সিল্কসিটি নিউজ ডেস্ক:
ডিম আগে না মুরগি আগে—এ মজার ধাঁধা এখন জলজ্যান্ত বাস্তবে। দামের দৌড়ে সবেগে ছুটতে থাকা ডিম আর মুরগির মধ্যে কোনটি এগিয়ে আর কোনটি যে পিছিয়ে, তা আপাতদৃষ্টিতে বোঝা মুশকিল। তবে শতাংশের হিসাবে মুরগি এগিয়ে। গত এক মাসে মুরগির দাম বেড়েছে ৪৬ শতাংশ, ডিমের দাম বেড়েছে ১৭ শতাংশ।
গত এক মাসে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম বেড়েছে পাঁচবার। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়ে এখন তা ১৫০ টাকা ডজন। দামের দৌড়ে ব্রয়লার মুরগিও কম যায় না। গত এক মাসে দুই লাফে ৪৬ শতাংশ বেড়েছে। মাসখানেক আগে যে মুরগি প্রতি কেজি ছিল ১৪০ টাকা, গতকাল শুক্রবার তা রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ২২০ থেকে ২৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।

ক্রেতারা বলছে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে যেখানে আমিষের ভরসা ছিল ব্রয়লার মুরগি, সেখানেও হানা দিয়েছে মূল্যস্ফীতি। ডিম ও মুরগি দুটিই দামের ঊর্ধ্বগতিতে পাল্লা দিচ্ছে সমান তালে।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজার বিশ্লেষণের তথ্য অনুযায়ী, এক মাস আগে জানুয়ারির চতুর্থ সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ছিল ১৪০ থেকে ১৫৫ টাকা, যা ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে বেড়ে হয়েছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা। চলতি সপ্তাহে এই দাম ২১০ থেকে ২২০ টাকা কেজিতে গিয়ে ঠেকেছে। গতকাল খুচরা বাজারে তা ২৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।
জানুয়ারি মাসের চতুর্থ সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগির ডিমের ডজন ছিল ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা। জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে তা বেড়ে হয়েছে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা। চলতি মাসের তিন সপ্তাহে ধারাবাহিকভাবে পাঁচ টাকা করে বেড়ে ডিমের ডজন এখন ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা। এক মাসে দাম বেড়েছে ১৭ শতাংশ। এক বছর আগের দামের তুলনায় ব্রয়লার মুরগির দাম প্রায় ৩৯ শতাংশ এবং ডিমের দাম ৩০ শতাংশ বেশি।
এ ব্যাপারে তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. আমান উল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মুরগির খাবারের দাম বেশি হওয়ায় খামারিরা ডিমের জন্য মুরগি রাখছে না। আবার রাখলেও বেশি দামে ডিম বিক্রি করছে। এখন আমাদের বেশি দামে কিনে আনতে হলে তো বেশি দামেই বিক্রি করতে হবে। রমজানের আগে এই দাম আর কমার সম্ভাবনা দেখছি না। তবে এর মধ্যে হয়তো আর বাড়বে না।’
আরমান আলী নামের এক পাইকারি ডিম ব্যবসায়ী বলেন, ‘এক মাস আগেও যেখানে আমরা ১০০ ডিম ৯২০ টাকায় কিনতে পারতাম, এখন তা এক হাজার ৭০ টাকায়ও পাচ্ছি না।’
রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রী এলাকার ‘ডি’ ব্লকের বাসিন্দা আজহার শাহীন বলেন, ‘সব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেশি। এর মধ্যে ডিম আর মুরগি দিয়ে কেনো মতে চলা যেত। এখন এসবেরও দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে খাওয়া কমিয়ে দেওয়া ছাড়া বিকল্প কিছু নেই।’
গতকাল ঢাকার বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ২১০ থেকে ২৩০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হয়েছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়। কারওয়ান বাজারের মুরগির আড়তের বিক্রেতা হাসিব জাহান জানান, মুরগি বেশি পাওয়া যাচ্ছে না। খামারিরা খামারে মুরগি তুলছেন না। এই মাসে যদি খামারিরা মুরগি না তোলেন, তবে রমজানে ব্রয়লার মুরগির দাম আরো বাড়তে পারে।
আজিমপুর ছাপড়া মসজিদের বাসিন্দা আলী আজম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি পিয়নের চাকরি করে যে টাকা পাই, সেই টাকায় ডাল-ভাত খেয়ে কোনো মতে চলতে হয়। পরিবার ঢাকা থেকে পাঠিয়ে দিয়েছি করোনার সময়। এখন নিজের চলাও কঠিন হয়ে গেছে। যে মেসে থাকি, সেখানে আগে ডিম দিয়ে খেলে আমাদের মিলের খরচ অনেক কম আসত। মাঝেমধ্যে ব্রয়লার মুরগি দিয়ে গোশতের আফসোস ভোলা যেত। এখন দেখছি আলু ভর্তা আর ডাল ছাড়া গতি নেই!’
কারওয়ান বাজারের মুরগি ব্যবসায়ীরা জানান, সারা দেশেই ব্রয়লার মুরগির সংকট। কম দামে তো দূরের কথা, মুরগিই পাওয়া যাচ্ছে না।
খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে ফিডের বিভিন্ন কাঁচামালের আমদানি সংকুচিত হয়ে পড়ে এবং দামও বেড়ে যায়। এ কারণে ফিডের দাম দফায় দফায় বাড়ায় মিলগুলো। এতে বেড়ে যায় উৎপাদন খরচ, কিন্তু খামারিরা বাজারে উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে মুরগি বিক্রি করতে থাকেন।
সূত্র: যুগান্তর








