সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
মদিনা থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে মক্কার দিকে আট মাইল বা ১২ কি. মি. দূরে অবস্থিত একটি জায়গা ‘হামরাউল আসাদ’। কুরাইশ বাহিনী পুনরায় হামলা করতে পারে এই আশঙ্কায় ওহুদ যুদ্ধের পরদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) ৮ শাওয়াল তাদের পশ্চাদ্ধাবনের জন্য পুনরায় যুদ্ধ যাত্রা করেন শুধু ওই সেনাদের নিয়ে, যারা আগের দিন ওহুদ যুদ্ধে শরিক ছিলেন। যাদের সংখ্যা ছিল ৭০ জন। পরে যোগদানকারী সাহাবিসহ মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৩০ জন।
(আল-বিদায়াহ ৪/৪৮-৪৯)
হামরাউল আসাদ পৌঁছে মাবাদ বিন আবু মাবাদ আল-খুজাঈ নামক জনৈক ব্যক্তি মুসলমান হন। তিনি রাসুল (সা.)-এর হিতাকাঙ্ক্ষী ছিলেন। তা ছাড়া বনু হাশেম ও বনু খুজাআহর মধ্যে জাহেলি যুগ থেকেই মৈত্রীচুক্তি ছিল। তিনি রাসুল (সা.)-এর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে আবু সুফিয়ানের কাছে গমন করেন।

আবু সুফিয়ানের বাহিনী তখন মদিনা থেকে ৬৮ কি. মি. দক্ষিণে ‘রাওহা’ নামক স্থানে অবতরণ করেছে। সে সময় সাথীদের চাপে আবু সুফিয়ান পুনরায় মদিনায় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ অবস্থায় মাবাদ সেখানে পৌঁছে যান এবং আবু সুফিয়ানকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পশ্চাদ্ধাবন বিষয়ে অবহিত করেন। অতঃপর তাকে দারুণভাবে ভীত করে ফেলেন।
এমনকি এ কথাও বলেন যে মুহাম্মাদের বিশাল বাহিনী টিলার পেছনে এসে গেছে। তোমরা এখুনি পালাও। আবু সুফিয়ান তার ইসলাম গ্রহণের কথা জানতেন না। ফলে তার কথায় বিশ্বাস করে দ্রুত মক্কায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। তবে মাবাদকে বলে দিলেন তুমি মুহাম্মাদকে জানিয়ে দিয়ো যে আমরা অতি সত্বর পুনরায় তাদের ওপর হামলা করব এবং তাকে ও তার সাথীদের নিশ্চিহ্ন করে ফেলব।
মাবাদ রাজি হলেন। অতঃপর তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে উক্ত খবর জানালে মুসলিম বাহিনীর ঈমানি তেজ আরো বেড়ে যায় এবং তারা বলে ওঠেন, ‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল’ (আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। আর তিনি কতই না সুন্দর তত্ত্বাবধায়ক)।
এর মাধ্যমে দুই ঈমানি কণ্ঠের মিল হয়ে যায়। প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে নমরুদের আগুনে নিক্ষেপকালে পিতা ইবরাহিম (আ.) একই কথা বলেছিলেন।
আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.) বলেন, ‘হাসবুনাল্লাহ… কথাটি ইবরাহিম (আ.) বলেছিলেন যখন তিনি আগুনে নিক্ষিপ্ত হন। আর একই কথা মুহাম্মাদ (সা.) বলেছিলেন যখন লোকেরা তাঁকে বলল যে শত্রুরা তোমাদের বিরুদ্ধে সমবেত হচ্ছে। অতএব তাদের তোমরা ভয় করো। এ কথা তাদের ঈমান আরো বৃদ্ধি করে দেয় এবং তারা বলে ওঠে ‘হাসবুনাল্লাহ….’ (বুখারি, হাদিস : ৪৫৬৩)
আসলে সব যুগের ঈমানদাররা চূড়ান্ত বিপদে সর্বদা একই কথা বলে থাকেন।
অন্য দিকে আবু সুফিয়ানের গুপ্তচর মুআবিয়া বিন মুগিরা বিন আবুল আস যে ব্যক্তি উমাইয়া খলিফা আব্দুল মালেক ইবনে মারওয়ানের নানা ছিল, মদিনায় পৌঁছে তার চাচাতো ভাই ওসমান (রা.)-এর নিকটে আশ্রয় নেয়। ওসমানের আবেদনক্রমে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে তিন দিনের জন্য অনুমতি দেন এবং বলেন, এর পর পাওয়া গেলে তাকে হত্যা করা হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনা ছেড়ে গেলে সে গোপন সংবাদ সংগ্রহে লিপ্ত হয় এবং চার দিন পর তিনি ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে পালিয়ে যায়। তখন তিনি জায়েদ বিন হারেসা ও আম্মার বিন ইয়াসিরকে পাঠান এবং তার পিছু ধাওয়া করে তাকে পাকড়াও করে হত্যা করেন। (ইবনু হিশাম ২/১০৪)
এভাবে ওহুদ যুদ্ধের পরবর্তী চক্রান্ত শেষ করে দিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) নিশ্চিন্ত হন।
(নবীদের কাহিনী গ্রন্থ অবলম্বনে)









