বেওয়ারিশ লাশের ওয়ারিশ ‘বাতিঘর’, সাড়ে চার বছরে ২০০ দাফন
নিউজ ডেস্ক৫ জুলাই ২০২৫২ মিনিট পড়া
সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক : বেওয়ারিশ লাশগুলো যেন আর অচেনা-অজানা হয়ে পড়ে না থাকে—এই মানবিক দায়বোধ থেকেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তরুণদের সংগঠন বাতিঘর গত সাড়ে চার বছরে ২০০ জন অজ্ঞাতনামা মৃত ব্যক্তিকে সম্মানের সঙ্গে দাফন করেছে। স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করা এই সংগঠন জেলার নানা প্রান্তে গিয়ে লাশ মর্গে নিয়ে আসা থেকে শুরু করে গোসল, কাফন, জানাজা ও দাফনের পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করে।
২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার মধ্যপাড়ার মো. আজহার উদ্দিনের হাত ধরে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’ প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি বর্তমানে সংগঠনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার নেতৃত্বে একদল তরুণ প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও এই সেবামূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।সর্বশেষ গত ২৪ জুন কসবা থেকে উদ্ধার হওয়া আনুমানিক ৫০ বছর বয়সী এক নারীর লাশ দাফনের মধ্য দিয়ে বাতিঘরের দাফন সংখ্যা ২০০ ছাড়ায়। এর পরের লাশের ক্ষেত্রেও পরিবারের একজন সদস্য থাকা সত্ত্বেও তিনি বাবার লাশ নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে বাতিঘরই লাশটি দাফন করে।
বাতিঘর সাধারণত ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার পূর্ব মেড্ডা তিতাস নদীর পাড়ে বেওয়ারিশ লাশ দাফন করে। তবে জায়গাটি নিচু হওয়ায় বর্ষাকালে কবরস্থানে পানি জমে যায়, যা দাফনের সময় বড় সমস্যা তৈরি করে। এজন্য জায়গাটি উঁচু করার বিষয়ে প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আজহার উদ্দিন বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকেই বেওয়ারিশ লাশ দাফনকে লক্ষ্য করে কাজ শুরু করি।
থানা থেকে যখনই ডাকা হয়, আমরা ছুটে যাই। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক অর্থায়নে কাজ চালাচ্ছি।’ তিনি জানান, করোনাকালে বাতিঘর অক্সিজেন সেবা দিয়েছে, জরুরি রক্ত সংগ্রহেও সহযোগিতা করছে। সচেতন নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবদুন নূর বলেন, ‘বাতিঘরের কাজ সত্যিই প্রশংসনীয়। কিন্তু তাদের দাফনের জায়গাটি ভরাট করা জরুরি।ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ওসি মো. মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘যখনই কোনো অজ্ঞাত লাশ পাওয়া যায়, বাতিঘরের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তারা মানবিক দায়িত্ব থেকে লাশ দাফন করে।’মানবিকতা আর দায়িত্ববোধের শক্তিই বাতিঘরকে প্রেরণা জুগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সদস্যরা। আজীবন এই কাজ চালিয়ে যেতে চান তারা।