সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
বরিশালের আদালতের এজলাস ভাঙচুরের আলোচিত মামলায় জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সরকারি কৌঁসুলিসহ ১২ আসামির মধ্যে ১১ জনকে জামিন দিয়েছেন আদালত। অপর এক আসামির জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার (২ মার্চ) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে দ্রুত বিচার আদালতে জামিন শুনানি শেষে এই আদেশ দেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মিরাজুল ইসলাম রাসেল।

জামিনপ্রাপ্তরা হলেন বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. সাদিকুর রহমান লিংকন, সাধারণ সম্পাদক মির্জা রিয়াজুল ইসলাম, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি আবুল কালাম আজাদ, মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক নাজিমউদ্দিন পান্না, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মহসিন মন্টু, আব্দুল মালেক, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এপিপি সাঈদ চৌধুরী, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এপিপি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বাবলু, মহানগর দায়রা জজ আদালতের এপিপি ও বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি তারেক আল ইমরান, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্যসচিব আবুল কালাম আজাদ ইমন এবং বসিরউদ্দিন সবুজ।
আদালত সূত্র জানায়, অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদারের দায়ের করা মামলায় ১২ জন আইনজীবীর জামিন শুনানি হয়। শুনানি শেষে ২০০ টাকার মুচলেকায় ১১ জনকে জামিন দেওয়া হলেও ৬ নম্বর আসামি মিজানুর রহমান সাঈদের জামিন বাতিল করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আসামিপক্ষের অন্যতম আইনজীবী কে এম জুবায়ের বলেন, আদালত মামলার নথি ও যুক্তি বিশ্লেষণ করে ১১ জনের জামিন মঞ্জুর করেছেন। তিনি জানান, মামলার প্রধান আসামি জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে পুলিশ আগেই গ্রেপ্তার করেছিল।
আজ অন্য আসামিরা হাজিরা দিয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত একজন ছাড়া বাকিদের জামিন দেন।
জামিন শুনানিকে ঘিরে জেলা জজ আদালত এলাকায় ছিল কড়া নিরাপত্তা। আদালত প্রাঙ্গণে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্যকে সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়।
মামলার পটভূমিতে জানা যায়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনূসের জামিনের প্রতিবাদে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় বিএনপিপন্থী কয়েকজন আইনজীবী বিক্ষোভে জড়ান। ওইদিনই অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেন। এতে ১২ জনকে আসামি করা হয়। সাদিকুর রহমান লিংকনকে করা হয় প্রধান আসামি।
ওই ঘটনার জেরে টানা তিন দিন আদালতের কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
পরে জেলা আইনজীবী সমিতি অনির্দিষ্টকালের জন্য আদালত বর্জনের ঘোষণা দিলেও গত রবিবার থেকে পুনরায় বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।









