অর্থ ও বাণিজ্য

সরকারি দরে চামড়া নেই

নিউজ ডেস্ক৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

চট্টগ্রাম নগরের আতুরার ডিপোর আড়তগুলোতে কোরবানি পশুর কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ চলছে। গতকাল শনিবার রাত থেকে নগর ও জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে কোরবানি পশুর চামড়া আসছে আড়তে। তবে সরকার নির্ধারিত দরে চামড়া কেনা সম্ভব হয়নি বলে জানান আড়তদারেরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আতুরার ডিপোর প্রায় ৩০০টি আড়ত আগে থেকে চামড়া সংরক্ষণের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। গতকাল কোরবানির পর বিকেল থেকে আড়তে চামড়া আড়তে শুরু করে। এর পর চামড়া সংরক্ষণে নিয়োজিত শ্রমিকেরা তাতে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করতে থাকে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আগে থেকে চামড়ার দর নির্ধারণ করে দেয়। চট্টগ্রামে প্রতি বর্গফুট চামড়া ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় কেনার কথা ছিল। কিন্তু আড়তদারদের দাবি মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনতে বেশি দাম দিয়েছে। তাই আড়তদারেরা নির্ধারিত দামে কিনতে পারেনি। পাশাপাশি লবণের দাম বেশি থাকায় চামড়া সংরক্ষণ ব্যয়ও বাড়বে বলে তাদের দাবি।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমবায় সমিতির সভাপতি মো. সেকান্দর বলেন, মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চামড়া কিনতে খরচ বেশি পড়েছে। এখন প্রতিটি চামড়া গড়ে ১৪০০ টাকায় কিনতে হয়েছে। এর সঙ্গে ৩৫০ টাকার সংরক্ষণ খরচ পড়বে। তা ছাড়া এবার আতুরার ডিপোতে চামড়া কম আসায় কাড়াকাড়ি পড়েছে। ফলে ফুট প্রতি চামড়া ৫৫ থেকে ৬০টাকা পড়বে।

জানা গেছে, এবার আতুড়ার ডিপোর আড়তগুলোতে আড়াই লাখের বেশি চামড়া এসেছে। অন্যান্য বছর এর চেয়ে আরও বেশি আসে। এবার পটিয়া, কক্সবাজার, চৌমুহনীসহ বিভিন্ন স্থানে চামড়ায় লবণ দিয়ে অনেকে সংরক্ষণ করে রেখেছেন বলে আড়তদারদের দাবি। যার জন্য অল্প চামড়া নিয়ে আতুরার ডিপোতে কাড়াকাড়ি পড়ে। এটিও দাম বৃদ্ধির আরেকটি কারণ বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, প্রতি বস্তা লবণ (৭৪ কেজি) ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩৫০টাকায় কিনতে হয়েছে।

চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমবায় সমিতির সহসভাপতি আবদুল কাদের বলেন, চামড়া কম এসেছে। গরু ছাগল মিলে পাঁচ লাখ লক্ষ্যমাত্রা ছিল। এখন মাত্র দুই লাখের কিছু বেশি চামড়া এসেছে। তাই দামও বেশি পড়েছে।

আগামী দুই একদিনের মধ্যে বিভিন্ন স্থান থেকে লবণ দেওয়া আরও কিছু চামড়া আসবে বলে মনে করছেন আড়তদারেরা। এসব চামড়া সংরক্ষণ করে ট্যানারি ব্যবসায়ীদের জন্য অপেক্ষা করবে। ১০ -১৫ দিন পর ট্যানারি ব্যবসায়ীরা ঢাকা থেকে এসে এসব চামড়া নিয়ে যাবে। উল্লেখ্য চট্টগ্রামের দুটি ট্যানারি থাকলেও পরিবেশগত ছাড়পত্র না থাকায় এগুলো এখন বন্ধ রয়েছে।

এদিকে, লবণের দাম বৃদ্ধিতে চামড়া সংরক্ষণে খরচ বেশি পড়ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। প্রতি বস্তা লবণ (৭৪ কেজি) কেনা পড়েছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩৫০টাকায়।

 

সূত্র: প্রথম আলো