অর্থ ও বাণিজ্য

১০৬০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব মালিকপক্ষের

নিউজ ডেস্ক১৭ জুলাই ২০১৮৪ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

পোশাক খাতে শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ১ হাজার ৬০ টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে মালিকপক্ষ। গতকাল অনুষ্ঠিত মজুরি বোর্ডের তৃতীয় সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রস্তাব দেয়া হয়। অন্যদিকে শ্রমিকপক্ষ প্রস্তাব দিয়েছে ৬ হাজার ৭২০ টাকা মজুরি বৃদ্ধির।

২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বরের সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পোশাক খাতের শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ৫ হাজার ৩০০ টাকা। মজুরি পর্যালোচনা বোর্ডের বৈঠকে মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা গতবারের চেয়ে ২০ শতাংশ বাড়িয়ে নিম্নতম ৬ হাজার ৩৬০ টাকা মজুরি নির্ধারণের লিখিত প্রস্তাব দিয়েছেন। আর শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা আগের চেয়ে ১২৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ বাড়িয়ে ১২ হাজার ২০ টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন।

পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণে গতকাল শুরু হয়েছে আনুষ্ঠানিক দরকষাকষি। মজুরি বোর্ড চেয়ারম্যান সিনিয়র জেলা জজ সৈয়দ আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে গতকাল বৈঠকে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে ছিলেন— মালিকপক্ষের প্রতিনিধি বিজিএমইএর সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি জাতীয় শ্রমিক লীগের নারী-বিষয়ক সম্পাদক বেগম শামসুন্নাহার ভূঁইয়া। আরো উপস্থিত ছিলেন— নিরপেক্ষ সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কামাল উদ্দিন, মালিকপক্ষের স্থায়ী প্রতিনিধি বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের শ্রম উপদেষ্টা কাজী সাইফুদ্দীন আহমদ ও শ্রমিকপক্ষের স্থায়ী প্রতিনিধি বাংলাদেশ শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি ফজলুল হক মন্টু।

সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মজুরি বোর্ড চেয়ারম্যান সৈয়দ আমিনুল ইসলাম বলেন, বোর্ড গঠনের সরকারি ঘোষণা আমরা পাই ফেব্রুয়ারিতে। সে অনুযায়ী ছয় মাস শেষ হবে আগস্টের মধ্যভাগে। এরই মধ্যে আমরা বোর্ডের সময় বৃদ্ধির জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানিয়েছি। আশা করছি, নভেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়বে মজুরি বোর্ডের।

প্রস্তাবনা জমা দেয়ার পর মালিকপক্ষের প্রতিনিধি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমরা মোট ১১টি বিষয় বিবেচনায় নিয়েছি। মূল বিষয় ছিল গত বছরগুলোয় মূল্যস্ফীতি কীভাবে হয়েছে, সেটি। এর আগে ন্যূনতম মজুরি ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার ৩০০ টাকা করা হয়েছিল। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে এখন আমরা ৬ হাজার ৩৬০ টাকা করার প্রস্তাবনা আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছি। আশা করি, উভয় প্রস্তাবনা নিয়ে আমরা এমন একটা জায়গায় যেতে পারব, যেখানে শ্রমিকের প্রয়োজনীয়তা ও শিল্পের সক্ষমতা অনুযায়ী মজুরি নির্ধারণ করতে সক্ষম হব।

