তথ্যপ্রযুক্তি

মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথা নিয়ে গ্রামীণফোনের ডিজিটাল ভিডিও তথ্যভান্ডার নির্মাণের উদ্যোগ

নিউজ ডেস্ক৬ ডিসেম্বর ২০১৬৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশের মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মুখ থেকে সরাসরি বর্ণনার মাধ্যমে ডিজিটাল ভিডিও সংগ্রশালা ‘একাত্তরের কথা’ তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছে গ্রামীণফোন।  মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণামূলক গল্পগুলো যেনো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের মনে গেঁথে থাকে সে উদ্দেশ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় গ্রামীণফোন এই উদ্যোগ নিয়েছে।

মঙ্গলবার নগরীর সাহেব বাজারের মুনলাইট গার্ডেন-এ এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গ্রামীণফোন তাদের এই উদ্যোগের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের জানায়।

সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল হান্নান।

অন্যানদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর রুহুল আমিন প্রামানিক এবং আব্দুস সাত্তার, গ্রামীণফোনের হেড অব রাজশাহী সার্কেল তৌহিদুর রহমান তালুকদার, গ্রামীণফোনের হেড অব রাজশাহী সার্কেল মার্কেটিং সোহেল মাহমুদ ও অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

unnamed

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ ৪৫ বছর পার করেছে। এই ৪৫ বছরে অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে গেছেন। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, প্রতি মুক্তিযোদ্ধার সাথে সাথে তার বীরত্বগাথার কথাও হারিয়ে যাচ্ছে। আমাদের তরুণ প্রজন্ম এসব যুদ্ধক্ষেত্রের গৌরবময় সত্য গল্পগুলো থেকে বঞ্চিত হওয়ার পথে।

বেশ কয়েকটি তরুণ দল মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় সারাদেশে বীর মুক্তিযোদ্ধারা যে যেখানে আছেন সেখানে গিয়ে তাদের মুখ থেকে মুক্তিযুদ্ধের গল্পগুলো ভিডিও করার কাজ ইতিমধ্যে শুরু করে দিয়েছে। আলাদাভাবে সংগৃহীত সব মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি কথা ভিডিও ডকুমেন্টারির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হবে। পরে সবগুলো ভিডিও একত্রিত করে অনলাইন ভিডিও সংগ্রহশালা তৈরি করবে গ্রামীণফোন যেখানে ফুটিয়ে তোলা হবে কীভাবে মুক্তিযোদ্ধাগণ স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছেন। গল্প সংগ্রহ করতে দেশের ৬৪টি জেলায় মোট ২০টি দল একযোগে কাজ করবে। দলগুলো মুক্তিযোদ্ধাদের সরাসরি স্বাক্ষাৎকারের মাধ্যমে ভিডিও তৈরি করে নিয়ে আসবে। ফলে দেশের সাধারন জনগন তাদের পরিচিত মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য ওয়েবসাইটে প্রদান করতে পারবেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল হান্নান বলেন, “গ্রামীনফোন এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সমন্বিত এই উদ্যোগ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ঘটনাকে মুক্তিযোদ্ধাদের নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে চিরঞ্জিব করে রাখবে। এই মহতি উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের পাশে এসে দাঁড়ানোর জন্য গ্রামীনফোন কে ধন্যবাদ জানাই”

‘একাত্তরের কথা’ শীর্ষক এই উদ্যোগটি আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে চলবে আগামী তিন মাস। আগামী বছরের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের দিন গ্রামীণফোন আনুষ্ঠানিকভাবে ভিডিও সংগ্রহশালাটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হাতে তুলে দেবে। ভিডিওটি সকলের জন্য অনলাইনে উম্মুক্ত থাকবে।

গ্রামীণফোনের হেড অব রাজশাহী সার্কেল তৌহিদুর রহমান তালুকদার বলেন, “দীর্ঘ সময় পার হয়ে যাওয়ায় আমরা অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিরতরে হারিয়ে ফেলেছি, আর তাই এখনই সময় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমরা মুক্তিযুদ্ধের একেবারে সত্য গল্পগুলো সংরক্ষণ করার। উদ্যোগটির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের গল্পগুলো চিরকাল থেকে যাবে এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের কাছে প্রেরণার সর্বোৎকৃষ্ট উৎস হয়ে থাকবে যারা পরবর্তীতে দেশকে নেতৃত্ব দেবে। আমরা জাতিগতভাবে স্বাধীন বাংলাদেশ এর স্থপতিদের কাছে চির কৃতজ্ঞ, আর তাদের গল্পগুলো অজানা থেকে গেলে যে আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, এমনকি বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।”

বর্তমান প্রজন্মই হচ্ছে শেষ প্রজন্ম যারা কিনা সরাসরি মুক্তিযোদ্ধাদের মুখ থেকে মুক্তিযুদ্ধের কথা শুনতে ও জানতে পারবে, কিন্তু এই উদ্যোগ চিরকালের জন্য সংরক্ষিত করে রাখবে কীভাবে আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে একটি রাষ্ট্রকে স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত করতে মুক্তিযোদ্ধাগণ ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে। ডিজিটাল আকারে তৈরি হতে

যাওয়া গল্পগুলো অনলাইনে বিশ্বের সকল স্বাধীনচেতা মানুষ সহজেই দেখতে পারবেন।

গ্রামীণফোনের এই বিশেষ উদ্যোগটি আজ একই সাথে রাজশাহী ছাড়াও চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট এবং ঢাকায় ভিন্ন ভিন্ন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘোষণা করা হয়।

স/শ