নিজস্ব প্রতিবেদক:
সরবরাহ ঘাটতির অজুহাতে দেশে অস্বাভাবিকভাবে যখন চিনির দর বাড়ছে তখন সরকারি চিনি পড়ে আছে গুদামে। রাজশাহী সুগার মিলে মজুদ রয়েছে বিপুল পরিমাণ চিনি।
অথচ ঊর্ধ্বগতির সময়েও মিল থেকে ডিলারদের মাঝে তেমন হারে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না। ফলে রোজার পরেও এই মিলে বিপুল পরিমাণ চিনি মজুদ থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আর এটি হলে ঈদের পরে মিলে মজুদকৃত চিনি বর্তমান বাজারের চেয়ে কম মূল্যেই বিক্রি করতে হবে বলেও আশঙ্কা করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

রাজশাহী চিনিকল সূত্রে মতে, বর্তমানে রাজশাহী চিনিকলে চিনি মজুদ রয়েছে ৫ হাজার ১৬৫ মেট্রিক টন। মোটা লাল চিনি নামে পরিচিত এই চিনির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে ভোক্তাপর্যায়ে। ফলে আমদানীকৃত চিনির তুলনায় রাজশাহীর চিনির চাহিদা সব সময়ের জন্যই কয়েক গুণ বেশিই থাকে। রোজার মধ্যে এই চিনির চাহিদা আরো বেড়ে যায় কয়েক গুণ। তবে এখন পর্যন্ত চলতি মাসে রাজশাহী চিনিকল থেকে মাত্র ৭৪২ টন চিনি ডিলারদের মাঝে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ খাদ্য ও চিনি করপোরেশন। ৭৪২ জন ডিলারের মাঝে এক টন হারে বরাদ্দকৃত চিনির মধ্যে ৬৯৯ টন উত্তোলনও করেছেন ডিলাররা। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে বরাদ্দের বাকি অংশগুলোও উত্তোলন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আবার যারা আগেই বরাদ্দ পেয়ে চিনি উত্তোলন করেছেন তাঁরাও এখন চিনি পাওয়ার জন্য ঘুরছেন। কিন্তু বরাদ্দ না পেয়ে তাঁরা বাজারে সেই চিনি বিক্রি করতে পারছেন না।
এদিকে খোঁজ নিয়ে গেছে, বর্তমানে বাজারে খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৬৭ টাকা কেজি দরে। অন্যদিকে প্যাকেটজাত চিনি বিক্রি হচ্ছে ৭২-৭৩ টাকা কেজিতে। দেশের বাইরে থেকে আমদানি করা এই চিনিগুলো নিয়ে এসে বিক্রেতারা বাড়তি দামে বিক্রি করছেন। কিন্তু রাজশাহী চিনিকলে প্রচুর পরিমাণে চিনি মজুদ থাকা সত্ত্বেও ছাড়পত্র না পাওয়ায় তা মিল থেকে ছাড়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন এখানকার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
রাজশাহীর ওমর আলী নামের এক ডিলার অভিযোগ করেন, বাজারে বর্তমানে প্রচুর চিনির চাহিদা রয়েছে। ঈদের দুই-এক দিন আগে সেই চাহিদা আরো কয়েক গুণ বাড়বে। ওই সময় বাজারে পর্যাপ্ত চিনি না থাকলে দাম আরো বেড়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে এবার চিনি ৮০ টাকা কেজিও হতে পারে। এই অবস্থায় মিল থেকে দ্রুত চিনি ছাড়ার ব্যবস্থা করা গেলে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। মিলও সঠিক দাম পাবে। এ ছাড়া রাজশাহীর চিনিকলে চিনি মজুদ রেখে পরে অনেক কম মূল্যে বিক্রি করতেও দেখা গেছে।
জানা যায়, রাজশাহীর চিনিকল থেকে ২০১১-১২ সালে চিনি বিক্রি করা হয়েছে ৩৭ টাকা কেজি দরে। অথচ এই চিনি সময়মতো বাজারে ছাড়লে সঠিক দাম পেত। কিন্তু এবারও সঠিক সময়ে মিল থেকে চিনি না ছাড়া হলে পরে মিলকে কম মূল্যেই চিনি বিক্রি করতে হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
রাজশাহী চিনিকলের এমডি আশফাকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য করপোরেশন থেকে ডিলারদের মাঝে যে পরিমাণ চিনি বরাদ্দ দেওয়ার অনুমতি পেয়েছি, সেগুলো এরই মধ্যে প্রায় শেষ হতে চলেছে। এর বাইরে প্রতিদিন রাজশাহীর বাজারে দুই থেকে আড়াই টন চিনি একটি ট্রাকে করে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে এভাবে চিনি বিক্রি করলেও প্রচুর পরিমাণে চিনি মজুদ থেকে যাবে রোজার পরে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘রোজার মধ্যে চিনি ছাড়তে পারলে বর্তমান বাজারটাই পাওয়া যাবে। তবে পরে কী হবে এখন তা বলা যাবে না। ’









