সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
পাকিস্তানে প্রবল বৃষ্টির কারণে স্থগিত থাকার পর উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয়রা মঙ্গলবার আবারও ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের খোঁজ শুরু করেছেন। টানা পাঁচ দিনের প্রবল বর্ষণে মৃতের সংখ্যা অন্তত ৪০০-তে পৌঁছেছে বলে এদিন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এএফপি।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বর্ষার এ প্রবল বৃষ্টি অন্তত সপ্তাহান্ত পর্যন্ত চলবে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলে টানা বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে পুরো গ্রাম মাটিচাপা পড়ে গেছে।

বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপে আটকা রয়েছে, অনেকে নিখোঁজ। পাকিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ) জানিয়েছে, কেবল উত্তর-পশ্চিমের পার্বত্য প্রদেশ খাইবারপাখতুনখোয়াতেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে ৩৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। পার্শ্ববর্তী এলাকায় আরো বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। ফলে পাঁচ দিনের ব্যবধানে মৃতের সংখ্যা প্রায় ৪০০-তে পৌঁছেছে।
এক দিন আগেই প্রবল বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজ স্থগিত হওয়ার পর ফের খাইবারপাখতুনখোয়ার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দালোরি গ্রামে উদ্ধারকর্মীরা কাদামাটি ও পাথরের স্তূপ সরিয়ে জীবিত কিংবা নিখোঁজদের মরদেহ খুঁজছিলেন। গ্রামবাসীকে এর পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া করতে দেখা যায়।
৩১ বছর বয়সী শ্রমিক উমর ইসলাম কাঁদতে কাঁদতে জানান, তিনি সোমবার নিজের বাবাকে হারিয়েছেন। তিনি এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের দুঃখ ভাষায় বোঝানো সম্ভব নয়।
কয়েক মিনিটের মধ্যেই আমরা সব হারিয়েছি। আমাদের জীবন শেষ হয়ে গেছে।’
গ্রামের আরেক বাসিন্দা ৩৭ বছর বয়সী ফজল আকবর এ পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করে বলেন, ‘সবকিছু এত হঠাৎ হলো যে কারো প্রতিক্রিয়া জানানোরও সময় ছিল না। মসজিদ থেকে মাইকিং করা হয়েছিল, আর গ্রামবাসীরা নিজেরাই উদ্ধারকাজ শুরু করেছিল। ২০ মিনিটেরও কম সময়ে আমাদের গ্রাম ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
’
অনেক সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকর্মীদের পক্ষে দুর্গত এলাকায় পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়েছে। যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কও সচল নেই।
দক্ষিণ পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলেও মঙ্গলবার প্রবল বর্ষণ শুরু হয়েছে। এতদিন অঞ্চলটি বর্ষার ভয়াবহতা থেকে তুলনামূলকভাবে রক্ষা পেয়েছিল। বৃষ্টি শনিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এনডিএমএ চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইনাম হায়দার মালিক বলেছেন, ‘মাসের শেষে আরেকটি বৃষ্টির ধাক্কা আসতে পারে।’
এনডিএমএ জানিয়েছে, ২৬ জুন থেকে এ পর্যন্ত পাকিস্তানে মৌসুমি বৃষ্টিতে ৭০০ জনেরও বেশি প্রাণহানি ঘটেছে, আহত হয়েছেন প্রায় এক হাজার মানুষ। মৌসুমি বর্ষা চলবে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত।









