শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৫ নতুন চিকিৎসকের যোগদান

নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে চিকিৎসাসেবায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শূন্য পদে ১৫ জন নতুন চিকিৎসক যোগ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. সায়েরা খাঁন রজনীগন্ধা ফুল উপহার দিয়ে নতুন চিকিৎসকদের বরণ করে নেন। নতুন চিকিৎসকরা সবাই ৩৯তম বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের আওতায় নিয়োগপ্রাপ্ত।

এদিকে নতুন চিকিৎসকদের যোগদানের খবর পেয়ে অনেকটা স্বস্তি ফিরেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে। এর আগে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সংকটের সচিত্র প্রতিবেদন স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বেশ কয়েকবার প্রকাশিত হয়।

যোগদানকৃত নতুন চিকিৎসকরা হলেন- উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার/সহকারি সার্জন আবদুল মজিদ, উজিরপুর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার/সহকারি সার্জন এম এ সবুজ হায়াত, কানসাট ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার/সহকারি সার্জন লতিফা খাতুন, চককীর্তি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার/সহকারি সার্জন আলমগীর কবির, ত্রিমোহনী উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার/সহকারি সার্জন রায়হান কবির, রাণীহাটি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার/সহকারি সার্জন শুকুর উল্লাহ, ধাইনগর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার/সহকারি সার্জন তৌহিদুল ইসলাম, দাইপুকুরিয়া উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার/সহকারি সার্জন সাঈদা সুলতানা, দূর্লভপুর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার/সহকারি সার্জন সেলিম রেজা, পাঁকা উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার/সহকারি সার্জন তারেক আনোয়ার, বিনোদপুর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার/সহকারি সার্জন ফাহাদ আকিদ, মনাকষা উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার/সহকারি সার্জন শরিফুল হক, ছত্রাজিতপুর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার/সহকারি সার্জন রাকিব হাসনাত, ঘোড়াপাখিয়া উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার/সহকারি সার্জন ফাজলে রাব্বী ও নামোটিকরী উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার/সহকারি সার্জন তোসিকুল ইসলাম।

জানা গেছে, চিকিৎসক সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবা জোড়াতালি দিয়ে চলছিল। চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৭ জন চিকিৎসকের স্থানে কর্মরত ছিলেন ১১ জন। হাসপাতালটিতে গড়ে প্রতিদিন ৬০০-৭০০ রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। হাসপাতালে মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি, শিশু, আর্থোসার্জারি, কার্ডিওলোজি, চক্ষু, নাক-কান-গলা, অ্যানেসথেসিয়া, চর্ম ও যৌন বিশেষজ্ঞের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ থাকলেও কোনো চিকিৎসক ছিল না। মাত্র কয়েকজন চিকিৎসক দিয়ে কোনো মতে উপজেলার প্রায় পাঁচ লাখেরও অধিক মানুষের জোড়াতালির চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছিলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এতে কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন এলাকার সাধারণ মানুষ। নতুন চিকিৎসক যোগদানে পর হাসপাতালের চিত্র পাল্টে যাবে বলে ধারণা হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের। তবে নতুন যোগদানকৃত চিকিৎসকরা কতদিন তাদের কর্মস্থলে থাকেন এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

পৌর এলাকার চতুরপুরের বাসিন্দা হযরত আলী বলেন, ‘নতুন ডাক্তার যোগদানের খবর শুনে খুব আনন্দিত হলাম। কিন্তু এর আগেও অনেক চিকিৎসক যোগদানের কিছুদিনের মাথায় বদলি নিয়ে শহরে চলে গেছেন। তবে আশা তারা কর্মস্থলে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী থেকে সাধারণ মানুষকে সেবা দেবেন।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আজিজুর রহমান সুইট বলেন, চিকিৎসক সংকটের কারণে উপজেলার স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা বেশ কষ্টকর ছিল। তবুও নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে দিয়ে চিকিৎসা দেয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। অন্তত দুই বছরের আগে যোগদানকৃত নতুন চিকিৎসকদের অন্যত্র যাওয়ার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

স/শা