লাইফ স্টাইল

শীতে গর্ভবতী নারীদের সতর্কতা

নিউজ ডেস্ক২ জানুয়ারি ২০২৫৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

শীতকালেই সাধারণত স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ে। মূলত ঠাণ্ডা মৌসুমে শুষ্কতা ও সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে থাকে। তাই এই মৌসুমে সুস্থ থাকতে বিশেষ কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। তবে গর্ভবতী নারীদের এ সময়ে সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হয়।

কারণ, সর্দি, ফ্লু ও ত্বকের সমস্যায় বর্ধিত সংবেদনশীলতার কারণে গর্ভবতী নারীদের জন্য এই দিনগুলো কঠিন হতে পারে।
তাই এ সময়ে গর্ভবতী নারীদের উষ্ণ থাকা, অনাক্রম্যতা বৃদ্ধিকারী খাবার খাওয়া এবং হাইড্রেশন বজায় রাখার মত বিষয়গুলোতে নজর দেওয়া প্রয়োজন। এগুলো অবলম্বন করে গর্ভবতী মায়েরা স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাতে পারেন, সেই সঙ্গে শিশুসহ তার সামগ্রিক সুস্থতা বাড়াতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নানা সমস্যা মাথাচাড়া দিতে পারে।

এজন্য সঠিক কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করা জরুরি। এই প্রতিবেদনে জানবেন শীতকালীন নানা সমস্যা থেকে কীভাবে গর্ভবতী মায়েরা সুস্থ থাকবেন, সেইসঙ্গে এই জটিল সময়ে আরাম ও নিরাপত্তা দুটিই কীভাবে নিশ্চিত করবেন। চলুন, জেনে নেওয়া যাক।

হাইড্রেটেড থাকুন

শীতের বাতাসে পানিশূণ্যতা একটি বড় সমস্যা হতে পারে।

তাই তেষ্টা না পেলেও প্রচুর পানি পান করুন। এর সঙ্গে ভেষজ চা ও স্যুপের মতো উষ্ণ পানীয় শীতের দিনে গর্ভবতী নারীদের হাইড্রেটেড থাকতে সাহায্য করতে পারে।
হিউমিডিফায়ার ব্যবহার

শীতকালে শুষ্ক ঘরের বাতাস ত্বকের জ্বালা ও শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে। এক্ষেত্রে একটি হিউমিডিফায়ার এ সমস্যা মেটাতে পারে। ঘরের ভেতর আর্দ্রতার ভারসাম্য রক্ষা করে, ভেতরের বাতাস বিশুদ্ধ করে এটি।

হিউমিডিফায়ার আপনার ত্বককে হাইড্রেট রাখে। সঙ্গে ঘরে হিউমিডিফায়ার রাখলে অক্সিজেনযুক্ত বাতাসের পরিমাণ বাড়ে।

বাড়ির ভেতরে ব্যায়াম করুন

প্রসবপূর্ব যোগব্যায়াম বা স্ট্রেচিংয়ের মতো হালকা ইনডোর ব্যায়ামে নিজেকে সক্রিয় রাখুন। এগুলো রক্তসঞ্চালন বাড়াতে এবং পেশি শক্ত হওয়া রোধ করতে পারে। সেইসঙ্গে শক্তির মাত্রা বজায় রাখতে এবং শীতের অলসতা কমানোর জন্য শারীরিক কার্যকলাপ অপরিহার্য।

ঠাণ্ডার সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন

ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় বাহিরে বের হওয়া কমিয়ে দিন। প্রয়োজন পড়লে সতর্কতা অবলম্বন করে বের হোন। ঠাণ্ডা পরিবেশে দীর্ঘক্ষণ থাকা এড়িয়ে চলুন।

গরম পোষাক পরুন

এই মৌসুমে সঠিক পোশাক বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। থার্মাল, উলের সোয়েটার ও স্কার্ফ তাপ ধরে রাখার জন্য চমৎকার। বরফের উপরিভাগে স্লিপ রোধ করতে আরামদায়ক জুতো পরতে ভুলবেন না।

সুষম খাদ্য খান

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে শীতকালীন নির্দিষ্ট পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার খান। ডায়েটে সাইট্রাস ফল, সবুজ শাক সবজি, বাদাম ও বীজ রাখুন। এগুলো ঋতুকালীন অসুস্থতা থেকে বাঁচতে ভিটামিন সি ও জিঙ্কের মতো প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং খনিজ সরবরাহ করে। পাশাপাশি সর্দি-কাশি বা ফ্লুর মতো শীতের অসুস্থতা এড়াতে ঘনঘন হাত ধুতে হবে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য বাইরে যাওয়ার সময় হ্যান্ড স্যানিটাইজার সঙ্গে রাখুন।

এই টিপসগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে আপনি গর্ভাবস্থায় আরো আরামদায়ক ও নিরাপদ শীতকালীন অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারেন। এতে আপনি ও শিশু উভয়ই সুস্থ থাকবে।

 

সূত্র: কালের কণ্ঠ