ধর্ম

সৃষ্টির পরতে পরতে স্রষ্টার পরিচয়

নিউজ ডেস্ক২৬ এপ্রিল ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

اَوَ لَمۡ یَرَ الَّذِیۡنَ كَفَرُوۡۤا اَنَّ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضَ كَانَتَا رَتۡقًا فَفَتَقۡنٰهُمَا ؕ وَ جَعَلۡنَا مِنَ الۡمَآءِ كُلَّ شَیۡءٍ حَیٍّ ؕ اَفَلَا یُؤۡمِنُوۡنَ

সরল অনুবাদ
যারা কুফরি করে তারা কি ভেবে দেখে না যে, আসমানসমূহ ও জমিন ওতপ্রোতভাবে মিশে ছিল, তারপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম, আর আমি সকল প্রাণবান জিনিসকে পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। তবুও কি তারা ঈমান আনবে না?

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

اَوَ لَمۡ یَرَ ‘তারা কি দেখে না’ এখানে বাহ্যিক চক্ষু দিয়ে দেখা নয় বরং অন্তর চক্ষু দিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, তারা কি চিন্তা-ভাবনা করে না? তারা কি জানে না? (ফাতহুল কাদির)

رتق শব্দের অর্থ বন্ধ হওয়া, আর فتق এর অর্থ খুলে দেয়া। উভয় শব্দের সমষ্টি رتق ও فتق কোন কাজের ব্যবস্থাপনা ও তার পূর্ণ ক্ষমতার অর্থে ব্যবহৃত হয়।

সে হিসেবে আয়াতের অনুবাদ এই দাঁড়ায় যে, আকাশ ও পৃথিবী বন্ধ ছিল। আমি এদের খুলে দিয়েছি। ইবনে আব্বাস (রা.)-থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন এর অর্থ হচ্ছে; আসমান ও জমিন পরস্পর মিলিত ছিল তারপর আল্লাহ সে দুটিকে পৃথক করেছেন। ইমাম হাসান ও কাতাদা (রা.) বলেন, এদুয়ের মধ্যে আল্লাহ বাতাস দ্বারা পৃথকীকরণ করেছেন।

(ইবনে কাসির, কুরতুবি)

মোটকথা, এ শব্দগুলো থেকে যা বুঝা যায় তা হলো, বিশ্ব-জাহান প্রথমে একটি পিণ্ডের আকারে ছিল। পরবর্তীকালে তাকে পৃথক পৃথক অংশে বিভক্ত করে পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহ, নক্ষত্র, ছায়াপথ, নীহারিকা ইত্যাদি স্বতন্ত্র জগতে পরিণত করা হয়েছে। কোন কোন মুফাসসির বলেন, এখানে বন্ধ হওয়ার অর্থ আকাশের বৃষ্টি ও মাটির ফসল বন্ধ হওয়া এবং খুলে দেয়ার অর্থ উভয়কে খুলে দেয়া। (কুরতুবি)

প্রত্যেক প্রাণী সৃজনে পানির অবশ্যই প্রভাব আছে।

এসব বস্তু সৃজন, আবিষ্কার ও ক্রমবিকাশে পানির প্রভাব অপরিসীম। তাই পানির অর্থ বৃষ্টির পানি বা ঝরনার পানি হলেও একথা পরিষ্কার যে, পানি দ্বারা উদ্ভিদ জন্মে এবং প্রতিটি জীবের নবজীবন লাভ হয়। আর যদি এর অর্থ বীর্য হয়, তাহলেও অর্থের কোন সমস্যা হয় না। কারণ প্রতিটি জীবের অস্তিত্বের মূলে রয়েছে এই বীর্য। যা পুরুষের পৃষ্ঠদেশ হতে বের হয়ে স্ত্রীর গর্ভে পৌছে, তারপর সন্তান জন্ম হয়।

(তাফসিরে আহসানুল বায়ান,তাফসিরে জাকারিয়া)
শিক্ষা ও বিধান

১. সমগ্র মহাবিশ্ব কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়; বরং এক সর্বশক্তিমান স্রষ্টার পরিকল্পিত সৃষ্টি।

২. বিশ্বজগতের একটি শুরু আছে—এটি চিরন্তন নয়। তাই এর স্রষ্টাও আছেন, যিনি একে সৃষ্টি করেছেন।

 

৩. জীবনের মূল উপাদান পানি। এটি আল্লাহর একটি মহান নিয়ামত, যার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।

৪. ইসলাম অন্ধ বিশ্বাসের ধর্ম নয়; বরং পর্যবেক্ষণ, চিন্তা ও জ্ঞান অর্জনের প্রতি উৎসাহ দেয়। এবং মানুষের চিন্তা ও গবেষণাকে উদ্দীপিত করে।

৫. সত্য উপলব্ধির পর তা অস্বীকার করা এক ধরনের অবিচার ও অহংকার। তাই এত সুস্পষ্ট নিদর্শনের পরও যারা ঈমান আনে না, তাদের আচরণ প্রশ্নবিদ্ধ।