অর্থ ও বাণিজ্য

মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে আগাম কর প্রত্যাহার

নিউজ ডেস্ক২১ জুন ২০১৯৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

শর্তসাপেক্ষে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে আগাম কর প্রত্যাহার করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

৩০ জুন পর্যন্ত ৩শ’ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দিয়ে আগাম কর পরিশোধ ছাড়া শুধু কাস্টমসের মূলধনী যন্ত্রপাতির প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত যন্ত্রপাতি খালাস করতে পারবেন শিল্পোদ্যোক্তারা। অবশ্য কাঁচামালের ক্ষেত্রে এ সুবিধা দেয়া হয়নি।

এ সংক্রান্ত একটি দিকনির্দেশনা বৃহস্পতিবার এনবিআর থেকে কাস্টমস হাউসগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, ১৩ জুন জাতীয় সংসদে অর্থবিল-২০১৯ উপস্থাপিত হয়। অর্থবিলের ৭১ দফা অনুযায়ী আগাম কর আরোপ করা হয়, যা প্রভিশনাল কালেকশন অব ট্যাক্সেস অ্যাক্টের ক্ষমতাবলে কার্যকর হয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানসহ কিছু কিছু ক্ষেত্রে আগাম কর পরিশোধের পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না থাকায় আমদানি পণ্য ছাড়করণে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানা গেছে।

তাই ক্রান্তিকালীন সময়ে অর্থাৎ ৩০ জুন পর্যন্ত আমদানিকারক ৫ শতাংশ আগাম কর পরিশোধ করবেন মর্মে ৩শ’ টাকা স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দাখিল সাপেক্ষে আগাম কর ছাড়া পণ্য শুল্কায়ন ও খালাসের নির্দেশ দেয়া হয়।

মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানিসংক্রান্ত কাস্টমসের একটি প্রজ্ঞাপন আছে যাতে কী কী যন্ত্রপাতি আনা যাবে তার এইচএস কোডসহ তালিকা রয়েছে। প্রজ্ঞাপনের আওতায় স্থানীয় উদ্যোক্তারা ৬৫৯ ধরনের যন্ত্রপাতি ১ শতাংশ শুল্ক দিয়ে খালাস নিতে পারবেন, এর বাইরে অন্য কোনো কর দিতে হবে না। এছাড়া তুলা, পলিস্টার ইয়ার্ন ও ভিসকস ইয়ার্ন আমদানিতে আগাম কর দিতে হবে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, কাস্টমস হাউসে পাঠানো এনবিআরের আদেশ পুরোপুরি ব্যবসাবান্ধব নয়। আদেশে কাস্টমসের মূলধনী যন্ত্রপাতির প্রজ্ঞাপনভুক্ত যন্ত্রপাতি এবং তুলা, পলিয়েস্টার ইয়ার্ন ও ভিসকস ইয়ার্নের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আরও কিছু কাঁচামাল শিল্পে ব্যবহৃত হয়, যে গুলোতে এখনও আগাম কর রয়ে গেছে। বিশেষত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের কথা বলা হয়। এখনকার কমপ্লায়েন্স ইস্যুতে অগ্নিনির্বাপকসামগ্রী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া কিছু কাঁচামাল আছে, যেগুলো ৫ শতাংশ কর দিয়ে খালাস করলে উদ্যোক্তাদের ক্যাপিটাল ব্লক হয়ে যাবে। তাই এ নির্দেশনা পুরোপুরি ব্যবসাবান্ধব বলা যায় না।

বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, শুধু মূলধনী যন্ত্রপাতিতে আগাম করের এ সাময়িক সুবিধা শিল্পে সুখবর আনবে না। কারণ শিল্পে ব্যবহৃত বেশকিছু কাঁচামালে আগাম করের বোঝা রয়ে গেছে। ফলে মেশিনারিজে দেয়া প্রজ্ঞাপন সুবিধা কোনো সুফল বয়ে আনবে না। বরং কাঁচামালের কারণে পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি করবে।

মূলধনী যন্ত্রপাতি ছাড়াও যেসব পণ্যে আগাম কর দিতে হবে না- ভ্যাট আইনের প্রথম তফসিলের অব্যাহতিপ্রাপ্ত পণ্য, সরকার অনুমোদিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আমদানিকৃত যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ ও বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট উপকরণ, এনবিআরের অনুমোদনের ভিত্তিতে সরকারি প্রকল্পের আওতায় আমদানিকৃত পণ্য, ডিফেন্স স্টোর হিসেবে আমদানিকৃত পণ্য, অন্ধ ও বধিরদের জন্য আমদানিকৃত পণ্য, ত্রাণসামগ্রী, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক আমদানিকৃত পণ্য, বন্ড সুবিধায় আনা আমদানিকৃত পণ্য এবং সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, জাতিসংঘভুক্ত সংস্থা, দূতাবাস, বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও সংস্থার আমদানিকৃত পণ্য।

প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থ আইনের মাধ্যমে নতুন ভ্যাট আইনের ৩১ ধারা সংশোধন করে সব ধরনের আমদানি পণ্যের ওপর ৫ শতাংশ হারে আগাম কর আরোপ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, করযোগ্য আমদানির ওপর ৫ শতাংশ আগাম কর আদায় করতে হবে। প্রত্যেক নিবন্ধিত আমদানিকারক নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট কর মেয়াদে মূসক দাখিলপত্রে পরিশোধিত আগাম করের সমপরিমাণ অর্থ সমন্বয় করতে পারবেন। যারা নিবন্ধিত নয়, তারা কমিশনারের কাছে আগাম কর ফেরত পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এরপর ১৪ জুন থেকে ভোগ্যপণ্যসহ সব ধরনের পণ্য খালাসে ৫ শতাংশ আগাম কর আদায় শুরু করে কাস্টমস হাউসগুলো। এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে দেশের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্য সংগঠনগুলো।