ধর্ম

রমজানের প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান

নিউজ ডেস্ক১৯ মে ২০২০৪ মিনিট পড়া

ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মুমিনের জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে রমজানুল মোবারক। এ মাসেই প্রতিটি মুহূর্ত এতটাই দামি যে তা কোনো কিছু দিয়ে তুলনা করা সম্ভব নয়। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, আল্লাহর কসম! মুসলমানদের জন্য রমজানের চেয়ে উত্তম কোনো মাস আসেনি এবং মুনাফিকদের জন্য রমজান মাসের চেয়ে অধিক ক্ষতির মাসও আর আসেনি। কেননা মুমিনরা এ মাসে (সারা বছরের জন্য) ইবাদতের শক্তি ও পাথেয় সংগ্রহ করে। আর মুনাফিকরা তাতে মানুষের উদাসীনতা ও দোষত্রুটি অন্বেষণ করে। এ মাস মুমিনের জন্য গনিমত আর মুনাফিকের জন্য ক্ষতির কারণ। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ৮৩৬৮)

এই মাসের প্রতিটি মুহূর্ত অফুরন্ত কল্যাণ নিয়ে বিদায় হয়ে যায়। যারা তা কাজে লাগাতে পারে তারা সফলকাম। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি এই মাসে একটি নফল কাজ করবে, সে যেন অন্য মাসের একটি ফরজ আদায় করল। আর যে ব্যক্তি এ মাসে একটি ফরজ আদায় করবে, সে যেন অন্য মাসের ৭০টি ফরজ সম্পাদন করল। (মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস : ১৯৬৫)। অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, যেকোনো নেক কাজ যদি আদম সন্তান করে তাহলে তার জন্য ১০ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বর্ধিত করে সওয়াব লিপিবদ্ধ করা হয়। কিন্তু আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘সাওম (রোজা) ছাড়া, যেহেতু সাওম (রোজা) আমারই জন্য এবং আমিই তার প্রতিদান দেব। সাওম (রোজা) পালনকারী আমারই কারণে স্বীয় কামাচার ও পানাহার পরিত্যাগ করে। সাওম (রোজা) পালনকারীর জন্য সাওম (রোজা) ঢালস্বরূপ। সাওম (রোজা) পালনকারীর জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে, তার ইফতারের সময় এবং তার রবের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়। আর সাওম (রোজা) পালনকারীর (ক্ষুধাজনিত কারণে নির্গত) মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহ তাআলার কাছে কস্তুরীর সুগন্ধি থেকেও অধিক পছন্দনীয়।’ (নাসায়ি, হাদিস : ২২১৫)

রমজান পাপ মোচনের মাস। যারা এই মাসের পবিত্রতা রক্ষা করে, মহান আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন থাকে, মহান আল্লাহ তাদের গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেন। রাসুল (সা.) বলেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমা থেকে আরেক জুমা এবং এক রমজান থেকে আরেক রমজান মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহগুলো মুছে দেয় যদি সে কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে। (মুসলিম, হাদিস : ৪৪০)। অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে নেকির প্রত্যাশায় রমজানে রোজা পালন করবে, তার অতীতের গুনাহগুলো মাফ করে দেওয়া হয়। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৮)। বুখারির ৩৭ নম্বর হাদিসে রমজানে রাত জেগে নামাজ পড়লেও অতীতের গুনাহ মাফের সুসংবাদ রয়েছে।

কিন্তু এর বিপরীতে যারা রমজানকে অবহেলায় কাটিয়ে দেয়, তাদের মতো দুর্ভাগা আর কেউ নেই। যারা এই মাসেও তার গুনাহ মাফ করাতে সক্ষম হয় না রাসুল (সা.) তাদের অভিসম্পাত করেছেন। (বায়হাকি, শুয়াবুল ঈমান : ১৬৬৮)

ইতিমধ্যে আমাদের জীবন থেকে অনেক রমজান পার হয়ে গেছে। পার হয়েছে এই রমজানের বেশ কিছু দিন। আমাদের জীবনের বিগত রমজানগুলো এবং এই রমজানের পার হয়ে যাওয়া দিনগুলোকে আমরা কতটুকু কাজে লাগাতে পেরেছি তা হিসাব করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ আমরা কেউ জানি না যে মহান আল্লাহ আরেকটি রমজান পর্যন্ত আমাদের হায়াত রেখেছেন কি না। যদি এই রমজানেই আমাদের অতীতের গুনাহ মাফ না করিয়ে নিতে পারি, তাহলে রাসুল (সা.)-এর অভিশাপের পাত্র হয়ে যাই কি না। অফুরন্ত রহমতের এই মাসে আমরা মহান আল্লাহর জন্য কত রাকাত নামাজ পড়তে পেরেছি, কোরআন নাজিলের মহিমান্বিত এই মাসে আমরা কত সময় কোরআন তিলাওয়াতে ব্যয় করেছি। অগণিত সওয়াবের এই মাসে আমরা কত টাকা সদকা করেছি, কতজন রোজাদারকে ইফতার করিয়েছি, করোনাকালের এই রমজানে আমরা কতজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরেছি তা হিসাব করার সময় এখনই, যাতে পরবর্তী দিনগুলো আমরা আমাদের আমলের ত্রুটিগুলো পুষিয়ে নিতে পারি। মহান আল্লাহর দরবারে দিনরাত তওবা ইসতিগফারের মাধ্যমে জাহান্নামের ভয়াবহ আগুন থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারি। পাশাপাশি দুনিয়ার সব বিপদাপদ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারি। বর্তমানে আমরা যে কঠিন পরিস্থিতি পার করছি, তা আমাদের কাজের প্রতিদান।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, তোমাদের যে বিপদ-আপদ ঘটে তা তো তোমাদের কৃতকর্মেরই ফল এবং তোমাদের অনেক অপরাধ তিনি ক্ষমা করে দেন। (সুরা শুরা, আয়াত : ৩০)

তাই আমাদের সবার উচিত সংযমের এই মাসে প্রত্যেকেই সব পাপ থেকে ফিরে এসে মহান আল্লাহর দরবারে তওবা করা। পবিত্র মাহে রমজানের প্রতিটি মুহূর্তকে মহান আল্লাহর ইবাদতে কাটানোর চেষ্টা করা। রমজানের মতো সারা বছর আমরা যেন আমলময় জীবন গড়তে পারি, সেই প্রতিজ্ঞা করা। মহান আল্লাহ আমাদের রমজানের প্রতিটি মুহূর্তকে ইবাদতে কাটানোর তওফিক দান করুন। আমিন।

 

সুত্রঃ কালের কণ্ঠ