সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
শুধু বাংলাদেশের জন্য ’কর্ম’ নামে একটি অ্যাপ এনেছে গুগল, যেটি চাকরিপ্রার্থী এবং নিয়োগদাতাদের অনলাইন মার্কেটপ্লেস।
বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি রেস্টুরেন্টে ‘কর্মে’র অনুষ্ঠানিক যাত্রার ঘোষণা দেন এই অ্যাপ তৈরির প্রকল্পের প্রধান বিকি রাসেল।

২০১৭ সালের শেষ দিক হতে এটি পরীক্ষামূলকভাবে চলছিল। গুগলের স্টার্টআপ তৈরির প্রকল্প এরিয়া ১২০-এর অধীনে এই অ্যাপ তৈরির কাজ হয়েছে।
অ্যাপভিত্তিক জব মার্কেটপ্লেসের মতো একটি উদ্যোগ নিয়ে আসার আগে বাংলাদেশের চাকরির বাজার, চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতাদের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে বিকির দল।
বিকি রাসেল বলছেন, বাংলাদেশের চাকরির বাজারের একটি বড় অংশই চাকরির জন্য হন্নে হয়ে ঘুরছে। তাদের অনেকেই জানে না কোথায় চাকরি, কেমন যোগ্যতা লাগবে আর কীভাবেই বা যোগাযোগ ও আবেদন করতে হবে। অন্যদিকে যারা চাকরি দেবেন তারাও তাদের প্রয়োজনের সঠিক কর্মীটি খুঁজে পেতে উদগ্রীব থাকেন। এছাড়া চাকরির চুক্তি, বেতন, শর্ত ও সুবিধার বিষয়গুলোও এখানে অনেক সময় অস্পষ্ট দেখা যায়।
‘বাংলাদেশ এখন ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টে রয়েছে যেখানে প্রতি বছর লাখ লাখ তরুণ চাকরির বাজারে আসছে। সেখানে অনানুষ্ঠানিক চাকরিগুলোতে অনেক কর্মী লাগছে, অনেক তরুণ চাকরি নিচ্ছে। আর এসব বিবেচনায় কর্ম শুরু।’-বলেন তিনি।
প্লাটফর্মটি এখন বিনামূল্যে। তবে ভবিষ্যতে তা বিনামূল্যে থাকবে কিনা তা ভবিষ্যতই বলে দেবে বলে টেকশহরডটকমের এক প্রশ্নের উত্তরে জানান কর্মের সিইও।
দেশে বিডিজবসের মতো প্রতিষ্ঠিত জব মার্কেটপ্লেসের সঙ্গে প্রতিযোগিতার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিডিজবস দীর্ঘদিন এই বাজারে। কর্মের যাত্রা সবে শুরু হলো, আমরা আমাদের মতো এগিয়ে যাবো।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘মেশিন লার্নিং’ ব্যবহার করে ‘বেস্ট ম্যাচ’ মডেলিংয়ে সামঞ্জস্য রেখে চাকরিপ্রার্থীর সঙ্গে গ্রহণযোগ্য চাকরির সংযোগ করে র্কম। এটি চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতা উভয়ের জন্যই টু-ওয়ে রেটিং সিস্টেম। এটি ইনফরমাল চাকরির বাজারে নির্দিষ্ট কাঠামো ও মেট্রিকস তৈরি করবে।
‘ দক্ষতা ও ব্যক্তিগত উন্নয়ন বাড়াতে এই অ্যাপে বিষয়ভিত্তিক কন্টেন্টও থাকবে। অন্যান্য জব ম্যাচিং এবং জব লিস্টিং সাইট থেকে কর্ম আলাদা। কর্ম নিয়মিতভাবে ব্যবহারকারীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে এবং জব ম্যাচিং থেকে আরও এগিয়ে চাকরির পোস্ট পরিপূর্ণ করে ।’-বলছিলেন এর নির্মাতারা।
তারা বলছেন, কর্ম ইন্টারভিউ উপস্থিতি, সফল নির্বাচন, সনদ প্রদান এবং চাকরিপ্রার্থীর অভিজ্ঞতা সংগ্রহ, স্বয়ংক্রিয়ভাবে চাকরিপ্রার্থীর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে সিভি তৈরি করে দেয়।
বিকি জানান, এখন পর্যন্ত ২১ হাজারেরও বেশি কর্মসংস্থান হয়েছে কর্মের মাধ্যমে। যেখানে এক হাজারেরও বেশি নিয়োগদাতা যুক্ত ছিলেন।
কর্মের অ্যাপ অ্যান্ড্রয়েডে গুগল প্লে থেকে ডাউনলোড করা যাবে।









