জাতীয়

শ্রম আইনের সংশোধনীতে বেশ কিছু অসংগতি রয়ে গেছে

নিউজ ডেস্ক২৯ এপ্রিল ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

বাংলাদশে শ্রম আইন, ২০০৬-এর সাম্প্রতিক সংশোধনীগুলো শ্রমিক অধিকার সম্প্রসারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে সংশোধনীর কিছু ধারা শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার স্বাধীনতা, যৌথ দর-কষাকষি এবং কর্মক্ষেত্রের গণতান্ত্রিক চর্চাকে সীমিত করতে পারে বলে মত দিয়েছেন শ্রম বিশেষজ্ঞরা।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে সলিডারিটি সেন্টার আয়োজিত এক অংশীজন সভায় এসব কথা বলেছেন তারা। সভায় শ্রম আইনের সংশোধনীগুলোর ইতিবাচক দিক, সীমাবদ্ধতা এবং সম্ভাব্যতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ আয়োজন করেন সলিডারিটি সেন্টারের কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর এ কে এম নাসিম।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের আলোচনা ও ত্রিপক্ষীয় পরামর্শের ভিত্তিতে প্রণীত এই সংশোধনীগুলো আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার(আইএলও) কনভেনশন ৮৭ ও ৯৮-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য আনার একটি সদিচ্ছার প্রতিফলন। তবে শ্রমিক প্রতিনিধিদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তার চূড়ান্ত আইনে প্রতিফলিত হয়নি, যা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সুযোগকে সীমিত করেছে।

সভায় উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয় , সংশোধনের মাধ্যমে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

এর মধ্যে রয়েছে গৃহ শ্রমিকদের আংশিক স্বীকৃতি, শ্রমিক ছাঁটাইকালীন ক্ষতিপূরণ বৃদ্ধির সুবিধা, মাতৃত্বকালীন ছুটি ১২০ দিনে উন্নতীকরণ, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন বিধান এবং শ্রমিকদের জন্য এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম চালুর প্রস্তাব।
তবে প্রবন্ধে সতর্ক করা হয় যে, ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের ক্ষেত্রে নতুন সদস্যসংখ্যার শর্তগুলো অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং অনেক ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিকর। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, শ্রমিক সংখ্যা সামান্য বাড়লেই ইউনিয়ন গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সদস্যসংখ্যা হঠাৎ দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে, যা সংগঠন গঠনের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।

এ ছাড়া একটি প্রতিষ্ঠানে ইউনিয়নের সংখ্যা তিনটিতে সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্তকে শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব সীমিত করার ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এতে বহু শ্রমিক ইউনিয়নের বাইরে থেকে যেতে পারে এবং তাদের সংগঠিত হওয়ার অধিকার কার্যত বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের ( ব্লাস্ট) ডিরেক্টর মো. বরকত আলী বলেন, ‘সংবিধান আমাদের সংগঠিত হওয়ার মৌলিক অধিকার দিয়েছে। ট্রেড ইউনিয়নের সংখ্যা সীমিত করা সেই অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’

সভার প্রধান অতিথিও বক্তব্যে শ্রম সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘ত্রিপক্ষীয় বৈঠক বলতে যা হওয়ার কথা তা এবারের সংশোধনী প্রক্রিয়ায় সঠিকভাবে হয়নি। মতামত নেওয়া হয়েছে, কিন্তু আলোচনা হয়নি।

মালিক শ্রমিক সবাই মিলে যদি আমাদের আলোচনার ভিত্তিতে ঠিক করতে পারি, তাহলে একটি ফলপ্রসূ পরিবর্তন নিশ্চিত করতে পারব।’
বাংলাদেশে তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ওয়াসিম জাকারিয়া বলেন, ‘শ্রম আইনের সংশোধনীতে বেশ কিছু অসংগতি রয়ে গেছে। আশা করি সরকার এসব অসঙ্গতির ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন। আইনী সংশোধনী বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমরা মালিকপক্ষ সচেষ্ট থাকব।’