সব খবর

মাদকের ট্রানজিট পয়েন্ট না’গঞ্জ

নিউজ ডেস্ক১৬ নভেম্বর ২০২০৩ মিনিট পড়া

দেশের মাদক কারবারের অন্যতম ট্রানজিট পয়েন্ট এখন নারায়ণগঞ্জ জেলা। ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সংযোগস্থল কাঁচপুর এলাকা হল এই মাদকের অন্যতম বর্ডার। এই দুই মহাসড়কের ৩৬টি রুটে প্রতিদিন নারায়ণগঞ্জে মাদকের বিপুল পরিমাণ চালান প্রবেশ করছে। এর মধ্যে ইয়াবা ও ফেনসিডিলের সবচেয়ে বড় চালানগুলো আসছে মিয়ানমার ও ভারতীয় সীমান্ত পাড়ি দিয়ে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা জেলা হয়ে। তবে ফেনসিডিলের চেয়ে এখন সবচেয়ে সহজলভ্য হয়ে উঠেছে মরণনেশা ইয়াবা। পুরো জেলায় এমন কোনো পাড়া-মহল্লা নেই যেখানে ইয়াবার কারবার না হচ্ছে।

জানা গেছে, শুধু রূপগঞ্জের চনপাড়া বস্তি এলাকাতেই প্রতিদিন ইয়াবার চাহিদা রয়েছে প্রায় ২০ হাজার পিস। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ শহর এখন যেন ইয়াবার শহরে পরিণত হয়েছে। শহর ও শহরতলীর যে কোনো পাড়া-মহল্লায় হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা। শুধু নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর, নগর খানপুর, তল্লা, জামতলা, দেওভোগ এলাকায়ই প্রতিদিন গড়ে কয়েক হাজার পিস ইয়াবা বিক্রি হচ্ছে বলে বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে। মাদকের এই নীল দংশনে ধ্বংস হচ্ছে জেলার কিশোর ও যুবসমাজসহ অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী। তবে র‌্যাব-১১ এর অভিযানে নিয়মিত মাদক উদ্ধারের ঘটনা দেখা গেলেও জেলা পুলিশের ৭টি থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবির মাদক উদ্ধারের তেমন কোনো বড় সাফল্য দেখা যাচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন থানা এলাকায় পুলিশের সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ীদের সখ্য থাকার কারণেই মাদকের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, ইদানীং ইয়াবা ব্যবসায় কিশোর বয়সের ছেলেরা ও নারীরা জড়িয়ে পড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। ফলে সমাজে ধীরে ধীরে অপরাধপ্রবণতা বেড়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, যে কিশোর গ্যাংয়ের উদ্ভব হয়েছে প্রতিটি এলাকায়, তার নেপথ্যের প্রধান কারণই হল মাদকের সহজলভ্যতা। চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা রাজনৈতিক শেল্টারে কিশোরদের দিয়ে মাদক ব্যবসা করাচ্ছে বলেই এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে কিশোর গ্যাংয়ের লড়াই হচ্ছে, খুনের মতো ঘটনা ঘটছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করা এসব মাদকদ্রব্য বিভিন্ন কৌশলে ট্রাক অথবা বাসে পৌঁছে যাচ্ছে নিজ গন্তব্যে। এছাড়াও ঢাকার আমিনবাজার, গেণ্ডারিয়া, কমলাপুর, শ্যামপুর ও আশপাশের এলাকা থেকেও মাদকের ছোট-বড় চালান প্রবেশ করছে নারায়ণগঞ্জে। সূত্র জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোড এলাকায় বিভিন্ন পরিবহনের পার্সেল সার্ভিসের নামে মহিলাদের প্রশাধনী পণ্যের ভেতর করে আসছে হাজার হাজার ইয়াবা। শুধু নারায়ণগঞ্জ শহর ও আশপাশের এলাকাগুলোয়ই দেড় শতাধিক মাদক স্পট রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ শহরের হাজীগঞ্জ, তল্লা, ব্যাংক কলোনি, মাছুয়াপাড়া, আমলাপাড়া, নন্দীপাড়া, জামতলা, ধোপাপট্টি, পালপাড়া, ৫নং ঘাট, বৌবাজার, বাবুরাইল, নয়াপাড়া, জলারপাড়া, জিমখানা, নতুন জিমখানা, সুতারপাড়া, নিতাইগঞ্জ, নয়ামাটি, বালুরমাঠ, শহরের শহীদ মিনার এলাকা, ফতুল্লার কুতুবাইল, রেললাইন, কাঠেরপুল, পৌষার পুকুরপাড়, দেওভোগ, শিবু মার্কেট, নতুন স্টেডিয়াম এলাকা, বাড়ৈভোগ, মাসদাইর, ইসদাইর, সস্তাপুর, পুলিশ লাইন, গাবতলীসহ প্রায় প্রত্যেক মহল্লায় এখন হাত বাড়ালেই মাদক পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়াও জেলার বন্দর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নেও হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা, ফেনসিডিল। সূত্র জানায়, বন্দরের সিটি কর্পোরেশনের ২২নং ওয়ার্ডের খাদিমপাড়া, লতিফ হাজীর মোড়, একরামপুর কলেজ মাঠ, উত্তরপাড়া, বাগবাড়ী, হাসপাতাল মোড়সহ রয়েছে দেড় ডজন ইয়াবার স্পট।

এসব এলাকার পাশাপাশি ফতুল্লার বিশাল বিসিক এলাকায়ও মাদকের ব্যবসা চলছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলো জমজমাট ব্যবসা করছে। এসব কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা অধিকাংশই যুবক এবং সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান।

 

সূত্রঃ যুগান্তর

ট্যাগ: