রাসিকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস উদযাপন উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী মহানগরীতে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন (১ম রাউন্ড) আগামী ১৪ জুলাই ২০১৮ উদযাপন উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে নগর ভবন জিআইজেড সভা কক্ষে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সচিব মোঃ রেজাউল করিম। এ সময় তিনি বলেন, আজকের শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। প্রতিটি শিশুরই রয়েছে সুস্থ্য ও সবলভাবে বেঁচে থাকার অধিকার। আমাদের ভবিষ্যৎ এ প্রজন্মকে সুস্থ্যভাবে গড়ে তুলতে হবে। জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনের গুরুত্বের বিষয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, একটি শিশুও যেন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়া থেকে বাদ না পড়ে এ বিষয়ে সকলকে দায়িত্বশীল হতে হবে। এ ক্যাপসুল তাঁদের অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব থেকে রক্ষা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে তাদের মৃত্যু ঝুঁকি কমায়। এ জন্য প্রতিটি শিশুকে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের দিন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য নিকটস্থ ক্যাম্পেইন কেন্দ্রে নিয়ে আসতে অভিভাবকদের উৎসাহিত করতে হবে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহবান জানান তিনি।

ভিটামিন ‘এ’র প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তথ্য উপস্থাপনকালে রাসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ এএফএম আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, শিশুর স্বাভাবিক দৃষ্টি, দৈহিক বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধের জন্য ভিটামিন ‘এ’ অপরিহার্য। এটি চর্বিতে দ্রবনীয় ভিটামিন। যা মানব দেহে তৈরী হয় না বলে খাদ্যের মাধ্যমেই এর চাহিদা পূরণ করতে হয়। প্রাণীজ ও উদ্ভিজ উভয় শ্রেণীয় খাদ্যে ভিটামিন ‘এ’ পাওয়া যায়। মায়ের বুকের দুধ (বিশেষত শাল দুধ), ছোট মাছ, কলিজা, মাংস, গরুর দুধ, ডিম ইত্যাদি। গাজর, মিষ্টি আলু, গাঢ় রঙের শাক সবজি, হলুদ পাকা ফলমূল ইত্যাদি। ভিটামিন ‘এ’ শিশুর দৃষ্টি শক্তি স্বাভাবিক রাখে, রাতকানা ও অন্ধত্ব প্রতিরোধ করে, শিশু দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, শিশু মৃত্যুর ঝুকি কমায়, শিশু দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করে, ডায়রিয়া ব্যাপ্তিকাল ও হাম পরবর্তী জটিলতা কমায়। ভিটামিন ‘এ’ অভাব জনিত রোগ রাতকানা, অন্ধত্ব, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে মৃৃৃৃত্যু ঝুঁকি বাড়ায়, স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, চামড়া খসখসে ও অমসৃণ হয় ইত্যাদি।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান, জাতীয় পুষ্টি সেবা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে আগামী ১৪ জুলাই ২০১৮ জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন (১ম রাউন্ড) পালনের লক্ষ্যে মহানগরীতে স্থায়ী ৩৪৩ ও ভ্রাম্যমান ৪১টি কেন্দ্রসহ সর্বমোট ৩৮৪টি কেন্দ্রে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। ঐদিন ৬-১১ মাস বয়সী ৭৪৩৫ জন শিশুকে একটি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ও ১২-৫৯ মাস বয়সী ৫৪১৫৫ জন শিশুকে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ওয়ার্ড সমূহে মাইকিং, শুক্রবার জুম্মার নামাযের পূর্বে মসজিদ, অন্যান্য উপাসনালয়ে ভিটামিন ‘এ’ এর প্রয়োজনীয়তা ও ক্যাম্পইন দিবসে শিশুকে নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্র নিয়ে আসার জন্য উদ্বুদ্ধকরণ বার্তা প্রেরণ করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ২ জন করে সর্বমোট ৭৬৮ জন স্বেচ্ছাসেবী নিয়োজিত থাকবে। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কেন্দ্রে টিকা খাওয়ানো হবে। যদি কেউ টিকা খাওয়ানো থেকে বাদ পড়ে তাহলে ওয়ার্ড কার্যালয়ে রাত্রী ৮টা পর্যন্ত খাওয়াতে পারবে বলে এ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় ।

স/শা