অর্থ ও বাণিজ্য

বন্দরে পণ্যজট ও অর্থদণ্ডের শঙ্কা

নিউজ ডেস্ক১৭ এপ্রিল ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

দেশের প্রধান প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানিতে নতুন করে জটিলতার মেঘ জমতে শুরু করেছে। আমদানি করা পণ্য চালানে ঘোষণার চেয়ে সামান্য অমিল পেলেই এখন থেকে বিল অব লেডিং (বিএল) ও বিল অব এন্ট্রি সংশোধন বাধ্যতামূলক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই নতুন আদেশের ফলে একদিকে যেমন পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে বন্দরে ভয়াবহ কনটেইনারজট ও আমদানিকারকদের ওপর বিপুল অঙ্কের আর্থিক জরিমানার খড়্গ নেমে আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এত দিন নিয়ম ছিল কায়িক পরীক্ষায় যদি কোনো চালানে ঘোষণার চেয়ে সামান্য বেশি ওজন বা বাড়তি প্যাকেজ পাওয়া যেত, তবে বিল অব এন্ট্রি ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট’ করে শুল্ক পুনর্নির্ধারণের মাধ্যমে পণ্য খালাস করা যেত।

এতে সময় ও খরচ দুই-ই বাঁচত। কিন্তু এনবিআরের সাম্প্রতিক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কায়িক পরীক্ষায় ওজন বা প্যাকেজে কোনো অমিল থাকলে বিএল অপরিবর্তিত রেখে সমন্বয় করাকে ‘অনিয়ম’ হিসেবে গণ্য করা হবে। এখন থেকে আগে বিএল সংশোধন করতে হবে, এরপর শুরু হবে শুল্কায়ন প্রক্রিয়া। 

এই আদেশকে ‘বাণিজ্য সহজীকরণ’ নীতির পরিপন্থী হিসেবে দেখছেন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারকরা।

চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত আলী বলেন, ‘আমরা চার দিনের মধ্যে পণ্য খালাসের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। কিন্তু নতুন এই নিয়ম আমাদের সেই লক্ষ্য থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। বিএল সংশোধন করার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল এবং সময়সাপেক্ষ। যতক্ষণ সংশোধন না হবে, ততক্ষণ পণ্য ডেলিভারি নেওয়া সম্ভব হবে না।
ফলে পণ্য বন্দরে পড়ে থেকে নিলামের ঝুঁকিতে পড়বে।’ 

​বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিএল ইস্যু হয় পণ্য রপ্তানিকারক দেশ থেকে। এখন কোনো চালানে ভুল ধরা পড়লে সেই তথ্য সংশ্লিষ্ট দেশে পাঠাতে হবে। সেখান থেকে সংশোধিত বিএল আসার পর তা আবার ব্যাংকের মাধ্যমে কাস্টমসে দাখিল করতে হবে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় ১০ থেকে ১৫ দিন বাড়তি সময়ের প্রয়োজন হতে পারে।

বন্দরে পণ্য পড়ে থাকার প্রতিটি দিনের জন্য আমদানিকারককে বড় অঙ্কের ‘ড্যামারেজ’ বা জরিমানা গুনতে হয়। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের দাবি, বিএল সংশোধনের এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে একজন আমদানিকারককে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা লোকসান দিতে হবে। এর ফলে বাজারে সংশ্লিষ্ট পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসে গড়ে ১০ থেকে ১১ দিন সময় লাগে। নতুন নিয়মের ফলে এই সময় যদি আরো বাড়ে, তবে ইয়ার্ডগুলোতে কনটেইনারের পাহাড় জমে যাবে। 

চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের কাস্টমস বিষয়ক সম্পাদক মোরশেদুল আলম বলেন, বিদেশের রপ্তানিকারককে বিএল সংশোধনের অনুরোধ পাঠালে তারা তা যাচাই-বাছাই করে পাঠাতে অনেক সময় নেয়। এই বাড়তি সময়ে বন্দরে পণ্যজট ভয়াবহ আকার ধারণ করবে, যা দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আপত্তি এলেও কাস্টমস কর্মকর্তারা বিষয়টিকে দেখছেন স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার মো. শরীফ আল আমিন বলেন, মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি রোধ এবং রাজস্ব ফাঁকি বন্ধ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।