জাতীয়

সুনামগঞ্জে নির্মীয়মাণ যাদুকাটা সেতুর ৫ স্লাব ধস

নিউজ ডেস্ক১৮ মে ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

সুনামগঞ্জের যাদুকাটা সীমান্ত নদীর ওপর নির্মীয়মাণ সেতুর পাঁচটি স্লাব ধসে পড়েছে। দীর্ঘ আট বছরেও সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ার মধ্যেই রবিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণেই স্লাবগুলো ধসে পড়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ৭৫০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় ৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি পায় তমা কনস্ট্রাকশন। ২০২১ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ২০২৬ সালেও প্রকল্পটি সম্পন্ন হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে ও অনুমোদিত নকশা ও প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ করা হয়নি। এর ফলে সেতুর নির্মীয়মাণ অংশের পাঁচটি স্লাব ভেঙে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, রড, সিমেন্ট, বালু ও পাথরের সঠিক অনুপাত অনুসরণ না করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

এলজিইডির তদারকি কাজে দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা।

এতে প্রকল্পের বিভিন্ন অংশে নিম্নমানের কাজ হয়েছে বলে দাবি তাদের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সেতুটিতে মোট ৭৫টি গার্ডার নির্মাণের কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত ৫৯টি নির্মিত হয়েছে। ১৫টি স্প্যানের মধ্যে ১১টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ১৫টি স্লাবের মধ্যে পাঁচটি ধসে পড়েছে। প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে প্রায় ৬৮ কোটি টাকা ইতোমধ্যে উত্তোলন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

 

দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ ও ধীরগতির কারণে স্থানীয়রা একাধিকবার মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় পাঁচ মাস আগে তমা কনস্ট্রাকশনের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে তাদের কালো তালিকাভুক্ত করে এলজিইডি। পরে অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের জন্য গত সপ্তাহে দরপত্র আহ্বান করা হয়।

স্থানীয়রা বলছেন, নতুন করে দরপত্র প্রক্রিয়ার মধ্যেই স্লাব ধসে পড়ায় সেতুর কাজের মান নিয়ে আবারো প্রশ্ন উঠেছে।

বাদাঘাট এলাকার বাসিন্দা ও সমাজসেবী আবুল হোসেন বলেন, ‘প্রায় দুই বছরের প্রকল্প আট বছরেও শেষ হয়নি। এর মধ্যে সেতু চালুর আগেই পাঁচটি স্লাব ভেঙে পড়েছে। এটি স্পষ্টভাবে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ। দ্রুত কাজ শেষ করে মানুষের যাতায়াত সহজ করতে হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

তাহিরপুর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল রাতে ৫টি স্লাব ভেঙে পড়েছে। কেন ভেঙে পড়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হবে। আগের ঠিকাদার নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় তাদের সঙ্গে আমাদের চুক্তি ৫ মাস আগে বাতিল করা হয়েছে। গত সপ্তাহে নতুন দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।’

নির্মাণকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘কেন স্লাব ভেঙে পড়েছে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন ভালো বলতে পারবেন। তবে আমরা সরেজমিনে গিয়ে তাদের কাউকে পাইনি।’