অর্থ ও বাণিজ্য

মূল্য বেঁধে দেয়ার সাত বছর : প্রতি বর্গফুটে দাম কমেছে ৪০ টাকা

নিউজ ডেস্ক১৮ আগস্ট ২০১৯৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

গত দু-তিন বছর ধরেই কাঁচা চামড়ার দামে ধস নেমেছে। এ খাতে চলতি বছর চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। সাত বছরে ধারাবাহিকভাবে কমছে কাঁচা চামড়ার দাম।

সাত বছর আগে বিক্রি হওয়া ৯০ টাকা প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া এবার বিক্রি করার কথা সর্বোচ্চ ৫০ টাকা। সে হিসাবে সাত বছরে চামড়ার দাম কমেছে ৪০ টাকা। এ দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। ট্যানারি মালিকদের দাবির মুখে সরকার কর্তৃক নির্ধারণ করে দেয়া এ দাম দিতেও অনীহা। নানা কারসাজি করে পানির দরে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য করা হচ্ছে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর প্রতিবছর শুধু কোরবানির ঈদের আগে মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েই দায় শেষ করে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ট্যানারি মালিক, আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের যথাযথ সমন্বয় না থাকার কারণে এবার কাঁচা চামড়ার দামে চরম নৈরাজ্য দেখা গেছে। তারা বলছেন, বাজারে যথাযথ তদারকি, নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা নিলে গরিব ও এতিমের হক কাঁচা চামড়ার দামে বিপর্যয় ঠেকানো সম্ভব হতো।

এ প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, কোরবানির পশুর চামড়ার মূল্য নির্ধারণ না করাই ভালো। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চামড়া বিক্রি হবে। দামে বিপর্যয়ের শঙ্কা কমে যাবে।

দেশে সব ধরনের পণ্যের দাম প্রতিনিয়ত বাড়লেও কমছে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম। সাত বছরে ধারাবাহিকভাবে কমছে কাঁচা চামড়ার দাম। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৩ সালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল সর্বনিম্ন ৮৫ আর সর্বোচ্চ ৯০ টাকা। একই ভাবে লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়ার দর নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল সর্বনিম্ন ৫০ আর সর্বোচ্চ ৫৫ টাকা। সাত বছরের ব্যবধানে ২০১৯ সালে সেই লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দর নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে সর্বোচ্চ ৫০ আর সর্বনিম্ন ৪৫ টাকা। একইভাবে খাসির চামড়ার দর ঠিক করে দেয়া হয়েছে সর্বনিম্ন ১৮ আর সর্বোচ্চ ২০ টাকা। দেখা গেছে, সাত বছরে কোরবানির গরু ও খাসির চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুটে কমেছে ৪০ টাকা।

পরিসংখ্যানে আরও দেখা গেছে, ২০১৩ সালে সরকার নির্ধারিত দাম অনুযায়ী ঢাকায় প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়া ৮৫ থেকে ৯০ টাকা আর ঢাকার বাইরে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা দরে কেনা হয়। সারা দেশে প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়ার দাম ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। ২০১৪ সালে প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়া ৭০ থেকে ৭৫ টাকা আর ঢাকার বাইরে এ দর ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত খাসির চামড়ার দাম ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। ২০১৫ সালে ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়া ৫০ থেকে ৫৫ ও ঢাকার বাইরে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া খাসির লবণযুক্ত চামড়া ২০ থেকে ২২ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

২০১৬ সালে গরুর লবণযুক্ত কাঁচা চামড়া প্রতি বর্গফুটের সর্বনিম্ন দাম ছিল ৫০ টাকা। খাসির চামড়া ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ২০১৭ সালে প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার নির্ধারিত দাম ছিল ঢাকায় ৫০ থেকে ৫৫ ও ঢাকার বাইরে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। খাসির চামড়ার দাম সারা দেশে ২০ থেকে ২২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

২০১৮ সালের জন্য প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দর ঠিক করে দেয়া হয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। আর খাসির দর ঠিক করে দেয়া হয়েছে ১৮ থেকে ২০ টাকা। আর এবারও আগে বছরের মতো একই দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। চামড়ার দাম কমে যাওয়ার পেছনে ব্যবসায়ীদের কারসাজি আছে বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। ১৪ আগস্ট বুধবার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, চামড়া নিয়ে যখনই ভালো উদ্যোগ গ্রহণ করি তখনই তার বিরুদ্ধাচরণ করা হচ্ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ঈদের আগে ট্যানারি মালিক ও চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনক হল, তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।