সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
ঋতু পরিবর্তনের সময়গুলো ত্বকের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে। বিশেষ করে হেমন্তের শীতল ও শুষ্ক আবহাওয়ায় ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় গ্রীষ্মের আর্দ্রতা কমে গিয়ে বাতাস শুষ্ক হতে শুরু করে। ফলে ত্বক রুক্ষ, শুষ্ক এবং নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
তাই হেমন্তে ত্বক ভালো রাখতে প্রয়োজন বিশেষ যত্ন। আসুন জেনে নেই হেমন্তে ত্বকের যত্নের কিছু সহজ উপায়।
ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন
হেমন্তকালে ত্বক দ্রুত শুষ্ক হয়ে যায়, তাই ত্বকে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য ভালো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার, এটা ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং শুষ্কতা কমাতে সহায়তা করে।

ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করার সময় ত্বকের ধরন অনুযায়ী পণ্য নির্বাচন করুন। যেমন, শুষ্ক ত্বকের জন্য ভারী ময়েশ্চারাইজার ক্রিম ব্যবহার করুন। এ ধরনের ময়েশ্চারাইজার ত্বকে আর্দ্রতা অনেকক্ষণ ধরে রাখতে সাহায্য করে।
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য লাইট ওয়েট বা ওয়াটার বেসড ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা ভালো।
এটাও আর্দ্রতা বজায় রাখে কিন্তু ত্বক তৈলাক্ত করে না। সংবেদনশীল ত্বকের জন্য অ্যালোভেরা বা শিয়া বাটার সমৃদ্ধ ময়েশ্চারাইজার ত্বকের জন্য আরামদায়ক হতে পারে। প্রতিদিন সকালে ও রাতে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বক আর্দ্র ও নরম থাকবে।
সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে ভুলবেন না
হেমন্তে সূর্যের তাপ কম থাকে, তাই অনেকেই এ সময় সানস্ক্রিনের প্রয়োজন আছে অনুভব করেন না। কিন্তু সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি সারাবছরই ত্বকের ক্ষতি করে।
হেমন্তে বাইরে যাওয়ার ১৫-২০ মিনিট আগে ত্বকে এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি মাত্রার সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। এটি ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করে, যাতে ত্বক ঝকঝকে ও তরতাজা থাকে।
এক্সফোলিয়েশন করতে ভুলবেন না
এ সময় মৃতকোষ জমে ত্বককে নিস্তেজ ও রুক্ষ করে তোলে। হেমন্তে সপ্তাহে একবার বা দুইবার মৃদু এক্সফোলিয়েশন করুন। এতে ত্বকের মৃতকোষ দূর হয় এবং নতুন কোষের বিকাশ সহজ হয়। প্রাকৃতিক উপাদান, যেমনুচিনি ও মধু দিয়ে সহজেই এক্সফোলিয়েটর তৈরি করা যায়। তবে, অতিরিক্ত এক্সফোলিয়েশন ত্বককে শুষ্ক ও স্পর্শকাতর করে তুলতে পারে।
লিপ বাম ব্যবহার করুন
হেমন্তের শুষ্ক বাতাসের প্রভাবে সহজেই ঠোঁট ফেটে যায়। তাই ঠোঁটের যত্ন লিপ বাম ব্যবহার করা উচিত। ময়েশ্চারাইজিং লিপ বাম অথবা নারিকেল তেল, মধু, ও শিয়া বাটার সমৃদ্ধ লিপ বাম ঠোঁটকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। প্রয়োজনে ঠোঁটে এক্সফোলিয়েশন করেও মৃত কোষ দূর করতে পারেন।
ঠান্ডা পানি মুখ পরিষ্কার
গরম পানি দিয়ে মুখ ধুলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল উঠে যায়। ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে ওঠে। তাই হেমন্তে গরম পানির বদলে কুসুম গরম বা ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধোয়া উচিত। এটি ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে।
শরীরেও য়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন
ত্বকের যত্ন কেবল মুখেই সীমাবদ্ধ নয়; পুরো শরীরের সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবার গোসলের পর শরীরে ময়েশ্চারাইজার মাখুন। শিয়া বা কোকো বাটার সমৃদ্ধ লোশন ব্যবহার করা ভালো। কারণ এগুলো ত্বকে দীর্ঘসময় আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
পর্যাপ্ত পানি ও সঠিক খাবার খান
হেমন্তে পানি পানের হার কমে যেতে পারে। কিন্তু ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে শরীরে যথেষ্ট পানি থাকা জরুরি। ত্বককে ভেতর থেকে আর্দ্র রাখতে প্রচুর পানি পান করুন। এছাড়া পুষ্টিকর খাবার যেমন ভিটামিন এ, সি এবং ই সমৃদ্ধ শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়ার চেষ্টা করুন। এগুলো ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সহায়তা করে এবং ত্বককে উজ্জ্বল রাখে।
ঘুম এবং মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিন
পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপমুক্ত থাকা ত্বকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘুম কম হলে বা মানসিক চাপ থাকলে ত্বকে ক্লান্তি দেখা দেয়। ফলে চেহারায় বয়সের ছাপ পড়তে শুরু করে। হেমন্তে রাতের ঘুম সুনিশ্চিত করুন। মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে প্রতিদিন একটু হাঁটুন, মেডিটেশন করুণ বা পছন্দের কাজে সময় কাটান।
প্রাকৃতিক ফেস প্যাক ব্যবহার করুন
প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে সহজেই তৈরি ফেস প্যাক করতে পারেন। যেমন, মধু প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার, আর দই ত্বককে ঠান্ডা ও মসৃণ করে। শুকনো ত্বকের জন্য কলা এবং ওটসের ফেস প্যাক অত্যন্ত কার্যকর। অ্যালোভেরা ও শসার রস ত্বকের শুষ্কতা কমিয়ে আনে এবং ত্বকে প্রাকৃতিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। প্রাকৃতিক প্যাক সপ্তাহে এক-দুইবার ব্যবহার করুন।
হেমন্তে ত্বকের যত্নের জন্য এই সহজ অভ্যাসগুলো মেনে চললে আপনার ত্বক থাকবে মসৃণ, আর্দ্র এবং উজ্জ্বল। এই ঋতু পরিবর্তনের সময়টাতে ময়েশ্চারাইজার, সানস্ক্রিন, পানি, পুষ্টিকর খাবার এবং সঠিক ঘুম ত্বককে সতেজ রাখতে সহায়তা করে। প্রকৃতির এই শীতল ঋতুতে যদি ত্বকের প্রতি একটু যত্নশীল থাকেন, তবে আপনার ত্বকও থাকবে সুন্দর এবং প্রাণবন্ত।
সূত্র: কালের কণ্ঠ









