সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
শুল্ক গোয়েন্দাসহ অন্য সংস্থার অভিযানে প্রতিনিয়তই ধরা পড়ছে চোরাই স্বর্ণের ছোট-বড় চালান। প্রতি মাসেই শুল্ক বিভাগ, র্যাব-পুলিশসহ অন্য সংস্থার হাতে আটক স্বর্ণ জমা হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, স্থায়ী-অস্থায়ী খাতে স্বর্ণ রয়েছে প্রায় ৪ থেকে ৫ টন। আবার শুল্ক গোয়েন্দার সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, অস্থায়ী খাতে স্বর্ণের পরিমাণ ১ হাজার ৫৯৮ কেজি ৭৮৮ গ্রাম। ২৬২টি মামলার বিপরীতে এ স্বর্ণ জব্দ করা হয়। সম্প্রতি যেসব স্বর্ণের চালান ধরা পড়েছে সেগুলোও জমা পড়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে। কিন্তু গত ১০ বছর ধরে স্বর্ণের নিলাম বন্ধ রয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে এখন সোনার স্তূপ।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক (কারেন্সি অফিসার) আওলাদ হোসেন চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, আদালতের নির্দেশে বাংলাদেশ ব্যাংকে স্বর্ণ জমা হয়। বেশিরভাগ স্বর্ণের মামলা বিচারাধীন। আর বিচারাধীন অবস্থায় কোনো স্বর্ণের নিলাম হয় না। সে কারণে ২০০৮ সালের পর স্বর্ণ নিলাম হয়নি।
সূত্র জানায়, যেসব স্বর্ণের বিপরীতে করা মামলার নিষ্পত্তি হয় এবং ভল্টে রাখা স্বর্ণ যদি আদালতের মাধ্যমে সরকারের অনুকূলে জব্দ করা হয়, সেসব স্বর্ণই নিলাম করা হয়। এর বাইরে বিচারাধীন মামলার কোনো স্বর্ণ নিলামে তোলা হয় না।
যেসব স্বর্ণ বার বা বিস্কুট আকারে আছে সেগুলোকে বিশুদ্ধ স্বর্ণ মনে করা হয়। এগুলো সাধারণত বাংলাদেশ ব্যাংক কেনে। পরে তারা এগুলোকে রিজার্ভে দেখানোর জন্য ভল্টে রেখে দেয়। এ অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারকে দিয়ে দেয়। আর যেসব স্বর্ণ অলঙ্কার হিসেবে থাকে সেগুলো নিলামের মাধ্যমে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে। এ অর্থ সরকারের হিসাবে জমা করা হয়।
স্বর্ণ নিলামের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক ও শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের সম্মতির প্রয়োজন হয়। এর ভিত্তিতে নিলামের তারিখ ঠিক করে দু’পক্ষ ও অর্থ মন্ত্রণালয়য়ের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে নিলাম হয়। সর্বশেষ ২০০৮ সালে স্বর্ণের নিলাম হয়েছিল। ওই সময়ে নিলামের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু স্বর্ণ বিক্রি করেছিল। এরপরে আর কোনো নিলাম হয়নি।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, নিলামের সময় স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা একটি সিন্ডিকেট করে এতে অংশ নেয়। তারা বাজার দরের চেয়ে কম দরে দরপত্র জমা দেয়। তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাধ্য হয়ে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে স্বর্ণ বিক্রি করে। বিক্রি না করলে আবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সমালোচনা হয়। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন স্বর্ণের নিলাম করছে না।
সূত্র জানায়, দেশের বাজারে স্বর্ণ সংকট নিরসনে শুল্ক গোয়েন্দাসহ অন্য সংস্থার অভিযানে আটক স্বর্ণের নিলাম প্রক্রিয়া সহজ করতে গত বছরের ১৭ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের কাছে চিঠি দেয় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ছাড়াও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) সভাপতিকেও চিঠির অনুলিপি পাঠায় সংস্থাটি। কিন্তু এরপরেও স্বর্ণের নিলাম প্রক্রিয়াটি সহজ করা হচ্ছে না।









