অর্থ ও বাণিজ্য

সুদহার এক অঙ্কে নামাতে শিগগির প্রজ্ঞাপন

নিউজ ডেস্ক৫ আগস্ট ২০১৯৪ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

সুদের হার এক অঙ্কে নামাতে শিগগির প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেছেন, ১৪, ১৫, ১৬ শতাংশ সুদহার হিসাব করে কী লাভ- দিতে পারবে না, শুধু খেলাপি ঋণই বাড়বে। এ ছাড়া খেলাপি ঋণ কমাতে বারবার ঋণ অবলোপন করা হয়।

এতে দেশের কী লাভ? তাই এখন থেকে সরল সুদে ঋণ দিতে হবে। রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘সিঙ্গেল ডিজিট কার্যকর সংক্রান্ত সার্কুলারটি শিগগির জারি করা হবে। সার্কুলার জারি করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।’

তবে এ ঘোষণাকে আইওয়াশ মনে করছেন অনেকে। কারণ এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক সিঙ্গেল ডিজিট কার্যকরের পরামর্শ দিয়ে ব্যাংকগুলোকে দু’বার চিঠি দিয়েছিল। বর্তমান ও সাবেক অর্থমন্ত্রী সিঙ্গেল ডিজিট কার্যকরে বহুবার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এমনকি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও একাধিকবার ব্যাংক মালিকদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন- কেন তারা সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনছেন না। তবুও বেসরকারি খাতের কোনো ব্যাংক গত এক বছরে সিঙ্গেল ডিজিট শতভাগ কার্যকর করেনি। অনেকের প্রত্যাশা, এবার সিঙ্গেল ডিজিট কার্যকরের সার্কুলার হলে তা যেন বাস্তবায়ন হয়। এ ছাড়া সরকার ঋণখেলাপিদের একের পর এক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে গেছে। কিন্তু ভালো ঋণগ্রহীতাদের কিছুই দেয়নি।

জানতে চাইলে ইএবির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম বলেন, এটা এক ধরনের আইওয়াশের মতো। বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার কেউ মানে না। এর আগেও তারা সুদের হার কমাতে অনেক নির্দেশনা দিয়েছে। কোনো ব্যাংক শোনেনি। এটা কার্যকর করতে হলে সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে। তিনি বলেন, উচ্চ সুদের কারণে আমরা ঋণখেলাপি হচ্ছি। অনেকে ব্যবসা চালাতে না পেরে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছেন। মূলত ব্যাংকে যেসব লুটপাট হয়েছে, সে টাকা উচ্চ সুদের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে।

গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে বৈঠকে বেসরকারি ৪০টি ব্যাংকের চেয়ারম্যান-এমডি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চক্রবৃদ্ধি হারে নয়, সরল সুদে বেসরকারি ব্যাংকের মালিকরা ঋণ দেবেন কি না, জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, তাদেরকে ব্যাংক ব্যবসার অনুমোদন কে দিয়েছে? বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক। যারা ব্যাংক দিতে পারে তারা বাতিলও করতে পারে। সুতরাং কী বলতে চেয়েছি, বাকিটা বুঝে নেন। সরকার দেশের মানুষের স্বার্থে সবকিছুই করবে। আমি আশা করব, ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার বাইরে যেতে পারবে না

সিঙ্গেল ডিজিটসহ বিভিন্ন নীতিমালা বাস্তবায়ন নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। এ মুহূর্তে সরকারিসহ মোট ১৬টি ব্যাংক ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে সিঙ্গেল ডিজিট বাস্তবায়ন করেছে। ধীরে ধীরে সব ব্যাংকই সিঙ্গেল ডিজিট কার্যকরের আওতায় চলে আসবে।

তিনি বলেন, সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে ব্যাংক খাতের সব পরিস্থিতি ভালো হয়ে আসবে। বিশেষ করে তারল্য সংকট, খেলাপি ঋণ কমানোর পাশাপাশি ব্যাংক খাতের সার্বিক পরিস্থিতি উন্নয়নে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। যা অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে সংবাদমাধ্যমকে জানানো হবে।

ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের বিদ্যমান আইনে তাদের নির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা নেই, তবে তার মধ্যে থেকেও যতটুকু আইনি ব্যবস্থা নেয়া যায় তা নিচ্ছি। কিন্তু নতুনভাবে যে আইন আসছে সেখানে সবকিছুর পরিষ্কার বিবরণ থাকবে। ক্ষতিগ্রস্ত কেউই হবে না বরং সবাই উপকৃত হবে।

খেলাপি ঋণের বিষয়ে তিনি বলেন, যারা টাকা নিয়েছে না দেয়ার উদ্দেশ্যে, তাদেরকে কোনোভাবে ছাড় দেয়া হবে না। তাদের শান্তিতে থাকতে দেয়া হবে না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ফারমার্স ব্যাংক যখন সংকটের মুখে পড়েছিল তখন আমরা তাদেরকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছি। এ মুহূর্তে বেসিক ব্যাংক একটি দুর্দশাগ্রস্ত সময় পার করছে। আমরা তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছি। দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে হলে সবাই মিলেই এগিয়ে যেতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে না।

মন্ত্রী বলেন, হঠাৎ করে দেশের অর্থনীতি বড় হয়ে যাওয়ায় ব্যাংকিং খাত সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। এখন সেই পরিস্থিতি মোকাবেলায় কিছুটা সময় প্রয়োজন। আশা করি, খুব শিগগির আমরা সেই জায়গায় পৌঁছাতে পারব। আমরা চাইলেই একটি ব্যাংক বন্ধ করে দিতে পারি না, কারণ এগুলো দেশের সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা। চাইলেই একটি ব্যাংক বন্ধ করে দেয়া সম্ভবও নয়।