সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
মানুষ ভুল করতেই পারে; এটি আমাদের দুর্বলতার স্বীকারোক্তি। কিন্তু ইসলামের সৌন্দর্য হলো, মানুষ ভুল করলেই চিরস্থায়ী অন্ধকারে পতিত হয় না; বরং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মানুষের জন্য তওবার দরজা সর্বদা উন্মুক্ত রেখেছেন। গুনাহ মানুষের হৃদয়কে আচ্ছন্ন করে ফেললেও তওবা সেই অন্তরকে পুনরায় আলোকিত করতে পারে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের হৃদয়ে গুনাহের প্রভাবকে অত্যন্ত জীবন্ত, বোধগম্য ও হৃদয়স্পর্শীভাবে তুলে ধরেছেন নিচের হাদিসে-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ” إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا أَخْطَأَ خَطِيئَةً نُكِتَتْ فِي قَلْبِهِ نُكْتَةٌ سَوْدَاءُ فَإِذَا هُوَ نَزَعَ وَاسْتَغْفَرَ وَتَابَ سُقِلَ قَلْبُهُ وَإِنْ عَادَ زِيدَ فِيهَا حَتَّى تَعْلُوَ قَلْبَهُ وَهُوَ الرَّانُ الَّذِي ذَكَرَ اللَّهُ : ( كلاَّ بَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِمْ مَا كَانُوا يَكْسِبُونَ ) ” .

আবূ হুরাইরাহ (রা.) হতে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: বান্দা যখন একটি গুনাহ করে তখন তার অন্তরের মধ্যে একটি কালো চিহ্ন পড়ে।
অতঃপর যখন সে গুনাহর কাজ পরিহার করে, ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং তওবা করে তার অন্তর তখন পরিষ্কার ও দাগমুক্ত হয়ে যায়। সে আবার পাপ করলে তার অন্তরে দাগ বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং তার পুরো অন্তর এভাবে কালো দাগে ঢেকে যায়। এটাই সেই মরিচা আল্লাহ তা’আলা যার বর্ণনা করেছেনঃ “কখনো নয়, বরং তাদের কৃতকর্মই তাদের মনে জং (মরিচা) ধরিয়েছে”— (সুরা মুত্বাফফিফীন ১৪)। (তিরমিজি, হাদিস ৩৩৩৪)
হাদিসের ব্যাখ্যা
হাদিসটি মানুষের রুহানিয়াত, হৃদয়ের পবিত্রতা এবং গুনাহের প্রতিক্রিয়াকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে।
গুনাহ অন্তরে একটি কালো দাগ সৃষ্টি করে। কারণ গুনাহ কখনো বাহিরে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রথম প্রভাব পড়ে মানুষের ক্বালব বা অন্তরে। প্রথম দাগটি ছোট হলেও এটি এক ধরনের আধ্যাত্মিক সতর্ক সংকেত। কিন্তু তওবা করলে অন্তরের সেই দাগ মুছে যায়।
কেননা আল্লাহ অসীম দয়ালু। বান্দা আন্তরিক তওবা করলে তাঁর হৃদয় আবার আগের মতো উজ্জ্বল হয়ে যায়। এটা মহান রবের বিরাট অনুগ্রহ যে, গুনাহ মানুষকে স্থায়ীভাবে নষ্ট করে দেয় না; বরং রবের দরবারে ফিরে আসার রাস্তা খোলা থাকে।
তবে পাপে অবিচল থাকলে হৃদয় অন্ধকারে ঢেকে যায়। যখন গুনাহ অভ্যাসে পরিণত হয়, তখন দাগগুলো বাড়তে থাকে।
একসময় অন্তর এতটাই ঢেকে যায় যে নেকির আলো সেখানে প্রবেশ করতে পারে না। তখন মানুষ পাপকে পাপ মনে করে না—এটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক অবস্থা।
পবিত্র কোরআনে এ অবস্থাকে ‘রান’ বা মরিচা বলা হয়েছে। সূরা মুত্বাফ্ফিফীন ১৪-এ আল্লাহ বলেন: “বরং তাদের কৃতকর্মই তাদের হৃদয়কে মরিচা ধরিয়ে দিয়েছে।” এখানে “রান” বলতে বোঝানো হয়েছে এমন একটি জং, যা ধীরে ধীরে জমতে জমতে হৃদয়ের আলোকে ঢেকে ফেলে।
হাদিস থেকে মূল শিক্ষা
গুনাহ যতই ছোট হোক, তার প্রভাব হৃদয়ে পড়ে।
তওবা হৃদয়কে পরিচ্ছন্ন করার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম।
গুনাহে অবিচল থাকা হৃদয়কে অন্ধ করে দেয়, ফলে হক-বাতিলের ফারাক বোঝা যায় না।
নেক আমল, যিকর, ইস্তিগফার ও সৎ পরিবেশ—এগুলো হৃদয়ের মরিচা দূর করার উপায়।









