ধর্ম

ফেসবুক মেসেঞ্জারে কবুল বললে বিয়ে হয়ে যাবে কি?

নিউজ ডেস্ক২৬ এপ্রিল ২০২৬২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

ফেসবুক মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্য কোনো লিখিত বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে যদি কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় অথবা প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়, জবাবে ছেলে/ মেয়ে তিনবার ‘কবুল’ বলে তা গ্রহণ করে, তাহলে কি তাদের বিয়ে হয়ে যায়?

বর্তমান সময়ে অনেকেই প্রশ্ন করেন, অনলাইনে (যেমন মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপ) বিয়ের প্রস্তাব ও ‘কবুল’ বললে বিয়ে হয়ে যায় কি না। এ ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে জানা দরকার, শুধু লিখিতভাবে ইজাব (প্রস্তাব) ও কবুল (গ্রহণ) সম্পন্ন করলেই শরিয়তসম্মত বিয়ে সম্পন্ন হয় না।

বিয়ের জন্য মূল শর্ত হলো—পাত্র ও পাত্রী বা তাদের অনুমোদিত প্রতিনিধি একই বৈঠকে উপস্থিত থেকে ইজাব-কবুল সম্পন্ন করা। অনলাইন বা বার্তার মাধ্যমে এই ‘একই বৈঠকে উপস্থিতি’ নিশ্চিত হয় না। তাই এসব মাধ্যমে প্রস্তাব দেওয়া ও গ্রহণ করলেও তা শরিয়ত অনুযায়ী বৈধ বিয়ে হিসেবে গণ্য হয় না।

এছাড়াও বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য সাক্ষীর উপস্থিতি অপরিহার্য। ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, কমপক্ষে দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ অথবা একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী সাক্ষী থাকতে হবে। যদি এই শর্ত পূরণ না হয়, তাহলে সরাসরি মুখোমুখি ইজাব-কবুল হলেও বিয়ে শুদ্ধ হবে না।

এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

لَا نِكَاحَ إِلَّا بِوَلِيٍّ وَشَاهِدَيْ عَدْلٍ

‘অভিভাবক এবং দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী ছাড়া বিয়ে (শুদ্ধ) হয় না।’ (ইবনে হিব্বান)

তবে সাক্ষীর ক্ষেত্রে একটি বিষয় উল্লেখযোগ্য— দুইজন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে আলাদা করে সাক্ষী হিসেবে নির্ধারণ করাই বাধ্যতামূলক নয়। যদি কোনো বিয়ের আকদ এমন স্থানে সম্পন্ন হয় যেখানে অনেক মানুষ উপস্থিত থাকে, এবং তারা ইজাব-কবুল প্রত্যক্ষভাবে শুনতে পায়, তাহলে তাদের মধ্য থেকেই সাক্ষীর শর্ত পূরণ হয়ে যায়।

যেমন— মসজিদে বিয়ের আকদ হলে, সেখানে উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে যারা সাক্ষী হওয়ার যোগ্য এবং ইজাব-কবুল শুনেছে, তারা সবাই সাক্ষী হিসেবে গণ্য হবে।

সুতরাং, বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য শুধুমাত্র ‘কবুল’ বলা যথেষ্ট নয়; বরং নির্ধারিত শরয়ি শর্তসমূহ পূরণ হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।