সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে এসে এক ধরনের বৈপরীত্যের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে রপ্তানি ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে, অন্যদিকে দেশীয় অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বড় ধাক্কা খেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুন ২০২৫ শেষে প্রাইভেট সেক্টর ক্রেডিট প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৬.৪৯ শতাংশে, যা ইতিহাসের সর্বনিম্ন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার অনেক নিচে এ প্রবৃদ্ধি ব্যবসায়ীদের অনাগ্রহ, উচ্চ সুদহার, রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ব্যাংকগুলোর সতর্ক ঋণনীতির প্রতিফলন।
পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সেপ্টেম্বর মাসের ইকোনমিক আপডেট অ্যান্ড আউটলুকে এ চিত্র উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, ব্যাংকিং খাতে অনিশ্চয়তা, ডলার ঘাটতি এবং বিনিয়োগ পরিবেশের অনিশ্চয়তার কারণে উদ্যোক্তারা নতুন ঋণ নিতে আগ্রহী নন। এতে শিল্প ও ব্যবসা খাতের সম্প্রসারণ থমকে যাচ্ছে, যা কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের আগস্ট শেষে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৮.৮৮ শতাংশে।
সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটিই সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি। অন্যদিকে সরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বিপরীত চিত্র তুলে ধরেছে। জুন শেষে এই খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৩.০৯ শতাংশে, যা এক বছর আগের ৯.৬৬ শতাংশ থেকে অনেক বেশি। ট্যাক্স রাজস্ব ঘাটতি মেটাতে সরকারের ব্যাংকনির্ভরতা বাড়ায় এই প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
এর ফলে ব্যাংক খাতে সরকারের ঋণের চাপ বেসরকারি খাতকে কার্যত ‘ক্রাউড আউট’ করছে, অর্থাৎ ব্যবসায়ীদের জন্য পর্যাপ্ত ঋণপ্রবাহ সীমিত হয়ে পড়ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে।
মুদ্রাস্ফীতিতে সামান্য স্বস্তি: এদিকে সাধারণ মানুষের জন্য একটুখানি ইতিবাচক খবর হলো মুদ্রাস্ফীতিতে সামান্য কমতি। আগস্ট মাসে সাধারণ মুদ্রাস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯.৭০ শতাংশে, যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। বিশেষ করে খাদ্যপণ্যের দামে কিছুটা স্বস্তি এসেছে।
রাজস্ব সংগ্রহে ঘাটতি : চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রাজস্ব আদায় প্রত্যাশিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় পিছিয়ে আছে। আগস্ট শেষে রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ৪৭ হাজার কোটি টাকা, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল আরো কয়েক হাজার কোটি বেশি। এর ফলে বাজেট ঘাটতি বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এডিপি বাস্তবায়নে ভাটা : উন্নয়ন কার্যক্রমেও ধীরগতি লক্ষ করা যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ২.৩৯ শতাংশে। এই সময়ে খরচ হয়েছে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় বেশ কম। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এডিপি বাস্তবায়নে ধীরগতি থাকলে অবকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি শ্লথ হয়ে যাবে।









