ধর্ম

সমুদ্রতীরে ৩০০ সাহাবির অলৌকিক রিজিক

নিউজ ডেস্ক৫ মে ২০২৬২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

আবু আব্দুল্লাহ জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার মহানবী (সা.) আমাদের কোনো এক যুদ্ধে পাঠান। তখন আমাদের দলপতি ছিলেন উবাদাহ (রা.)। আমাদের কুরাইশদের একটি শত্রুবাহিনীর পিছু ধাওয়া করার জন্য পাঠানো হয়েছিল। যাওয়ার সময় মহানবী (সা.) আমাদের মাত্র এক ব্যাগ খেজুর দিয়েছিলেন, এ ছাড়া দেওয়ার মতো আর কিছু তাঁর কাছে ছিল না।

(খাবারের সময় হলে বা আমাদের কারো খিদে পেলে) উবাইদা (রা.) আমাদের একটি করে খেজুর দিতেন। বর্ণনাকারী সাহাবিকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনারা সামান্য একটি খেজুর দিয়ে কিভাবে কী করতেন? তিনি বললেন, আমরা সেই খেজুর বাচ্চাদের চুষার মতো চুষে পানি পান করতাম। ফলে এটা আমাদের দিন-রাতের জন্য যথেষ্ট হতো। আমরা লাঠি দিয়ে পাতা পেড়ে তা ভিজিয়ে পান করতাম।

তারপর আমরা একবার সমুদ্রপথ অতিক্রম করছিলাম, তখন সমুদ্রতীরে বালুর স্তূপের মতো কিছু দেখতে পেয়ে কাছে গিয়ে দেখলাম যে বড় একটি প্রাণী, যাকে আম্বর মাছ বলা হয়। আবু উবাইদাহ (রা.) বললেন, এটা তো মরা মাছ। এরপর বললেন, এটা হারাম নয়। আমরা যেহেতু নবিজির দূত ও আল্লাহর পথে জিহাদে বের হয়েছি, তাই নিরুপায় হয়ে তোমরা তা আহার করতে পারো।

ফলে আমরা তিন শত লোক ওই আম্বর মাছ আহার করে এক মাস অতিবাহিত করলাম। আমরা মোটা হয়ে গেলাম। আমরা ওই মাছের চোখ থেকে চর্বি বের করতাম এবং ষাঁড়ের গোশতের মতো গোশত কেটে রাখতাম। তো একবার আবু উবাইদাহ (রা.) আমাদের থেকে ১৩ জন লোক ডেকে নিয়ে সেই মাছের চোখের এক কোণে বসালেন…।
তারপর সেই মাছের গোশতের টুকরো আমাদের পাথেয় হিসেবে দিলে আমরা তা মদিনায় এসে মহানবী (সা.)-এর কাছে পুরো বিষয়টি খুলে বললাম।

তখন মহানবী (সা.) বললেন, সেটা তো তোমাদের জন্য রিজিক ছিল, আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য তা বের করেছেন। সেই মাছের কোনো অংশ তোমাদের কাছে অবশিষ্ট আছে? তা থেকে আমাদের খাওয়াতে পারবে? এ কথা শুনে আমরা তার সামনে পেশ করলাম এবং মহানবী (সা.) সেখান থেকে আহার করলেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর : ৪৯৯৮, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নম্বর : ১৪৩৩৮)