সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে গত এক সপ্তাহে অন্তত ১৫ জন অভিবাসীর মরদেহ ভেসে এসেছে। তাদের মধ্যে একটি কন্যাশিশুও রয়েছে বলে জানা গেছে।
মিসরের সীমান্তবর্তী তোব্রুক শহরের উপকূলের বিভিন্ন স্থান থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার নিরাপত্তা, নৌবাহিনী ও চিকিৎসা সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

একটি সূত্র জানায়, ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে প্রায় ৬১ জন আরোহী ছিলেন। বেঁচে যাওয়া ১০ জনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ সংখ্যা জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর বেশিরভাগই পচে গিয়েছিল। তাদের আশঙ্কা, সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় আরো মরদেহ পাওয়া যেতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত তোব্রুক রেড ক্রিসেন্টের ছবিতে দেখা যায়, সাদা সুরক্ষা পোশাক পরিহিত স্বেচ্ছাসেবীরা পাথুরে উপকূল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে সাদা প্লাস্টিকের ব্যাগে রাখছেন।
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে ন্যাটো-সমর্থিত গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ইউরোপমুখী অভিবাসীদের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে লিবিয়া।
আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে সংঘাত, দারিদ্র্য ও রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে পালিয়ে আসা হাজারো মানুষ মরুভূমি পেরিয়ে লিবিয়ায় পৌঁছে সেখান থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
তবে এই সমুদ্রপথ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রায়ই নৌকাডুবি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ এই দুর্ঘটনাও সেই মানবিক সংকটের আরেকটি মর্মান্তিক উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।









