সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
আসলে কথারই মানুষ তিনি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে থাকেন সঞ্চালকের ভূমিকায়। আবার লিখেও প্রকাশ করেন হৃদয়ের কথা। তিনি নীল হুরেরজাহান—উপস্থাপক, মডেল ও অভিনেত্রী।
এবার তাঁর নামের পাশে যুক্ত হয়েছে নতুন উপাধি— গীতিকার। নীলের কথাময় পথচলা নিয়ে লিখেছেন কামরুল ইসলাম।
প্রথমবার গানে

উপস্থাপক হিসেবেই নীলের পরিচিতি। পাশাপাশি মডেলিং ও অভিনয় করেন।
এর বাইরে তিনি লেখালেখিও করেন। ২০২০ সালে প্রকাশিত হয়েছিল তাঁর প্রথম কবিতার বই ‘হারিয়ে যাবার শুরু’। এবার তিনি গীতিকার। সংগীতশিল্পী এভয়েড রাফার নতুন ইপি অ্যালবামের সবগুলো গান তারই লেখা।
যদিও অ্যালবাম ও গানের নাম এখনই বলতে চাইছেন না, তবে নীল এটুকু জানালেন, এতে চার-পাঁচটি গান থাকছে। শিগগিরই অ্যালবামটি প্রকাশিত হবে।
গান নয়, কবিতা
লেখার চর্চা যেহেতু আছে, গীতিকার হিসেবে কি তবে নিয়মিত পাওয়া যাবে তাঁকে? নীলের জবাব, ‘না। গান লেখার জন্য আগেও কয়েকজন বলেছেন। রাজি হইনি।
আসলে গান লেখায় আগ্রহ পাই না। নিজের মতো করে মনের ভাবনাগুলো লিখি, সেটা কবিতা বা গদ্য হতে পারে।’ তাহলে কি নতুন বই করার কথা ভাবছেন নীল? তেমন কোনো পরিকল্পনাও আপাতত নেই বলে জানালেন তিনি।
অবিরাম উপস্থাপনা
ক্যারিয়ারের শুরু থেকে উপস্থাপক হিসেবেই বেশি কাজ করেছেন নীল। জানালেন, নিয়মিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করছেন। চলছে টিভি শোয়ের কাজও। চলমান এশিয়া কাপ উপলক্ষে নাগরিক টিভিতে করছেন ‘ক্রিক বাজ’। একুশে টেলিভিশনে সঞ্চালনা করছেন ‘রূপ লাবণ্য’। নীল বলেন, ‘উপস্থাপনা ভালোই চলছে। টিভির পাশাপাশি দেশের প্রথম সারির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ইভেন্ট করছি। এশিয়া কাপের ফাইনাল ম্যাচের প্রোগ্রামটা করব।’
প্রসঙ্গ এশিয়া কাপ
ক্রিকেট নিয়ে নীলের জানাশোনা বেশ। এশিয়া কাপের ফাইনাল নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভালো লাগত যদি বাংলাদেশ ফাইনালে উঠত। সুযোগটাও ছিল। কিন্তু গুছিয়ে খেলতে না পারায় সেই সুযোগ হাত ছাড়া হয়েছে। এখন ভারত-পাকিস্তান ফাইনাল খেলবে। ভারত অনেক স্ট্রং দল, এশিয়া কাপ বলতে গেলে একপেশে খেলছে। পাকিস্তান কিন্তু খুব একটা ভালো খেলতে পারেনি, বাংলাদেশের সঙ্গে জিতলেও ম্যাচটিতে তাদের পারফরমেন্স আহামরি ছিল না। সুতরাং ফাইনালে ভারতই এগিয়ে থাকবে।’
দায় আছে দর্শকেরও
সাম্প্রতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সঞ্চালকদের প্রশ্ন নিয়ে অনেকেই আপত্তি তোলেন, চলে সমালোচনা-বিতর্ক। এ নিয়ে নীল বলেন, ‘এখন সব ওপেন প্ল্যাটফর্ম। প্রত্যেকে তাদের মতো করে অনুষ্ঠান করছে। দর্শক আবার ওই সব প্রোগ্রাম বেশি দেখছে। তাহলে দোষটা তো দর্শকের ওপরও বর্তায়। তবে হ্যাঁ, উপস্থাপক ও আয়োজকদের আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা আশা করি। একটা প্ল্যাটফর্ম বা অনুষ্ঠান চালানো মানে মানুষ ও সমাজের কিছু দায়িত্ব আপনার কাঁধে আছে, সেটা মাথায় রাখা উচিত।’
অভিনয়ের নীল
উপস্থাপনার পাশাপাশি অভিনয়ও করেন নীল। রায়হান রাফীর ‘নিঃশ্বাস’ কিংবা ফরহাদ হোসেনের ‘ক্রিমিনালস’ ওয়েব ছবিগুলোতে দেখা গেছে তাঁকে। তবে নতুন কিছুর খবর এখনই দিতে পারছেন না নীল। বলেন, ‘অভিনয়টা মাঝেমধ্যে করি। ভালো গল্প ও নির্মাতা দেখে। নতুন কাজের খবর এখনই দিতে পারছি না, সময় হলে জানাব।’
প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি
২০১৪ সালে আরজে [রেডিও জকি] হিসেবে শোবিজে আসেন নীল। এক দশক পেরিয়ে গেছে। এই দীর্ঘ সময়ে কী পেলেন আর কী হারালেন? ‘হারানোর মতো কিছু ঘটেনি। তবে অনেক পেয়েছি। সুন্দরভাবে এত দিন ধরে কাজ করতে পারছি, ভালো ভালো প্ল্যাটফর্ম ও সহশিল্পী পেয়েছি। সেই ছোট্ট রেডিও শো থেকে এখন দেশের প্রথম সারির প্রোগ্রামগুলো উপস্থাপনা করছি, প্রাপ্তিটা অনেক।’
উপস্থাপনাই মূল
যত যাই করেন, উপস্থাপনার আনন্দ সবচেয়ে বেশি নীলের কাছে। তাই ভবিষ্যতের চিন্তা জানালেন এভাবে, ‘শিল্পী হিসেবে আমি সব কাজের জন্যই ওপেন। তবে হ্যাঁ, উপস্থাপনা আমার প্রথম পরিচয়। এর পাশাপাশি অভিনয়, মডেলিং অন্যসব করব।’









