সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
চট্টগ্রাম নগরের কালুরঘাট এলাকায় বকেয়া বেতনের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক শ্রমিকরা। শনিবার (২ মে) সকাল থেকে চান্দগাঁও-কালুরঘাট সড়ক অবরোধ করেন আজিম গ্রুপের সোয়েটার কারখানার শ্রমিকরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শনিবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নগরের সিঅ্যান্ডবি মোড়ে চান্দগাঁও-কালুরঘাট সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা। এ সময় বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন তারা।

পরে পুলিশ ও মালিক পক্ষের আশ্বাসের পর বিকেল সাড়ে ৪টার পর শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে যান। তবে বেতন না পেলে আবারও আন্দোলনে যাওয়ার হুমকি দেন তারা।
শিল্প পুলিশের চট্টগ্রাম জেলা এসপি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, পুলিশ, মালিকপক্ষ এবং শ্রমিক নেতাদের যৌথ বৈঠকে তিন দিন সময় নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শ্রমিকদের যাবতীয় বকেয়া পরিশোধ করা হবে।
চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন মামুন বলেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো শ্রমিকদের মধ্যে কোনো নেতাকে পাওয়া যায়নি। কয়েকজন সিদ্ধান্ত মানে তো অন্যরা বেঁকে বসেন। তার পরও দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তিন দিনের মধ্যে যাবতীয় বকেয়া পরিশোধের শর্তে তারা সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন। তাদের সবশেষ দাবি, তিন দিনের মধ্যে বকেয়া পরিশোধে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।
মালিকপক্ষের প্রতিনিধি, শ্রমিকদের একটি অংশ থানায় আসেন। লিখিত নিয়ে শ্রমিকরা আন্দোলন বন্ধ করেছেন।
শহিদুল ইসলাম নামের এক শ্রমিক বলেন, আমাদের চার মাসের বোনাস জমে আছে। চার বছর নাশতার টাকা পরিশোধ করা হয়নি। এ ছাড়া মার্চ মাসের বেতন সবাই পায়নি।
যে কয়েকজন পেয়েছে তাদেরকে দেওয়া হয়েছে ৩০ এপ্রিল। বাকিদের দুই মাসের বেতন বকেয়া। সামনে আসছে আরেকটা ঈদ। বোনাস পাব কিনা নিশ্চয়তা নেই, বেতনও অনিশ্চিত হওয়ায় আমরা বাধ্য হয়েছি রাস্তায় নামতে।
শহিদুল আরো বলেন, মালিকপক্ষ মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় চেয়ে নিয়েছে। এই সময়ে আমরা বকেয়া বেতন-বোনাস না পেলে আবারও মাঠে নামব।
হাজেরা বেগম নামের এক শ্রমিক বলেন, ২০২৫ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসের ওভারটাইম দেওয়া হয়নি। অনেকের ৬০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা বকেয়া। প্রতি মাসে বেতন দিতে দেরি করছে। আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে আছি। তিনি বলেন, আগামী ঈদে আমাদের বোনাস দিতে হবে এবং মে মাসের অর্ধেক বেতনও দিতে হবে।
এদিকে, শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের ফলে দুর্ভোগে পড়ে হাজারো যাত্রী। কাপ্তাই, রাউজান, হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী, মোহরা এলাকাগামী যানবাহন ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আটকে থাকে। নারী, শিশু ও রোগীদের দুর্ভোগ সীমাহীন। অনেকে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছায়।









