রাজশাহীতে বড় ভাইয়ের বদলে কারাগারে ছোট ভাই: শুনানি কাল

নিজস্ব প্রতিবেদক:
‘কোন দোষ না করেও আমি কয়েদী হয়ে কারাগারে আছি। আমি আসামি না।’ বড় ভাই ফজলের পরিবর্তে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকা সজল মিয়া (৩৪) কাকুতি-মিনতি করে বলছিলেন কথাগুলো। মঙ্গলবার (১১ জুন) দুপুরে সজল মিয়াকে শুনানির জন্য রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ কথা বলেন।

সজলের এ দাবি ঠিক কিনা তার শুনানির জন্য আজ (১১ জুন) তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। কিন্তু আদালত না বসায় তাকে আবারও কারাগারে পাঠানো হয়। তবে বিচারক আদালতের পেসকারকে আগামীকাল বুধবার (১২ জুন) শুনানির দিন ধার্য করতে বলেন।

সজল রাজশাহীর ছোট বনগ্রাম পশ্চিমপাড়া মহল্লার তোফাজ উদ্দিনের ছেলে। তার বড় ভাই সেলিম ওরফে ফজল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তার অনুপস্থিতিতে ২০০৯ সালের ২৮ আগস্ট মামলার রায় হয়। এরপর থেকেই সে পলাতক।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন পলাতক থাকা ফজলকে ধরতে গত ৩০ এপ্রিল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে সজলদের বাড়িতে অভিযান চালায় নগরীর শাহমখদুম থানা পুলিশ। এ সময় ফজলের পরিবর্তে সজলকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। এরপর ওই মামলায় সজলকে পলাতক ফজল বানিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

গত ২৬ মে সজল তার আইনজীবীর মাধ্যমে নিজের মুক্তি চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। এতে বলা হয়, আসামি বড় ভাই ফজলের পরিবর্তে তিনি জেল খাটছেন। এরই শুনানির দিন গতকাল ধার্য ছিল। আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার পথে আবারও তিনি নিজেকে সজল বলে দাবি করেন। তার দাবি, বাদীপক্ষের প্ররোচনায় পুলিশ বড় ভাই ফজলের পরিবর্তে তাকে গ্রেপ্তার করেছে।

জানতে চাইলে শাহ মখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘গ্রেপ্তার আসামি যে ফজল সে ব্যাপারে মামলার সাক্ষীরা এফিডেফিট করে দিয়েছেন। সেটা আদালতে দাখিল করা হয়েছে। আদালতের শুনানির পরেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।’

স/বি