সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক : বর্তমান মুসলিম সমাজে কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে তিন দিন, ২১ দিন বা ৪০ দিন পালনের একটি প্রচলিত রীতি দেখা যায়। মৃত ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে এই ধরণের আনুষ্ঠানিকতা ইসলাম কতটুকু সমর্থন করে? এ বিষয়ে সম্প্রতি কথা বলেছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও জনপ্রিয় ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ।
৩ দিন বা ৪০ দিন পালনের উৎস কী?
এ বিষয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, কোনো মুসলিম ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে তার জন্য তিন দিন, ৪০ দিন বা ২১ দিন পালনের রীতি আছে। এগুলো একটিও ইসলামের নির্দেশ না। মনে রাখবেন, মৃত মানুষ কেন্দ্র করে যত আনুষ্ঠানিকতা আমাদের দেশে পালন করা হয়ে থাকে, এর বেশিরভাগ আনুষ্ঠানিকতা আসছে আমাদের সঙ্গে থাকা হিন্দু ভাইদের শ্রাদ্ধ থেকে। আপনি গুগলে গিয়ে শ্রাদ্ধ লিখে খুঁজুন পেয়ে যাবেন। ওনারা ওনাদেরটা পালন করুক, সেটা তাদের ব্যাপার। মুসলমান হয়ে আপনি সেটি টেনে আনতে পারেন না।
মৃতের বাড়িতে খাওয়ার প্রচলিত প্রথা
শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, ইসলাম অনুসারে কোনো মানুষ মারা গেলে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এলাকাবাসী বা আত্মীয়স্বজনদের খাওয়ানো উচিত। কারণ স্বজন হারানো মানুষটির রান্না করার মতো মানসিক অবস্থা থাকে না। কিন্তু আমাদের দেশে উল্টো চিত্র দেখা যায়। মৃত ব্যক্তির পরিবারকে দিয়ে জোরপূর্বক বা সামাজিক চাপে বড় ভোজের আয়োজন করানো হয়, যা শরিয়তসম্মত নয়। তিনি বলেন, ৪০ দিনে গরু জবাই করে পুরো গ্রাম খাওয়ানোর এই সংস্কৃতি ইসলাম সমর্থন করে না।
মৃত ব্যক্তির জন্য শায়খ আহমাদুল্লাহর পরামর্শ
নির্দিষ্ট কোনো দিন পালন না করে আপনি যে কোনো সময় মৃত ব্যক্তির জন্য নিচের আমলগুলো করতে পারেন—
দোয়া ও ইস্তেগফার: মৃত ব্যক্তির মাগফিরাত বা ক্ষমার জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা।
দান-সদকাহ: গরিব-দুঃখীদের খাবার খাওয়ানো বা আর্থিক সাহায্য করা, তবে সেটি কোনো নির্দিষ্ট দিন নির্ধারণ করে অনুষ্ঠান আকারে নয়।
সদকায়ে জারিয়া: জনকল্যাণমূলক কাজ, যেমন— রাস্তা নির্মাণ, নলকূপ স্থাপন বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা করা।
ঋণ পরিশোধ: মৃত ব্যক্তির কোনো দেনা বা ঋণ থাকলে তা দ্রুত পরিশোধের ব্যবস্থা করা।









