সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
মিউনিখের অ্যালিয়েঞ্জ এরেনায় হাইভোল্টেজ ‘ডার ক্লাসিকো’র আগে হ্যারি কেইনের সদ্য জেতা ব্যালন ডি’অর জয়ের আনন্দ এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপন করে বায়ার্ন মিউনিখ। তবে ব্যক্তিগত এই অর্জনের মুহূর্তটিকে মাঠে দলগত জয়ে রূপ দিতে পারেননি ইংল্যান্ডের এই তারকা স্ট্রাইকার।
উল্টো ম্যাচে একটি গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি মিস করে বাভারিয়ানদের জয়ের আনন্দ মাটি করে দেন তিনি।
রোমাঞ্চকর এই ম্যাচে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ২-২ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বায়ার্নকে। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে হ্যারি কেইন যদি তার স্পট কিক থেকে গোল করতে পারতেন, তবে নিশ্চিতভাবেই পুরো তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারত স্বাগতিকরা। কিন্তু শেষ দিকে ফ্যাবিও সিলভার দুর্দান্ত গোলে বায়ার্নকে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে বাধ্য করে ডর্টমুন্ড।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে লড়াই। ৩৮তম মিনিটে কনরাড লাইমারের দুর্দান্ত গোলে বায়ার্নকে এগিয়ে দেন। প্রথমার্ধের দিকে জোবে বেলিংহামের একটি গোল ভিএআরের সুবাদে বাতিল হলে সমতা ফেরানোর দারুণ সুযোগ হাতছাড়া হয় ডর্টমুন্ডের।
এরপর ম্যাচের ৫৬ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে সদ্যঃসমাপ্ত ঐতিহাসিক সপ্তাহটিকে আরো স্মরণীয় করে তোলার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন কেইন।
গত সোমবারই লন্ডনের জমকালো অনুষ্ঠানে বিশ্বের সেরা ফুটবলার হিসেবে ব্যালন ডি’অরের স্বীকৃতি পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু অ্যালিয়েঞ্জ এরেনায় পেনাল্টি শটে বল ক্রসবারে লাগিয়ে বসে বসেন এই ইংলিশ অধিনায়ক, যা হতাশ করে পুরো স্টেডিয়ামকে। এই ভুলের খেসারত দিতে খুব বেশি সময় লাগেনি; এর কিছুক্ষণ পরেই গোল করে ডর্টমুন্ডকে সমতায় ফেরান সেরহু গুইরাসি।
তবে পেনাল্টি মিসের সেই আক্ষেপ আংশিক কাটার সুযোগ এসেছিল একটু পরেই। ডায়োট উপামেকানোর গোলে বায়ার্ন ফের এগিয়ে গেলে সেই গোলটিতে অ্যাসিস্ট করেন কেইন নিজেই।
কিন্তু পেনাল্টি মিসের বড় সেই আফসোস আরো বাড়িয়ে দেন ফ্যাবিও সিলভা। ম্যাচের ৮৯ মিনিটে গোল করে ডর্টমুন্ডের পরাজয় তো বাঁচিয়েই দেন, সঙ্গে লিগে তাদের অপরাজিত থাকার গৌরবও অক্ষুণ্ণ রাখেন এই ফরোয়ার্ড।
বায়ার্নের জন্য এই ম্যাচটি শুধু পয়েন্ট হারানোই নয়, বরং বয়ে এনেছে বড় ধরনের ইনজুরির দুঃসংবাদ। দলের অন্যতম সেরা তারকা ও ব্যালন ডি’অরের জন্য মনোনীত মাইকেল ওলিসে, মিডফিল্ডার ইসমাইল সাইবারি এবং ফরোয়ার্ড সার্জ গিন্যাব্রি—তিনজনই ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছেড়েছেন। ডর্টমুন্ড গোলকিপার গ্রেগর কোবেলের সঙ্গে সংঘর্ষে ডান পায়ে গুরুতর চোট পান সাইবারি, যাকে দুজন চিকিৎসাকর্মীর সহায়তায় স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয়। নাথানিয়েল ব্রাউনের বদলি হিসেবে সাইবারি নামার ঠিক দুই মিনিট পর পেশির অস্বস্তিতে আক্রান্ত হয়ে মাঠ ছাড়েন গিন্যাব্রি। আর ম্যাচের শেষ মুহূর্তে এসে চোটের শিকার হয়ে মাঠ ছাড়েন ওলিসে।
তা ছাড়া, অসুস্থতার কারণে এদিনও বায়ার্ন তাদের প্রধান কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানিকে ডাগআউটে পায়নি। ভাইরাল ইনফেকশনে আক্রান্ত এই বেলজিয়ান কোচ সম্প্রতি হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরলেও চিকিৎসকদের পরামর্শে আপাতত বিশ্রামে ও কঠোর পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
এই হাইভোল্টেজ ম্যাচ ড্র হওয়ার ফলে পয়েন্ট টেবিলের এককভাবে শীর্ষে ওঠার সোনালি সুযোগ হাতছাড়া করেছে দুই দলই। বর্তমানে সমান ১৮ পয়েন্ট নিয়ে বুন্দেসলিগার পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুইয়ে অবস্থান করছে বায়ার্ন মিউনিখ ও বরুসিয়া ডর্টমুন্ড, তবে গোলব্যবধানে এগিয়ে থেকে টেবিলের এক নম্বরে রয়েছে বাভারিয়ানরাই।