জানা গেছে, লিখিত প্রস্তাবনায় মালিকপক্ষ ১ ও ২ নম্বর গ্রেড বিলুপ্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে। ৩ থেকে ৭ নম্বর গ্রেডের শ্রমিকদের জন্য মালিকপক্ষের প্রস্তাবিত মোট মজুরি হার যথাক্রমে ৭ হাজার ৯৮৩, ৭ হাজার ৬০৪, ৭ হাজার ১৭৬, ৬ হাজার ৭৫২ ও ৬ হাজার ৩৬০ টাকা। সপ্তম গ্রেড প্রসঙ্গে প্রস্তাবনায় মালিকপক্ষ বলেছে, এ গ্রেডে শুধু অদক্ষ ও প্রশিক্ষণবিহীন শ্রমিকদের নিয়োগ দেয়া হয়। শুরুর দিকে তারা সরাসরি উৎপাদনে সক্ষম হন না, বরং প্রশিক্ষণের কারণে তারা কারখানার কাপড়, মেশিন ইত্যাদি নষ্ট করে ক্রমে দক্ষতা অর্জন করেন। এ গ্রেডে কর্মরত শ্রমিকরা মোট মজুরির পাশাপাশি দৈনিক ২ ঘণ্টা করে মাসে ৫২ ঘণ্টা ওভারটাইম বাবদ মোট ১ হাজার ৫৬০ টাকা ও হাজিরা বোনাস বাবদ সর্বনিম্ন ৪০০ টাকা আয় করে থাকেন। সেই হিসাবে একজন অদক্ষ শ্রমিকের মোট মজুরির সঙ্গে মাসে অতিরিক্ত ২ হাজার ৫৬০ টাকা যোগ হচ্ছে। অর্থাৎ গড় ‘টেক-হোম’ মজুরি ৮ হাজার ৯২০ টাকা।

সভা শেষে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বেগম শামসুন্নাহার ভূঁইয়া বলেন, যে মজুরি প্রস্তাব দিয়েছি, তাতে ভালোভাবে জীবনযাপন করতে গেলে একজন শ্রমিক চলতে পারেন না। প্রস্তাবনা কত দিলে দরকষাকষি করে কোথায় আসতে পারব, সেটা আমরা বিবেচনা করেছি। গ্রেড ৭-এ সর্বনিম্ন মূল মজুরি প্রস্তাব করেছি ৭ হাজার ৫০ টাকা; এর সঙ্গে বাড়িভাড়া মূল মজুরির ৪০ শতাংশ হিসেবে ২ হাজার ৮২০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা ১ হাজার টাকা, যাতায়াত ভাতা ৫০০ ও টিফিন ভাতা ৬৫০ টাকা।  মোট ১২ হাজার ২০ টাকা প্রস্তাব করছি। অনেক সংগঠন ১৬ হাজার, ১৮ হাজার টাকাও দাবি জানিয়েছে। আমি একটি শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, আবার একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও যুক্ত। এখানে যা চূড়ান্ত হবে, সেটা বাস্তবায়ন করতে হবে। শ্রমিক বেকার হবে, এমন হারে মজুরি বৃদ্ধি করা যায় না। একজন শ্রমিক যাতে কোনোভাবে জীবনযাপন করতে পারেন, সে চিন্তা থেকেই ১২ হাজার ২০ টাকার প্রস্তাব করছি। ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে গ্রেড কমানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছি।

লিখিত প্রস্তাবনা অনুযায়ী, শ্রমিকপক্ষ গ্রেড ১ থেকে গ্রেড ৭ পর্যন্ত মোট যথাক্রমে ২১ হাজার ৫০, ১৭ হাজার ৫৫০, ১৬ হাজার ১৫০, ১৪ হাজার ৯৬০, ১৩ হাজার ৯১০, ১২ হাজার ৯৩০ এবং ১২ হাজার ২০ টাকা মজুরি প্রস্তাব করেছে। বিশেষ বিবেচ্য হিসেবে মূল মজুরির ওপর ১০ শতাংশ হারে বার্ষিক মজুরি বৃদ্ধি, উৎসব ভাতা, বৈশাখী ভাতা মূল মজুরির ২০ শতাংশ, সন্তানদের শিক্ষাসহায়তার বিষয় উল্লেখ করেছে শ্রমিকপক্ষ। এছাড়া শিক্ষানবিশ শ্রমিকের কাজের সময় তিন মাস নির্ধারণ এবং এই সময়ে শ্রমিকের মজুরি প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়েছে শ্রমিকপক্ষ।