সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
প্রক্সি পরীক্ষার্থীর সহায়তায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পাওয়ার পর যোগদানপত্র দাখিল করতে এসে ফেস ভেরিফিকেশনে (মুখের অবয়ব পরীক্ষা) ধরা পড়েছেন চারজন। শাহবাগ থানায় করা প্রতারণার মামলায় ঢাকা অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সোমবার (২০ জুলাই) তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
আসামিরা হলেন মো. রাসেল রানা লিটন (৩২), মো. আলিম (২৮), মো. আলী হায়দার (২৯) এবং মো. মাসুদ ফকির (৩১)।

সোমবার বিকেলে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মো. জোনাইদ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আসামিদের জামিন আবেদনের ওপর শুনানির জন্য মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দিন ধার্য করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ৫ মে অফিস সহায়ক (গ্রেড-২০) পদের ২০টি শূন্য পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।
এরপর ১৯ জুন লিখিত এবং ২৪, ২৫ ও ২৬ জুন মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষা শেষে গত ৬ জুলাই চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয় এবং ১৯ জুলাই (রবিবার) সকাল ১০টার মধ্যে সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনের ১৮০২ নম্বর কক্ষে যোগদানপত্র দাখিল করতে বলা হয়।
নির্ধারিত সময়ে আসামিরা সচিবালয়ে যোগ দিতে এলে তাদের চেহারা ও উপস্থিতি সন্দেহজনক মনে হয়। পরে উপস্থিত কর্মকর্তারা তাদের ছবি ও তথ্য মৌখিক পরীক্ষার সময় তোলা ক্যামেরার ছবির সঙ্গে মেলান (ফেস ভেরিফিকেশন)।
এতে মুখের অবয়বে মারাত্মক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আসামিরা স্বীকার করেন, মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে প্রক্সি পরীক্ষার্থীর সহায়তায় তারা লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নিয়োগপত্র পেয়েছিলেন।
এ ঘটনায় রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সচিবালয় থেকে তাদের আটক করে শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পরদিন সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এইচ এম আরিফুর রহমান বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
সোমবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক মো. আবদুল গাফফার (হিমেল) আসামিদের আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটকে রাখার আবেদন জানান।
অন্যদিকে আসামিদের পক্ষে আদালতে জামিন আবেদন করা হয়। আসামি রাসেল রানা লিটন ও আলী হায়দারের পক্ষে তাদের আইনজীবী নাজনীন আক্তার এবং আসামি মাসুদ ফকিরের পক্ষে আইনজীবী মো. মনির হোসাইন জামিনের জন্য আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদনের ওপর শুনানির তারিখ পরদিন নির্ধারণ করে চার আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।









