জাতীয়

সীতাকুণ্ডে ‎সমুদ্রসৈকতে পর্যটক ও দোকানিদের সংঘর্ষ, আহত ১২

নিউজ ডেস্ক৯ মে ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

‎চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সমুদ্রসৈকতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৮ পর্যটকসহ ১২ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৯ মে) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার গুলিয়াখালি সমুদ্রসৈকতে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শনিবার সকাল ১১টার দিকে সীতাকুণ্ডের মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে আসা একদল পর্যটক পর্যায়ক্রমে দোলনাতে বসে দোল খায়।

এতে দোলনাটি ভেঙে পড়লে স্থানীয় এক দোকানি এগিয়ে এসে বকাঝকা করেন। এ নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার এক পর্যায়ে স্থানীয় কিছু এলাকাবাসী ওই দোকানির পক্ষ নিলে দুই পক্ষের সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে ৮ পর্যটক ও ৪ স্থানীয় বাসিন্দা আহত হন।
পর্যটকদের মধ্যে আহতরা হলেন শেখ জাহিল আবরার (২১), তাজিম (২৪), মো. রাজু (২২), মো. ফজলে রাব্বি (২১), মো. রাদ (২১), সৈয়দ তাসফিকুল ইসলাম (২৫), মো. আলিফ (২১) ও মেহেদী হাসান (২২)।

এদের মধ্যে একজন ময়মনসিংহ, একজন মানিকগঞ্জ এবং বাকিরা ঢাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তারা ঢাকা বারিধারার নতুনপাড়া এলাকায় অবস্থিত (ইউআইটিএস)-এর শিক্ষার্থী। আহতের মধ্যে রাব্বিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদিকে ‎আহত স্থানীয়দের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
‎‎গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত কমিটির সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, সকালে গুলিয়াখালি সৈকত এলাকায় ঢাকা থেকে আসা কয়েকজন পর্যটক একটি দোলনায় বসতে গিয়ে ভেঙে ফেলে। সেসময় স্থানীয় দোকানদারদের সঙ্গে পর্যটকদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের ১২ জন আহত হয়েছে।

‎‎আহত পর্যটক শিক্ষার্থী মাহীন জানান, তারা দশজন বন্ধু গুলিয়াখালি সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে এসেছেন।

তাদের মধ্যে দুজন দোলনা দেখে চড়তে যান। এই দোলনা বসাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কিছু লোক তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। পরে তারা বিষয়টি মীমাংসা করতে এলে তাদের ওপরও হামলা চালায়। এতে তারা আটজন আহত হন। এ ছাড়া তাদের কয়েকজনের মোবাইলও ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ কল দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার আগেই মোবাইলগুলো দিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
ক্ষোভ প্রকাশ করে মাহীন বলেন, দলবদ্ধ হয়ে অনেক জায়গায় বেড়াতে গিয়েছি। কিন্তু আজকে বেড়াতে এসে অসহায় হয়ে গেলাম। কখনো আর এখানে বেড়াতে আসব না এবং কাউকে বেড়াতে আসতে বলব না।
‎সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন বলেন, আহত আটজনের মধ্যে সাতজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু একজনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে গুলিয়াখালীর বাসিন্দা সোহারাব হোসেন বলেন, দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় ৪ গ্রামবাসী আহত হয়েছে।

‎সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিনুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পর্যটকদের উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। হামলাকারীদের কাউকে পাওয়া যায়নি। অভিযুক্তদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।