সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ২০১৫ সালে হরতাল এবং অবরোধে কী পরিমাণ ক্ষতি হয় এ নিয়ে একটি জরিপ করে। এতে বলা হয়, রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে দেশের অর্থনীতিতে প্রতিদিন ক্ষতি হয় প্রায় দুই হাজার ২৭৭ কোটি টাকা। তবে প্রতিদিন শিল্প উৎপাদন সক্ষমতায় ২৫ শতাংশ ক্ষতি ধরলে এর পরিমাণ প্রায় দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকারও বেশি হয়।
এ অবস্থায় দেশ যখন রাজনৈতিক শান্তিপূর্ণ অবস্থায় তখনই শ্রমিক সংগঠনের ডাকা পরিবহন ধর্মঘটে দেশ অনেকটাই অচল। অথচ এ নিয়ে রা শব্দটি করছেন না ব্যবসায়ীরা। তবে নিজেদের উদ্যোগে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা না দিলেও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠনগুলো জানায়, এই ধরনের ধর্মঘট অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অপ্রত্যাশিত। এর ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। এ ছাড়া চলমান এই পরিবহন ধর্মঘটে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হয়ে মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

গত রবিবার ভোর থেকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সারা দেশে ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি কর্মসূচি নিয়েছে। সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ সংসদে পাস হওয়ায় শ্রমিক ফেডারেশন সেই আইনের বিভিন্ন ধারার ব্যাপারে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, দেশের অর্থনীতি এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করে এমন ধর্মঘট কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি বলেন, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এবং দেশের প্রচলিত নিয়মের মাধ্যমে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।
এ ধরনের ধর্মঘট আমাদের আবারও আতঙ্কিত করে উল্লেখ করে শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, দেশের এত উন্নতির পরও আমরা আবারও পুরনো জায়গায় ফিরে যাচ্ছি। এটা হতে পারে না। পরিবহন ধর্মঘটের কারণে ফসল জমিতে নষ্ট হবে। এটা হতে দেওয়া যায় না। এর ফলে এক জায়গায় প্রচুর পণ্য পাওয়া যাবে; অন্য জায়গায় থাকবে না। অতিরিক্ত দাম দিয়ে ভোক্তাকে পণ্য কিনে খেতে হবে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। রপ্তানির ক্ষেত্রে জাহাজিকরণ করা যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ফলে বন্দর থেকে খালি কার্গো ফিরে যাবে। বিদেশি ক্রেতাদের কাছে আস্থার সংকট তৈরি হবে।
ধর্মঘট প্রত্যাহারে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে সংশ্লিষ্টরা যেন সরকারের সঙ্গে বসে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করেন।
তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত এই ধরনের কোনো ধর্মঘট আমাদের কাম্য নয়। মাঝেমধ্যেই এই ধরনের ধর্মঘটে আমাদের বেশ ক্ষতি হয়। উদ্যোক্তা এবং রপ্তানিকারকদের পণ্য জাহাজিকরণে নানাভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। যেকোনো সমস্যার সমাধান আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে করা যায়। কোনোভাবেই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত করে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যকে জিম্মি করে আন্দোলনের পক্ষে নই আমরা।
এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের পক্ষে কী উদ্যোগ নিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, গতকালই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে কথা বলেছি; কিন্তু নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের নিকটাত্মীয় মারা যাওয়ায় তাঁর সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন আজ রাতের মধ্যেই এই ধর্মঘটের অবসান হবে।
দেশজুড়ে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের চলমান ধর্মঘটে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, চলমান শ্রমিক কর্মবিরতির ফলে দেশের পরিবহনব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে, এর ফলে প্রয়োজনীয় পণ্য সময়মতো এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরবরাহ করা যাচ্ছে না। রপ্তানি প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা পণ্য জাহাজিকরণে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে সংকট তৈরি হবে। দেশের অর্থনীতিকে বাঁচানোর জন্য এই ধরনের ধর্মঘট প্রত্যাহার করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আসার আহ্বান জানান তিনি।









