জানানো হয়েছে।